আমাদের দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক— প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংকট ও ভয়াবহ অবস্থা বিদ্যমান। স্বাধীনতার পর ৪১টি বছর আমরা পার করে দিয়েছি। কিন্তু কোথায় সেই স্বাধীনতার সত্যিকারের মূল্যায়ন? আমরা ভেবেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, লক্ষ্য, চেতনা সমাজ ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। অথচ সরকারের সময় একের পর এক ঘটনা ঘটে সহিংসতায় রূপ নেয়। হামলা, ভাঙচুর ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগসহ বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ আজ মামুলি ব্যাপার। হরতালের নামে সৃষ্টি করা হয় অরাজক পরিস্থিতির। সাধারণ মানুষের আজ কোনো কিছুতেই স্বস্তি নেই। ভেজাল খাবার খাচ্ছি, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, রাহাজানি, গার্মেন্টসশিল্পে আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে নিরীহ শ্রমিক। ফ্লাইওভারের গার্ডার ও বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটছে। অনিয়ম দুর্নীতির কারণেই আজ এসব হচ্ছে। রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও একই অবস্থা। রাজনীতিতে মেরুকরণ শব্দটি বাদ দিতে হবে। সব দল বসে আলোচনায় এসে সমস্যা সমাধান করাই হচ্ছে উত্তম পন্থা। তা না হলে দেশ আরো ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী,
নোয়াখালী।
দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চরম নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। দেশ এখন সবক্ষেত্রে বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উপসানলায়গুলোতে আগুন লাগানোর মত ন্যক্কারজনক কাজ সংঘটিত হয়েছে। শিশু পরাগ মণ্ডলকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণের মত ঘটনা ঘটেছে। অতিসম্প্রতি তাজরীন ফ্যাশন লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১০ জন শ্রমিকেরও বেশি পুড়ে অঙ্গার হয়েছে। চট্টগ্রামে বদ্দারহাটে ফ্লাইওভার গার্ডার ভেঙে ১৪ জন সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটেছে। বিভিন্ন সময় দেশে গুম, হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নেই। প্রতিনিয়তই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিরাজ করছে। শীতকালীন সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। কোন সবজি ৪০/৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। সবজির বাজার সিন্ডিকেশন হয়েছে বলে আমি মনে করি। গত মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতাল দেখে রীতিমতো হতবাক হয়েছি। জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের শিকার হয়েছে গোটা দেশ। শিবির কর্মীরা হঠাত্ হঠাত্ হামলা চালিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে বোমাবাজি করেছে। শিবির কর্মীদের তাণ্ডবের শিকার হয়ে বহু যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে; আহত হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বহু সদস্য। পদ্মাসেতুর দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন দুদক সদস্যরা। তারা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনসহ ৯ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলা করার প্রস্তাব করেছেন। এভাবে কোন স্বাধীন দেশ চলতে পারে না। গণতান্ত্রিক দেশে কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। সরকারের উচিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তা না হলে আগামী দিনগুলোতে সরকারকে আরো ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে।
মো. লিটন গাজী
দক্ষিণ টেংরা, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা-১২০৫।
আমাদের রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে, সামাজিক অবক্ষয়ে ঘটেছে অর্থনীতিতে স্থবিরতা। তাহলে কোন পর্যায়ে আমরা আছি। বেকারত্ব বেড়েছে, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানি, দুর্নীতি— সবই বেড়েছে। কোনোটারই কমতি নেই আমাদের। আসলে আমরা বদলাইনি। শুধু ৪১ বছর আগে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেই পতাকার মর্যাদা আমরা রাখতে পারিনি। সম্মান রাখিনি বীর শহীদদের অমর কাহিনীর। দেশের পরিবহন ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল বেড়েছে। মানুষের মধ্যে বিবেক লোপ পেয়েছে, মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা কমেছে, শ্রদ্ধা বোধ লোপ পেয়েছে, বড়দের সম্মান করে না অনেকে। সুতরাং কোনো কিছুতেই কোনো উন্নতি হয়নি এই ৪১ বছরে।
মো. শওকত আলী শাহীন
ডি ও এইচ এস, মহাখালী।
স্বাধীনতার ৪১ বছর পরেও সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি এটাই সত্য। আমাদের এখন অনেক কিছুতেই সাফল্য আছে ও ব্যর্থতাও আছে। এই সাফল্য আর ব্যর্থতা মিলে কী হয়েছে, সেটা দেখতে হবে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনীতি —এই তিনটি পথ শুদ্ধ করতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে ঐক্য।
মোজাহারুল ইসলাম, সাভার, ঢাকা।
স্বাধীনতার ৪১ বছর পরেও আমাদের সামাজিক ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনো বাল্যবিবাহ, মোল্লাদের ফতোয়া, হিল্লা প্রথা, দোররা মারা ও সমাজপ্রতিদের এহেন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই সমাজচ্যুত হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। অপরদিকে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জাতি আজ দিশেহারা। একদল ক্ষমতাসীন হয়েছে ঐ স্বৈরশাসকের কাঁধে ভর দিয়ে, আর অপর দল ক্ষমতা যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে জোট বেঁধে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সুশীল সমাজ তথা তৃতীয় শক্তি রাজনৈতিক ময়দানে প্রবেশ করা মাত্রই উভয় দলের নেতা-কর্মীরা ঐ প্রগতিশীল দলকে হয় সুদখোর না হয় ক্ষমতা লিপ্সা বলে অপবাদ দিয়ে বিতাড়িত করছে। এতে করে গণতন্ত্রের লেবাসে থাকা বড় দলগুলিতেই কোনো গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকার বিষয়টি জাতি আজ উপলব্ধি করছে। আবার এদিকে শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, যুবক, হল-মার্ক ও ব্যাংক কেলেংকারিতে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। অপর দিকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের দুর্নীতির কারণেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থ ছাড় স্থগিত করাতে ১২০ কোটি ডলারের বাজেট এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে নির্মাণ ব্যয় বাড়ার জন্য তা বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩২০ কোটি ডলার। এই বিশাল ঘাটতির জন্য আমাদের জাতীয় অর্থনীতি এখন কোন পর্যায়ে তা ্ব ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।
মিরাজুল ইসলাম মাহির, রিকাবী বাজার, মুন্সীগঞ্জ।
দেশে বিদ্যমান সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যে চিত্রের করুণ অবস্থা, তা দেখে আজ আমরা হতবাক না হয়ে পারছি না। প্রতিটি ক্ষেত্রে চলছে সংকট যা আমাদের জন্য দুঃখজনক? ডেসটিনি, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি, হল-মার্ক, ব্যাংক, দুর্নীতির মহাকেলেংকারির জন্য কে দায়ী তা হলে।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহিদ উল্লাহ
মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ। দিনের পর দিন কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক বহু কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি হচ্ছে। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে অনেক শর্ত পূরণের মধ্যে দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার হয়ে উঠতে হবে। সরকারকে কাজ করতে হয় জনগণের জন্য, নৈতিক রীতিনীতি মেনে চলা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। সমাজ যখন নৈতিকতা থেকে দূরে সরে যায়, বন্ধন শিথিল হয়, তখন সামাজিক রীতিনীতিকে দূরে সরিয়ে রাখার একটা প্রবণতা দেখা দেয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আচরণে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে সমাজের মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ জন্ম নেয়। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের শর্ত কতটা মেনে চলছে এমন প্রশ্ন করা যেতে পারে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলকে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে ধরা হয়। বিরোধী দল ছায়া সরকারের ভূমিকা পালন করে। কিন্তু শুধু গত ৪ বছর নয় দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখতে পাই, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। দেশ পরিচালনায় বিরোধী দল ও সরকারের যে যোজন যোজন ফারাক, তা থেকে দেশ ও দেশের জনগণের মঙ্গল নিশ্চিত করা যায় না। তাই আমরা চাই সরকার ও বিরোধী দল নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে আলোচনায় বসে আগামী নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থাসহ সব সমস্যার সমাধান করবে।
দেলোয়ার হোসেন দেলু
নিউ খানপুর, নারায়ণগঞ্জ।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ দম বন্ধ হওয়ার মত। সরকারি দতল, প্রধান বিরোধী দল ধমকের সুরে একে অপরকে কথা বলে। সরকারি দল বলে আগামী নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনে করতে বিরোধী দল বাধ্য হবে। বিরোধী দল বলছে নির্বাচন করতে দেয়া হবে না, প্রতিহত করবে। তা হলে সমাধান কোথায়? আমরা কি আবারও দুই নেত্রীর ব্যর্থতায় ১/১১-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? আমার সহজ প্রস্তাব হলো দুই নেত্রীকে দিয়ে আমাদের দেশ চলবে না। তাছাড়া ওনাদের বয়স হয়েছে। ওনারা দু’জন অবসরে গিয়ে নতুন নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন। আমাদের দয়া করে মুক্তি দিন। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলে অনেক মেধাবী ও যোগ্য লোক রয়েছে। দয়া করে দুই নেত্রীকে আমাদের জন্য আর কষ্ট করার দরকার নেই। বিনয়ের সাথে বলছি ওনারা দুজন যেন অবসরে যাওয়ার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন, এই অনুরোধ জানাই।
মো. আবু সুফিয়ান
২২৩/সি, খিলগাঁও, ঢাকা- ১২১৯।
দেশের সকল ক্ষেত্রই বিশৃঙ্খলার জালে আটকে পড়েছে। আটকে পড়ার প্রথম ও প্রধান কারণ হলো, সকল ক্ষেত্রে রাজনীতিকীকরণ। সামাজিক নিবিড় বন্ধন শিথিল হয়ে পড়েছে। রাজনীতির কূটকৌশলে, সামাজিক দায়বদ্ধতাও তিরোহিত হয়ে পড়েছে। একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা নির্বাসনে যাওয়ায় পারিবারিক ও সামাজিক শাসন দায়সারা অবস্থায় পৌঁছেছে। ঈর্ষা, বিদ্বেষ ও সহিংসতার আদর্শে পুষ্ট রাজনীতি রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রেই অবক্ষয়ের সৃষ্টি করেছে। সমাজ ও অর্থনীতিতে তার বিরূপ প্রভাব পড়ায় দেশের সকল ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার অভাব দেখা দিয়েছে। রাজনীতি এখন সকল প্রাপ্তির তাত্ক্ষণিক নিশ্চয়তা দিচ্ছে বিধায় নগদ প্রাপ্তির আশায় জনগণের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যক্তির স্বার্থ সংরক্ষণের ম্যারাথন দৌড়। রাজনীতির এই মন্দ শিক্ষায় দেশপ্রেম এখন হাবুডুবু খাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ প্রেম, দেশসেবা শেষাবধি মঙ্গল গ্রহে খুঁজতে হবে।সামাজিক ও রাজনীতির মূল্যবোধের অবক্ষয়ের ক্রন্তিকালে, অর্থনৈতিক অবস্থা তথৈবচ হয়ে চিড়েচ্যাপটা হয়ে পড়েছে। কৃষিনির্ভর দেশে কৃষি বিপণন ব্যবস্থা টাউট-ট্যান্ডলদের হাতে জিম্মি হওয়ায়, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকরা এখন আর মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না। পিটে খেলে পিঠে সয়- এ বাস্তবতা এখন কৃষকের ঠোঁটে এক চিলতে হাসি হয়েও উঁকি দিচ্ছে না। এ যখন অবস্থা, তখন আমাদের অভিমত হলো, দিন থাকতে, সামাজিক, রাজনীতি ও অর্থনীতির বিশৃংখলা রোধে একট্টা হয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে, অন্তত দেশটাকে ভালবেসে।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর।
কথা বলতে দ্বিধা নেই যে, দেশের পচনশীল রাজনীতির সাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার পচন ধরেছে। এর সবচে বড় প্রমাণ হচ্ছে দেশের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিয়ন্ত্রণহীন বাজারব্যবস্থা, কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি, অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে অর্থনীতি আজ পর্যুদস্ত। দেশের বড় অর্থনৈতিক খাতটি এখন কালো থাবার কবলে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের আয়ের উপর। তাই দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে আমাদের উঠে আসতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সরকারসহ সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দ এবং দেশের সব স্তরের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা এবং সদিচ্ছার বহির্প্রকাশ।
শাহ্ মো. হেলাল উদ্দিন হিরু
কালিহাতি, টাঙ্গাইল।
রাজনৈতিকভাবে বলতে গেলে দুই নেতা দেশ চালাচ্ছে। তারা নৈতিকভাবে অধঃপতনে চলে গেছে। তাদের আর দেখতে চাই না।
মো. আবদুর রশিদ, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থা অস্থির, হতাশাব্যঞ্জক। সাধারণ মানুষের মনে আতংক বিরাজ করছে। দেশে কী যেন হয়। রাজপথে চলছে জনতা ও পুলিশের যুদ্ধ। চলছে হত্যা, গুম, খুন। সামরিক অবক্ষয়ে ভাসছে আমাদের সোনার দেশ। বেকারত্বের ফলে দেশে চুরি, ডাকাতি বাড়ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য দুই নেত্রীই দায়ী। তাই তাদের ঐকমত্যে পৌঁছুতে হতে হবে। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সংলাপ। দেশের মানুষ চায় শান্তি। কামনা করে রাজনৈতিক দলগুলো দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করুক।
মনজু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা।
অসত্ রাজনীতিবিদদের প্রতিহিংসাপরায়ণ ও লুটতরাজের রাজনীতি তথা অসত্ ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদদের অতি মুনাফা এবং লোভ-লালসা যতদিন পর্যন্ত না উপরওয়ালার পক্ষ থেকে গজব নেমে আসবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই তিন ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি নিয়ে হাহুতাস করা ছাড়া আর করার কিছুই থাকবে না। লাখো শহীদের লাল রক্ত আর মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পাকিস্তানি শাসন খতম হলো। স্বাধীন বাংলার শাসন এলো। কিন্তু আফসোস অসত্ রাজনীতির কারণে সবকিছু কি ভেস্তে গেলো? আর কিছু পাই আর না পাই; আমরা এখন সত্ মানুষ আর সত্ শাসন চাই।
মো. লুত্ফর রহমান, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা।
দেশ আজ বিপর্যয়ের মুখে। দেশে নির্বাচন হবে- বড়ই সুখবর। দু’নেত্রীর জন্য না হলেও জনগণের জন্য তো নির্বাচন আবশ্যক। দু’নেত্রী যদি মনে করেন আমরা জনগণের তাহলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে সমস্যা কোথায়? আমাদের রাজনীতি হয়ে পড়েছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। অস্থিরতার রাজনীতি। এই অস্থিরতার জন্যই অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে।
মো. আবু দাউদ, চথর, বোয়ালমারি, ফরিদপুর।
স্বাধীনতার ৪১ বছর পরেও দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে জনমত চাওয়া হয়। ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করে নিজেদের উপর। আসলে এ অবস্থার জন্য দায়ী এদেশের রাষ্ট্রীয় স্বেচ্ছাচার। এ দেশীয় কালচার এরকম হয়েছে যে, নির্বাচনে পরাজিত হলেই সংসদ বর্জন, বিরোধিতার খাতিরে অকারণেই সরকারের সমালোচনা করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা। আবার সরকার প্রধানও প্রতিপক্ষকে শুধু বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেই ক্ষান্ত হন না তাকে দুর্নীতিবাজ ও চোরের মা বলে গালি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। তারা সুযোগ পেয়েও সেনাকুঞ্জের একই সামিয়ানার নিচে বসে কেউ কারোর সাথে সাক্ষাত্ বা কুশল বিনিময় করেননি। আগামী জাতীয় নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার পদ্ধতি ও দেশের বিদ্যমান সমস্যাবলী নিয়ে উভয় নেত্রীকে আলোচনা করতে বাধ্য করতে হবে। তবেই দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
মাহেরু ইসলাম জেসিকা
রাম গোপালপুর, রিকাবী বাজার, মুন্সীগঞ্জ।
সাধারণ মানুষ ভালো নেই। জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংক কেলেংকারি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, ছিনতাই, রাহাজানিসহ অন্যান্য অপরাধ বেড়ে গেছে। মানুষের হাত এখন শূন্য। মধ্যবিত্ত পরিবার কোনভাবে বেঁচে আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও সামাজিকভাবে নানা সমস্যা। সবমিলে এখন আমরা দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছি।
পারভীন সুলতানা বিউটি, আরানপুর, ঝিনাইদহ।
দেশে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে করে দেশের মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। নানা সংকটে আজ দেশ। পদ্মা সেতু দুর্নীতির ষড়যন্ত্র, গার্মেন্টসশিল্পে আগুন, ডেসটিনি, হলমার্ক ও ব্যাংক কেলেংকারিতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার উপক্রম। এ থেকে পরিত্রাণ কবে পাবে দেশের মানুষ- সেটাই এখন জানার বিষয়।
মোস্তানসিরুন, ধানমন্ডি, ঢাকা।
বাংলাদেশের জনগণ জঙ্গি ও দুর্নীতির দুর্নাম ঘুচিয়ে যখন অর্থনৈতিক মুক্তির আশায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে এবং বর্তমান সরকার বৈদেশিক অর্থনীতি অর্জন করছে তখন এদেশে অবস্থানরত দেশবিরোধীরা অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে হরতালের মধ্যে দিয়ে। সে সাথে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা আবারও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাচ্ছে। যেমনটি করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়। তারা এখন ক্ষমতায় না থেকেও এদেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোন কাজই করছে না। বরং জনগণের অর্থ সম্পদ লুট করে পথে বসিয়ে ভিখারি রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বাংলা ভাই আর গুণ্ডা বাহিনী দিয়ে সামাজিকভাবে জনগণকে হেনস্তা করেছিল সর্বোপরি তাদের শাসনামলে যারা দেশে জনজীবন দুর্বিষহ ছিল। বর্তমান সরকার জনগণের জন্য সামাজিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা নির্মূল করছে তখন আবার যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে থাকা মূলত বিএনপি জামায়াতকে দিয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে জনগণকে অশান্তিতে ভোগাচ্ছে। বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে কোন অপরাধী দেশে-বিদেশে পানি ঘোলা না করতে পারে সেজন্য অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা দূর করা সম্ভব।
ফারুক আহমেদ, রাজশাহী।
আমি সব বড় রাজনৈতিক দলের কাছে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপট থেকে যে সহিংসতা, সেখান থেকে কি আমরা বের হয়ে আসতে পারি না? পুুলিশ মারছে যারা হরতাল করছে আবার পুলিশকে পিটাচ্ছে হরতালকারীরা । কেমন হানাহানির মধ্যে পড়ে গেলাম আমরা। এ থেকে কি কোন মুক্তি নেই?
মোতাহারুল ইসলাম,
১৩/১৭, শান্তিনগর বাজার রোড, ঢাকা-১২১৭।
সংঘাত সহিংসতা সৃষ্টি করে সেখান থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে যাওয়ার মধ্যে কোন শুভ বুদ্ধির পরিচয় নেই বলে আমরা মনে করি। তাই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থা এখন মোটেই শুভ নেই। সুতরাং আমাদের সরকার প্রধানদের উচিত বিষয়টিকে জরুরিভাবে দেখা।
মাসুম আহাম্মদ, যাত্রাবাড়ী।
ডিসেম্বর মাস আমাদের বিজয়ের মাস। তবে যে শুধু বিজয়ের মাস তা নয়। এ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ মাসে হরতাল ডাকা ও তাতে সমর্থন দেয়া জনস্বার্থের পরিপন্থি কাজ।
কাউসার আকন্দ, মতিঝিল, ঢাকা।
দেশে বর্তমান বিদ্যমান সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা করুণ ও ভয়ংকর। একদিকে সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থা এই তিন নিয়ে দেশ আজ মহাসংকটে। মানবতা বিরোধীদের মুক্তির ব্যাপারে জামায়াতের কর্মকাণ্ডে গোটা দেশবাসী আতংকিত। এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও তাদের ভীতিকর কর্মসূচির কারণে দেশে আবারো ১/১১ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশবাসী শান্তি চায় এবং সুস্থ রাজনীতির মাধ্যমে গণতন্ত্র টিকিয়ে থাকা সম্ভব। রাজনীতিতে সহিংসতার জন্য আমাদের রাজনীতিকরাই দায়ী। এই অবস্থা থেকে দেশবাসী পরিত্রাণ পেতে চায়।
মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী, ১৭ গেন্ডারিয়া, ঢাকা-১২০৪।
সামাজিক অস্থিরতার মূলে রয়েছে এদেশের আমজনতার অজ্ঞতা ও অসচেতনতা; কারণ তারাই কিছু টাকার বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধী রাজাকার (আমিনী-সাঈদী-নিজামী), দুর্নীতিবাজ ও ব্যবসায়ী প্রার্থীদের লক্ষ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়ী করছে বার বার। পক্ষান্তরে নির্বাচনী চাঁদ রাতে কালো টাকা না ছিটানোতে জননেত্রী শেখ হাসিনা, ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীকেও পরাজয়বরণ করতে হয়েছে। যা প্রতিহত করতে প্রগতিশীলদের নেতৃত্বে আকাশ ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ প্রতিটি লোকালয়ে প্রজেক্টর ক্যামেরার মাধ্যমে গণসচেতনতামূলক ছবি প্রদর্শন করে আবাল-বৃদ্ধ-জনতাকে সচেতন করে তুলতে হবে সর্বাগ্রে। আবার রাজনৈতিক অস্থিরতার মূলে রয়েছে সরকারের অদুরদর্শিতা ও স্বেচ্ছাচারিতা। ৩ ডিসেম্বর যদি জামায়াতকে সমাবেশ করতে দেয়া হতো তাহলে ওরা হয়তো কমপক্ষে ৫০০০ লোকের সমাগম ঘটাতো। কিন্তু এর প্রতিবাদে ৪ ডিসেম্বর সারাদেশে হরতাল পালন করে দেশের ১৫ কোটি মানুষসহ সারাবিশ্বেই জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তি দাবি তুলে দেশব্যাপী তাণ্ডবলীলায় ওরা জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়া হতো পারেনি এবং অফিসগামী শ্রমজীবীরা তাদের কর্মস্থলে যেতে না পারায় দেশের জনজীবন ছিল স্থবির। শত শত গাড়ি ভাঙচুর ও চোরাগোপ্তা হামলায় পুলিশসহ নিরীহ পথচারী হতাহত কারণে অর্থনৈতিক যে ক্ষতি হয়েছে এর দ্বায়ভার কার উপর বর্তাবে? অপরদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্প ব্যয় ছিল মাত্র ১২০ কোটি ডলার। কিন্তু সৈয়দ আবুল হোসেনসহ অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিশ্বব্যাংক। তখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আবুল হোসেনের মত দেশপ্রেমিক তৃতীয়টি নেই বলে সাফাই গাওয়ায় দুদকও তাকে নির্দোষের সার্টিফিকেট দিয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের অর্থায়ন স্থগিত করে বিশ্বব্যাংকের সাথে যৌথ তদন্তে এখন সেই আবুল হোসেন গংদের নামেই মামলা করছে দুদক। ততক্ষণে পদ্মা সেতু প্রকল্প ব্যয়ে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। যা দিয়ে হয়তো আরো ২টি পদ্মা সেতু করা যেতো। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে জাতির ঋণের বোঝা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বিপর্যস্ততার দায়ে মহাজোট সরকার কি এড়াতে পারবে?
এমনিতেই শেয়ারবাজার, হলমার্ক, যুবক, ডেসটিনি ও ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে চরম দুর্বল করে ফেলেছে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি। এর সাথে জড়িত আসলে কারা? আমরা তা জানতে চাই। এই অবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চাই।
কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, মুন্সীগঞ্জ ।
দেশজুড়ে জামায়াত শিবিরের হামলা হয়েছে গত হরতালে। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলা, নির্বাচন অনুষ্ঠান, সমাবেশে বাধা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তারা হরতাল ডাকে। এতে সহিংসতার সাধারণ মানুষকে আতংকিত করে তোলে। দেশের মানুষ এরকম দৃশ্য দেখতে চায় না। মানুষ চায় স্থিতি। বর্তমান সরকার যখন অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তখনই যুদ্ধাপরাধীরা এগিয়ে যাচ্ছে দেশকে ধ্বংস করার জন্য। তবে এ থেকে মানুষ মুক্তি চায়।
আবদুল মালেক মিঞা, মিরপুর, ঢাকা।
দেশে গত ২৮ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নয়াপল্টনে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। আন্দোলন ও কর্মসূচি দিয়েছেন। আমাদের মত দরিদ্রতম দেশে এরকম বিরোধী দল যদি কর্মসূচি দেন তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ ভোগান্তি ছাড়া কিছুই পাবে না। আমি মনে করি দুই নেত্রীর এক সাথে বসা উচিত। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া আমেরিকার নির্বাচন থেকে আমাদের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। হেরে গিয়ে একে অন্যকে শুভেচ্ছাসহ স্বাগত জানিয়েছে। নিজেদের পরিবর্তন হতে হবে। নিজেদেরকে বদলাতে হবে। গণতন্ত্র কখনো এমনি আসে না। সেটার জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ভালোবাসা।
সৈয়দা নাসরিন সুলতানা
স্যানি সাইড নিউইয়র্ক, আমেরিকা।
সারাদেশে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক অস্থিরতা বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা আমাদের মাঝে এক ধরনের অশনিসংকেতের ইঙ্গিত বয়ে নিয়ে এসেছে। এই অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার যেন বেরিয়ে আসতে পারে সেই দোয়া করি। কারণ রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি গোলমেলে থাকলে দেশের সাধারণ মানুষ খুবই অশান্তিতে নিপতিত হয়, তাই আশা করব, এ সকল সমস্যা কাটিয়ে উঠে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবো।
বুলু তালুকদার
কাশিমপুর, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যে অবস্থা বর্তমানে চলছে এতে মনে হচ্ছে দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। দেশের এই দুরবস্থার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোই দায়ী। রাজনৈতিক দলগুলো সংযত না হলে দেশে সামাজিক, অর্থনৈতিক সমস্যা আরো প্রকট হয়ে দাঁড়াবে।
আশা এলিজাবেত গোমেজ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০।
দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক যে অবস্থা বিরাজ করছে সে অবস্থাতে আমাদের মতামত হলো দু’নেত্রীর একত্রে বসে মীমাংসা হওয়া অতিজরুরি। নচেত্ এই সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।
এ আর খান, ডিএইচ ও এস, মহাখালী।
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে জনগণের আবেগ-অনুভূতি, আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব- যদি দেশের প্রধান প্রধান রাজনীতি ব্যক্তিরা তাদের সুষ্ঠু রাজনীতি পরিচালনার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন। এই বিজয়ের মাসে দুই নেত্রী একসঙ্গে বসুন এবং যত সমস্যা সেগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দূর করুন।
নীলুফা আক্তার, টোলারবাগ, মিরপুর-১, ঢাকা।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে চায়। অর্থনীতি উন্নয়নের জন্য পরিশ্রম করতে চায় দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। কিন্তু দেশের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক অধঃপতনের কারণে বিশেষ করে প্রধান দু’দলের বিবদমান রাজনৈতিক কোন্দলে দেশ আজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। পরমতসহিষ্ণুতা এবং নিম্নমানের রাজনীতিক বক্তৃতার কারণে জনগণের শ্রদ্ধা ও আস্থা হারাচ্ছে তারা।
সুফিয়া রহমান, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭।
আমাদের দেশ একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনার দেশ। কিন্তু আজ নানা কারণে দেশ বিপর্যস্ত। তার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অন্যতম। দেশের দুই প্রধান নেত্রী দুই মেরু থেকে সরে এসে যতক্ষণ কী না এক মেরুতে আসবেন ততক্ষণ পর্যন্ত দেশে শান্তি স্বস্তি ও সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকে সু-বাতাস বইবে না। কাজেই তাদেরকে আগে একই মঞ্চে বসাতে হবে। সামাজিক অবস্থার পিছনে মূলত কাজ করে আইনের শাসন। তার জন্য প্রয়োজন আইনের নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রয়োগ। বর্তমানে যা অনেকটাই অনুপস্থিত। যার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটেছে চলেছে গুম, হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, আত্মহত্যা ও ধর্ষণসহ আরো অসংখ্য অনৈতিক-কার্যকলাপ। বর্তমানে সবচেয়ে নষ্ট সময় অতিবাহিত হচ্ছে। খোদ দু’নেত্রী জনসভা ও নানা অনুষ্ঠানে যে শব্দ ব্যবহার করছেন তা শুনে দেশের মানুষ বিস্মিত। অবশ্য এদিক থেকে সরকার দলীয় লোক বেশী এগিয়ে। সরকারের উচিত অগণতান্ত্রিক পথ পরিহার করে গণতান্ত্রিক পথ সৃষ্টি করা। তাতে অন্তত এ সংঘাতময় রাজনীতি থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো। ব্যাংকিং খাত হলো অর্থনীতির জীবন কাঠি। এ ক্ষেত্রে কোন কেলেংকারি বা অনিয়ম ঘটলে বিনিয়োগ, ব্যবসা বাণিজ্য, সব খাতেই তার বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য। বর্তমানে হলমার্ক কেলেংকারি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হল মার্কের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টার কথা বলছেন। কিন্তু যাদের যোগসাজসে এতোবড় কেলেংকারি হলো তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হলো না। বর্তমানে আইএনএফ ঋণ সহায়তার ব্যাপার যে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। এ ঋণ বাংলাদেশের সমিষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে । কিন্তু ঋণের কিস্তির ছাড় পেতে যে সকল শর্ত মানতে হবে তা খতিয়ে দেখতে হবে।
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন
নারচী, সারিয়াকান্দি, বগুড়া।
বর্তমানে বাংলাদেশ সংকটময় অবস্থা চলছে। সমস্ত দেশেই অরাজকতা। সরকারের স্বৈরাচারনীতিতে দেশের কোটি কোটি মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। সারা দেশে সামাজিক অস্থিরতা। শিল্প কারখানা আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। দেশ চলবে কী করে।
সাইফুল ইসলাম তানভীর, মোড়লগঞ্জ, বাগেরহাট।
সৈয়দ আবুল হোসেনের কারণে আবারও আটকে গেল পদ্মা সেতু। হরতাল পালনের নামে গত মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা হামলা, গাড়ি অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরসহ সহিংসতা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্বল হয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনীতির অবস্থা। আমাদের দেশে অসুস্থ রাজনীতি চর্চা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক অবক্ষয় বেড়েছে বেশী। আত্মমর্যাদাকে বিসর্জন দিয়েছি আমরা।
এস, কে, মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন, সাভার, ঢাকা।
স্বাধীনতার ৪১ বছর পর সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রথমেই বলতে চাই যে দেশের কৃষক দিন দিন কংকালসার হতো, ধুকে ধুকে বিনা চিকিত্সায় মরতো এখন সে অবস্থা আর নেই। কৃষক এখন আমার দেশের জাতীয় বীর হিসাবে পরিচিত। উত্পাদনের সাথে জড়িত বলেই আমরা এখন খেয়ে পরে ভাল আছি খাদ্যশস্য উত্পাদনে রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য আছে। কৃষক কৃষাণি শ্রমিক এরা সবাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর গ্রামে বসে সাদা কালো অথবা রঙিন টেলিভিশন দেখে। এটা একটা বড় পরিবর্তন। তবে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করে সবাই যে ভাল আছে তা বলা যাবে না। কেউ কেউ তার সর্বশেষ ভিটে মাটিটুকু পর্যন্ত ইতিমধ্যে হারিয়ে। যা বড়ই দুঃখজনক। দেশের রাস্তাঘাটের তেমন উন্নতি হয়নি। তবে এক্ষেত্রে ব্যাপক বাজেট বরাদ্দ হলে জনগণ অনেকখানি উপকৃত হবে বলে মনে করি। লেখাপড়া ও চিকিত্সা খরচ এতটা বেড়েছে যে, স্বল্প আয়ের মানুষ যারপর নাই কষ্টে আছে। তারপর দ্রব্যের দাম আকাশচুম্বি। গ্যাস-বিদ্যুত্ দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন। বিদেশ থেকে যে রেমিটেন্স আসছে তাকে উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা জরুরি বলে মনে করি। রাজনীতির জন্য আমাদের দেশের বড় বড় দলগুলোর মনোভাব বড়ই একরোখা। ফলে জনগণের কল্যাণের যে রাজনীতি সে রাজনীতি আমরা দেখতে পাই না। আমরা চাই সকল রাজনীতিই জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে। হরতাল অবরোধ জনগণের কল্যাণ বয়ে আনে না। গ্রামের হতদরিদ্র মানুষগুলোর উন্নয়নের জন্য রাজনীতির নতুন কমিটমেন্ট দরকার।
ওয়াহিদ মুরাদ, নেছারাবাদ, পিরোজপুর।
সমাজ ব্যবস্থায় নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে। রাজনীতি ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উপাদান হয়ে পড়ছে। অর্থনীতি সম্ভাবনাময়, তবে পুঁজিবাদি অর্থব্যবস্থা দারিদ্র্যকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মো. ফকরুল ইসলাম টিপু, সেনবাগ, নোয়াখালী।
সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ঐক্য ও সহনশীলতা। আলোচনাতেই সমাধান হবে আমাদের জাতীয় সমস্যাবলী।
আনাস বিন মনির,
নুরপুর, মিরকাদিম, মুন্সিগঞ্জ।
