আগামী দিনের বাংলাদেশ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩৬
০০০ আগামীর বাংলাদেশ হবে এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও যতটুকু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন প্রয়োজন ছিল তা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্যোগ, দুর্নীতি, জনসংখ্যার বিশালতাসহ বিভিন্ন কারণ। তবুও অপার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের। রাজনৈতিক দলগুলোর সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে জনগণের অধিকার আদায়, অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা গেলে পরিপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। আমাদের প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা এগুলোর যথাযথ ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের রয়েছে বিশাল জনসংখ্যা এই জনসংখ্যাকে যদি জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায় তাহলে অর্থনীতিতে আসবে বিপ্লব। আমাদের গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর যথাযথ ব্যবহার করতে না পারায় প্রতি বছর বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে সার ও জ্বালানি আমদানি করতে হয়। যার পেছনে বৈদেশিক মুদ্রার এক বিশালাংশ ব্যয় হয়। বাংলাদেশের শ্রমবাজারও অনেক সস্তা। পৃথিবীর অন্য দেশের তুলনায় অনেক কম মূল্যে শ্রমিক পাওয়া যায়। তাই এখানে শিল্প কারখানা গড়ে উঠার বিশাল সুযোগ রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হলে বিদেশি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। আমাদের অর্থনৈতিক শক্তির বিশাল অংশ আসে কৃষি থেকে। কৃষি খাতে সরকারের সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন ও কৃষি নির্ভর শিল্পের বিস্তার ঘটানোর মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করা সম্ভব। এগুলো ছাড়াও আরো অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এসকল সম্ভাবনাগুলোকে স্থিতিশীল পরিবেশ ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে আমদানি নির্ভরশীলতা কমালেই অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে উদিত হবে বাংলাদেশ। এনায়েত উল¬াহ্ রাজনীতি বিজ্ঞান, ২য় বর্ষ; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০ আগামীদিনের জন্য চাই একজন যোগ্য নেতা একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। আমরা জানি, বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের আয়তন অতিক্ষুদ্র এবং দরিদ্র দেশ হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু এটাও সত্য যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ বিশ্বের কাছে ঈর্ষণীয় । একটি দেশকে উন্নত করতে হলে যে জিনিসগুলো দরকার তার মধ্যে অন্যতম হলো-জনসংখ্যা,প্রাকৃতিক সম্পদ,শিক্ষা ব্যবস্থা, নদ-নদী বা সমুদ্র এবং আবাদী জমি যার সবগুলোই এই সোনার বাংলাতে রয়েছে, তাইতো বহির্বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে । বাংলাদেশে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সমপদ এবং জনসংখ্যা রয়েছে যদি এগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার করা হয় তাহলে খুব কম সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব । যদি আমরা চিন্তা করি, যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ (তেল,গ্যাস,কয়লা ও চুনাপাথর) রয়েছে, যে দেশে হাজার হাজার একর জমিতে চাষাবাদ করা হয়, যে দেশের সমুদ্র থেকে ইলিশ ও চিংড়ি মাছ পাওয়া যায় এবং যে দেশের তৈরি পোশাক বিশ্বের দরবারে জনপ্রিয় সে দেশ কখনোই দরিদ্র থাকতে পারে না । কিন্তু প্রশ্ন কেন আজ বাংলাদেশের এ অবস্থা? তবে এর জন্য আমি একমাত্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই দায়ী করবো, কেননা যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তারা শুধু নিজেদের স্বার্থে কাজ করে যায়,তারা কখনোই দেশকে নিয়ে ভাবে না বা দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে না । মো. রওশন আলম আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ (স্নাতকোত্তর), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। ০০০ সব দলই স্বার্থবাজ, দেশের জন্য কাজ করার মানুষের খুব অভাব বাংলাদেশ সম্পদে ভরা এক অভিশপ্ত নরক। এটা আমার কথা নয় কোন এক সময় এই বাংলা ঘুরে এক বিদেশি এই মন্তব্য করেছিল। এই দেশের মাটিতে কি হয় না একবার ভেবে দেখুন। যা বীজ বপন করা হয় তাই বৃক্ষে, ফলে রূপ নেয়। এমন মাটি কয়টি দেশে আছে। এই দেশে যে কোন শিল্প কারখানা খুবই লাভজনক। এই দেশের শ্রমিক খরচ খুবই কম। এই দেশের মাটির নিচে খনিজ সম্পদও কিন্ত কম নেই। আমাদের খনিজ সম্পদগুলো আমরা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলে আমরা আর্থিকভাবে সফল হতাম। আমাদের যা সম্পদ আছে তার যথাযথ ব্যবহার করা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশের যারা ক্ষমতায় আসে তারা এই সম্পদ কিভাবে যথাযথ ব্যবহার করা যায় তা না ভেবে কিভাবে তারা আগামীতে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে তা নিয়ে ভাবে। দেশের যে কোন সম্পদের বিনিময়ে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাজী তাই নির্বাচনের আগের নির্বাচনের ব্যয়ের অর্থ যোগান দিতে বিদেশিদের কাছে চুক্তি করে আমরা ক্ষমতায় গেলে আপনাদের এই সম্পদ দিব। এই পর্যন্ত দেশের কত সম্পদ শুধু তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ব্যয় করছে তা বলে শেষ করা যাবে না। বাবা আর স্বামীর দোহাই দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুঁজি করে এই দেশ তারা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার আগে এই দেশ ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিরা শাসন করেছিল। আর স্বাধীনতার পর দুইটি দল এই দেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিরা যেমন শুধু নিজ স্বার্থে এই দেশ শাসন করেছিল ঠিক তেমনি স্বাধীন এই দেশ আজ দখল করে রেখেছে দুইটি রাজনৈতিক দল। তারা দাবি করে তারা নাকি এই দেশ স্বাধীন করেছে তাই এই দেশ তাদের। কিন্তু যে ছয়জন বীরশ্রেষ্ঠ জীবন দিয়েছে, যে মা-বোনেরা ইজ্জত দিয়েছে, যে নববধূ তার স্বামীকে যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছিল, যে মায়ের কোল খালি হল একাত্তরে তাদের দেশ কোনটা স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও খুঁজে পেলাম না। খুঁজে পায়নি হয়তো আমার মত আরো অনেকে। এখনও খুঁজে ফিরে স্বাধীন বাংলাদেশ। পুরো দেশকে আমরা রাজধানী কেন্দ্রিক করে রেখেছি। সরকারি একটি কাজের যে পাইল কিংবা সরকারি কোন চাকরির ইন্টাভিউর জন্য আমাদের ঢাকা যেতে হয় ফলে ঢাকায় বাড়ছে জনগণের চাপ। প্রতিটি জেলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষ করার জন্য ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এম সাবউদ্দিন রাসেদ বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, (চতুর্থ সেমিস্টার) ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ এশিয়া, ঢাকা। ০০০ চাইলে বাংলাদেশও হতে পারে বিশ্বের রোল মডেল স্বাধীনতার ৪২ বছর চলছে। এখনো নানা সমস্যায় জর্জরিত আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমি। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আমাদের। কিন্তু এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আজ হয়তো বহিঃশত্রুর থেকে আমরা মুক্ত কিন্তু দরিদ্রতা, নৈতিক অবক্ষয়, নষ্ট সমাজ ব্যবস্থা হতে এখনো মুক্ত হতে পারিনি। অগাধ সম্ভাবনাময় এ দেশটিতে দরকার উন্নয়ন করার সদিচ্ছাসম্পন্ন এক নেতৃত্বের। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এই সুন্দর দেশে রয়েছে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা। শুধুমাত্র পর্যটন শিল্পকেই গুরুত্ব দিলে প্রতি বছর কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। আমাদের দেশে রয়েছে দক্ষ জনশক্তি। এ জনশক্তিকে ঠিকমত কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। রয়েছে পোশাক শিল্পের গভীর সম্ভাবনা। এখনো বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রফতানি করে সব চেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। এতো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশ কেন পারছে না এর বাস্তবায়ন করতে? হয়তো সবার কাছে এই প্রশ্নটা জাগতে পারে। উত্তর একটাই। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তাহীনতার অভাব, সর্বোপরি মানুষগুলোর নৈতিকতার অভাব। আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশ নিয়ে অনেক স্বপ্ন থাকলেও আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা আমাদের এই স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। পরিবর্তন করতে হবে আমাদের মানসিকতা, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। দূর করতে হবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, উন্নয়ন করতে হবে যোগাযোগ ব্যবস্থার। তবেই আমাদের এ বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে অন্যতম রোল মডেল হয়ে উঠবে। আমাদের দেশ হবে উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে গর্বিত একটি দেশ। সনেট দেব বি.এস.এস. (সম্মান) ৩য় বষর্, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন