কলা কেন খাবেন

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৩
ব্যানানা বা কলা ফল হিসেবে সেরা কেন এ নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের কলা বেশি খাওয়া উচিত নয়। কলার প্রধান উপাদান হচ্ছে সুগার। আর এই সুগার গঠিত গ্লুকোজ, ফ্রুকেটাস ও মুকরোজ-এর সমন্বয়ে। কলাকে বলা হয় শক্তির তাত্ক্ষণিক এবং দীর্ঘ মেয়াদী উত্স। ২২৫ গ্রাম ওজনের একটি কলায় রয়েছে অন্তত: ২ শত ক্যালরি খাদ্য শক্তি। কলাতে রয়েছে শূন্য কোলেস্টেরল, তাই হার্ট বান্ধব। কলার মধ্যে ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামিইনো এসিড রয়েছে যা কিনা খাওয়ার পর সেরোটিনে রূপান্তরিত হয়। ফলে যাদের মুড অফ তাদের মুড ভাল করতে পারে কলা। কলার উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম, সোডিয়াম ডায়রিয়া রোধ করে এবং কলার উচ্চমাত্রার ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কলাসহ যদি কেউ দৈনিক তাজা ফল খায় তাদের বয়সজনিত চোখের সমস্যা হয় কম। কলার মধ্যে থাকে ফ্রকটোওলিগো স্যাকারাইড যা অন্ত্রে প্রোবায়েটিক ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং এই ব্যাকটেরিয়া ক্যালসিয়াম শোষণ করে। ফলে অস্থি গঠনে উপকারে আসে। কিডনির ক্যান্সার প্রতিরোধেও কলার ভূমিকা কম নয়। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার-এ প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়, যারা প্রতিদিন হোল ফু্রটস বিশেষ করে কলা খান তাদের কিডনির ক্যান্সারের ঝুঁকি কম। গবেষণা তথ্যে কিডনি ক্যান্সার রোধে কলা, বাধাকপি ও রুট ভেজিটেবল আহার করতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এফডিএ দেশটিতে বেশি বেশি করে কলা উত্পাদনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে কলার উচ্চ পটাশিয়াম ও কম মাত্রার সোডিয়ামের সংমিশ্রণ থাকায় এটা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। এফডিএ এটাও বলেছেন, কলা উত্পাদনকারীরা যদি দাবি করে যে, কলা উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করে তবে অমূলক নয়। কলায় রয়েছে ‘ন্যাচারাল এন্টাসিড ইফেক্ট’। অর্থাত্ কলা হার্ট বার্ন বা এসিডিটি রোধ করে। এছাড়া কলার মধ্যে রয়েছে প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর যা পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া (হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি) নির্মূলে সহায়তা করে। এই ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় পাকস্থলীর আলসারের প্রাথমিক কারণ হিসেবে। কলার মধ্যে থাকা উচ্চমাত্রার বি ভিটামিন স্নায়ু সচল করে। তবে কলা মশক নিয়ন্ত্রণ না করলেও মশার কামড়ের পর চুলকানো ও লাল হয়ে যাওয়ার মাত্রা কমাতে পারে। কলার রয়েছে মানসিক অবসাদ কমানোর ক্ষমতাও। মানসিক অবসাদ থাকলে দ্রুত পটাশিয়াম লেভেল হ্রাস পায়। তবে কলা পটাশিয়ামের মাত্রা ড্রাগ ছাড়া স্বাভাবিক রেখে অবসাদ কমাতে সহায়তা করে। কলা নিয়ে সবচেয়ে ভালো খবর দিয়েছে ‘দ্যা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’। জার্নালে উল্লেখ করা হয়েছে যারা নিয়মিত কলা খায় তাদের স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তখরণজনিত মৃত্যুর হার শতকরা ৪০ ভাগ কম। এছাড়া কলা শিশুদের মস্তিষ্ক গঠন, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও মস্তিষ্ক শক্তি বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।