তরুণরাই আগামী দিনে
গড়ে তুলবে একটি
সোনার বাংলাদেশ
অনেক বুকের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম একটি সুন্দর লাল সবুজের পতাকা। আর এই পতাকাকে চিনিয়ে আনতে আমাদের দেশের সোনার ছেলেরাই কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রেখেছিল। যেমন ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণঅভ্যুত্থান, এমনকি মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময় কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে তোলে ধরতে সচেষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যায় আজকের সেই রাজনৈতিক দল আমাদের তরুণদের ভবিষ্যত্ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলেদের দিয়ে নানামুখী কাজ করিয়ে দেশের রাজনৈতিক নেতারা তাদের কাজ হাসিল করছে। আর এতে করে আগামী দিনের ভবিষ্যত্ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এমনকি মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বুক থেকে। তাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে আগে তরুণদের প্রতি ভালবাসা রাখতে হবে এবং তরুণদেরই মনোবল, আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আগামী দিনের বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিশ্বের নামি দামি দেশের মধ্যে একটি। সুতরাং বলতে চাই রাজনৈতিক দলগুলো যদি তরুণদের খারাপ কাজে লিপ্ত না রেখে ভালো কাজের আহ্বান জানায় তাহলে তরুণরাই আগামী দিনের পথ নির্দেশনাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করি।
আশরাফ আহমেদ
শেষ বর্ষ, ইলেকট্রিক্যাল,
পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট অব সাইন্স এন্ড
টেকনোলজি, ময়মনসিংহ।
আগামী দিনে দেখতে চাই
স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত
আদর্শ গণতান্ত্রিক দেশ
নিজের কাছে বড়ই খারাপ লাগে যখন দেখি চিকিত্সার অভাবে রাস্তার ওপর অনাথ শিশুর মৃত্যু। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগে শত শ্রমিকের মৃত্যু। পর্যাপ্ত পরিবহন থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত যাত্রী উঠানোর দরুন লঞ্চডুবি এবং বাস উল্টানোতে মৃত্যুর হাহাকার। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর গুলিতে নির্দোষ মানুষের মৃত্যু। দুর্নীততে বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। আর যখন দেখি জাতি গড়ার কারিগর পিতৃতুল্য শিক্ষকের হাতে কন্যাতুল্য ছাত্রী ধর্ষিত। তখন ফেসবুকেও নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করি। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে জন্মগ্রহণ করা সত্ত্বেও কেন এমনটি হবে? যে দেশের মানুষের রয়েছে ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। রয়েছে বিশ্ব সেবায় নিয়োজিত শান্তিবাহিনী। রয়েছে ভাষা সাহিত্যে সমৃদ্ধ এক নবদিগন্তের সম্ভাবনা। সেদেশে কেন এমন হবে?
আসুন আমরা নিজেদের বদলাই। বদলে ফেলি আমাদের দেশকে। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরি এক অসাম্প্রদায়িক এবং স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত আদর্শ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে।
মো. শাহ আলম
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী,
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ,
ডক্টর মালিকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,
ধানমন্ডি ঢাকা ১২০৯।
আগামী দিনে সঠিক
নেতৃত্ব সৃষ্টিই বড়
চ্যালেঞ্জ
আজকের প্রজন্ম আগামী দিনের ভবিষ্যত্। এর মানে হচ্ছে আজকের প্রজন্ম ভবিষ্যতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পৌঁছাবে, দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমানে তরুণদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তারা বর্তমানে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নেশা, যৌনতা, অপসংস্কৃতি বেছে নিয়েছে, উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে তারা কুশিক্ষা, নোংরা, রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, নৈতিকতার অবক্ষয় দিন দিন বেড়ে চলেছে। যার ফলে দিন দিন মেধাশূন্য হয়ে পড়ছে দেশ ও জাতি। তবে এর জন্য দায়ী আমাদের দেশের ক্ষমতাসীন কিছু মানুষ। যারা তাদের কুস্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করছে আমাদের আশার আলো তরুণ প্রজন্মকে। সাময়িক কিছু ক্ষমতা, অর্থ ও প্রভাব-বৈভবের জন্য তারা অন্ধের মতো একের পর এক কুকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের জীবনের এই অবক্ষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে প্রভাবশালীরা গড়ছে সম্পদ-ক্ষমতার পাহাড়। তবে সত্যিকথা হলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের সাফল্যও রয়েছে বা হচ্ছে। তবে সেটা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় যেতে পারছে না। তাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়তে প্রথমে প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। যাদের হাত ধরে দেশ ও জাতি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। সেই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।
মুহা. রাশেদুল ইসলাম
অনার্স ১ম বর্ষ,
আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ,
ঝালকাঠী এন এস কামিল মাদ্রাসা,
নেছারাবাদ, ঝালকাঠী।
আমাদের দেশ রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল হবে
উজ্জ্বল সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। নানা প্রতিকূলতা এবং প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও এদেশের মানুষ আজ এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। কৃষকেরা তাদের সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রায় বছরই বাম্পার ফলন ঘরে তুলছে। আমাদের তৈরি পোশাক আজ রপ্তানি করা হচ্ছে সারাবিশ্বে। এ খাতটির সাফল্যের পেছনে তাকালে দেখবো হাজার হাজার কর্মীর নিরলস শ্রম আর প্রচেষ্টা, যাদের অধিকাংশই নারী। আজ এদেশের নারীরা ঘরের বাইরে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে শিক্ষার হার, বাড়ছে জনগণের মাথাপিছু আয় এবং গড় আয়ু। এতো কিছুর পরেও যে একটি জিনিসের কারণে আমাদের বারবার পেছনে ফিরে তাকাতে হচ্ছে, তার কারণ এদেশের রাজনীতি। অস্থিতিশীল রাজনীতির কারণে গোটা দেশ আজ বিপর্যস্ত, যা আমাদের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। এ সমস্যার সমাধান পেতে হলে আমাদের সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। এর জন্য প্রথমেই যা প্রয়োজন তাহলো জাতীয় ঐক্য। দেশ পরিচালনায় আমাদের ভিন্ন ভিন্ন মত থাকতে পারে; কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হতে হবে অভিন্ন। যে কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দলের ভালো কাজের পাশাপাশি কিছু ভুল সিদ্ধান্ত থাকাটাই স্বাভাবিক। আমাদের ঢালাওভাবে তাদের সমালোচনা না করে গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। বিরোধী দলের সংসদে উপস্থিত নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি আমেরিকার প্রধান নির্বাচন থেকে আমাদের কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই বিজয়ী বারাক ওবামাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিরোধী দলের প্রধান মিট রমনি তার সাফল্য কামনা করেন, তেমিন ওবামাও দেশ পরিচালনার ব্যাপারে রমনির সাথে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আর আমাদের দেশের নেতারা ঠিক তার উল্টো। তারা আমাদের সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকার উপদেশ দিলেও নিজেরা কখনো অপর কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপে বসতে রাজি হন না, বরং সব সময় একে অপরের সমালোচনায় লিপ্ত থাকেন। একটি দেশের উন্নয়নের জন্য সেই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যেহেতু সরকারের, তাই তাদের অবশ্যই অন্য দলগুলোর সাথে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করতে হবে, সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা থাকতে হবে ও সকল নেতার কথাবার্তায়, আচার-আচরণে আরও বেশি সংবেদনশীল এবং গণতান্ত্রিক হতে হবে। এর পাশাপাশি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করাটাও জরুরি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, গণতন্ত্র কখনো নিজে থেকে আসে না। সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমেই এর বিকাশ হয়।
শর্মিলা আকতার শীলা
এক্সিকিউটিভ এমবিএ (EMBA),
সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।
