০০০
সমালোচনা আর দলাদলি নয়
ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ রক্ষায়
এগিয়ে আসুন
বর্তমানে রাজনীতির যে অবস্থা তাতে আগামীদিনের বাংলাদেশ আরো ভয়াবহ হবে মনে হয়। একদল ক্ষমতায় গেলে বিরোধী দল তাদের মঙ্গল কামনা করেন না । সরকার যদি যেকোন কাজ করতে যায় বিরোধী দল বাধা সৃষ্টি করে । তারা বাধা সৃষ্টি না করে যদি কোন পরামর্শ দেয় তাহলে দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব। বর্তমনে বিরোধী দল যে হরতাল ,মিছিল, আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এটা তো দেশের জন্য ভালো নয়। এই আন্দোলন কর্মসূচি বাদ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করুন। অতএব আন্দোলন নয়, সন্ত্রাসী নয়, চাঁদা বাজি নয়,গুম অপহরণ নয়,মারামারি নয়,হিংসা নয়, এসব বাদ দিয়ে দেশের স্বার্থে ,জাতির স্বার্থে,সমাজের কল্যাণের স্বার্থে,ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে আগামীদিনের বাংলাদেশ হবে বিশ্বের সেরা বাংলাদেশ।
ছাত্র/ ছাত্রীদের জন্য আমি ছাত্র ভাইদেরকে বলব আগামীদিনের বাংলাদেশ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই বলে— বই পড়ো, দেশ গড়ো। বর্তমানে দেখতে পাই বই পড়ো, সন্ত্রাসী করো— এই কথাটি কেন আসবে। আমি ছাত্র ভাইদেরকে বলি তোমাদের কেনো এতো দুর্নাম। এটি মুছে ফেলে তোমরাই আগামীদিনের বাংলাদেশকে পারবে সুন্দর করতে , তোমরা মারামারি ,কাটাকাটি ,হানাহানি, ইত্যাদি, না করে সবাই যদি ভাই ভাই এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামীদিনের কথা ভাবো তাহলে তোমাদের দ্বারা সম্ভব আগামীদিনের বাংলাদেশকে সুন্দর করে গড়ে তোলা ।
মো. মোহাসিন মান্নান
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
২য় বর্ষ , মিরপুর, ঢাকা।
০০০
একজন সত্ নেতাই পারে আগামীর দেশকে সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে
নেতৃত্ব হলো একটি বিশেষ ধরনের ভূমিকা ও গুণাবলীর সমষ্টি। এটি প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আজকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল নানা সমস্যা, জটিলতায় পরিপূর্ণ। তাই দেশের স্বার্থ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সঠিকভাবে রক্ষা করতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন সফল নেতৃত্বের। নেতৃত্ব হলো একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনসাধারণকে অনুপ্রাণিত করার কাজ। নেতৃত্বের মূল কথা হলো-যেসব বিরল গুণের সমন্বয়ে একজন নেতার সৃষ্টি হয় আর সেটাকেই বলা হয় নেতৃত্ব। সফল নেতৃত্ব দ্বারা প্রত্যেকটি দেশের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। সত্যিকার অর্থে এই নেতৃত্বের সাফল্য নির্ভর করে সঠিক নেতৃত্বের সত্ গুণাবলীর ওপর। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো সঠিক নেতৃত্বের। একজন নেতাকে সঠিক নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করতে তার মাঝে থাকতে হবে ব্যক্তিত্ববোধ, দেশের ও দলের প্রতি দায়িত্ববোধ, ধৈর্যশীলতা, নমনীয়তা, চারিত্রিক ন্যায়পরায়ণতা, মানসিক পরিপক্বতা, অন্যকে বুঝানোর ক্ষমতা, সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা, অনুসন্ধানী মন ইত্যাদি। অর্থাত্ দক্ষ নেতৃত্বের বিকাশ ও একজন সত্ নেতাই পারে আগামীর দেশকে সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে।
নাজমা আক্তার
এম.এ. (শেষ বর্ষ),
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, গাজীপুর।
০০০
তরুণরাই সোনার বাংলা
গড়ার নেতৃত্ব দেবে
আমাদের লাল-সবুজের পতাকায় মিশে আছে লাখো শহীদের রক্তের দাগ। কবি রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ “বাতাসে লাশের গন্ধ” কবিতায় ’৭১-এ মা-বোনদের হূদয় বিদারক, লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে লিখেছেন- “ ধর্ষিতার কাতর চিত্কার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভিতরে/ এদেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?/------ ধর্ষিতা বোনের শাড়ি ঐ আমার রক্তাক্ত জাতির পতাকা।” অনেক কন্টকাকীর্ণ পিচ্ছিল বন্ধুর পথ পেরিয়ে বাংলার আকাশে মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা ঝাপটানোয় অর্জন করেছি অধিকার। এক বুক আশা নিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৪১ বছর পর আমরা কি পেলাম? হিংসা-বিদ্বেষ? রেষারেষী? প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকাগুলো খুলেই খুন, ধর্ষণ, আহাজারি ও রাহাজানির হূদয় বিদারক দৃশ্য দেখার অধিকার? যার উত্তর খুঁজতে গিয়ে জাতির বিবেকবান প্রতিটি মানুষ আজ স্তম্ভিত। আরো সবচেয়ে ভাববার বিষয় হলো যে- আমরা আমাদের জাতীয় ইস্যুগুলোতে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারছি না। বর্তমানে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিরাজ করছে এক চরম অনিশ্চয়তা। এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে গোটা জাতির জন্য সামনে অপেক্ষা করছে এক বিভীষিকাময় অন্ধকার। আমাদের দেশের রাজনীতি এতোই নোংরা পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যে সশস্ত্র বাহিনী আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার, স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে সোনালী হরফে লিখিত রয়েছে যাদের সাফল্যগাথা সেই সশস্ত্রবাহিনী দিবসেও এক নেত্রী আরেক নেত্রীর সাক্ষাত্ এড়িয়ে যান। এ কেমন রাজনীতি? দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি গোটা জাতিকেই ভাবিয়ে তুলেছে। নির্বাচন বিষয়ে জটিলতা দূর করে সমঝোতায় পৌঁছার এখনই উপযুক্ত সময়। শুধু নির্বাচন-ই নয় দেশের সকল জাতীয় ইস্যুতেই গোটা জাতিকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। ’৭১-এর চেতনায় বলীয়ান হয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে আমাদের উদীয়মান তরুণ সমাজকে। এবং লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোন ক্রমেই শহীদের রক্তের অবমূল্যায়ন না হয়। অন্যথায় নাস্তানাবুদ হয়ে যেতে পারে জাতির অস্তিত্ব।
মাকসুদুল হাসান (রিয়াদ)
একাদশ শ্রেণী; বিজ্ঞান বিভাগ
শাখা-ক; রোল- ২৫৫’
আনন্দ মোহন কলেজ।
০০০
সুষ্ঠু নেতৃত্ব ছাড়া একটি দেশ কখনোই উন্নয়নের মুখ
দেখতে পারে না
আগামী দিনের বাংলাদেশ বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে অপার সম্ভাবনা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এদেশের ভবিষ্যত্ এগিয়ে যাচ্ছে নেতৃত্বহীন অন্ধকারের দিকে। কাণ্ডারিহীন একটি জাহাজ যেমন বিশাল সমুদ্রে ঘুরপাক খায়, এদেশের ভবিষ্যত্ যেন তারই প্রতিচ্ছবি। সুষ্ঠু নেতৃত্ব ছাড়া একটি দেশ কখনোই উন্নয়নের মুখ দেখতে পারে না। নীতিহীন নেতাগণ আর অনৈতিক নেতৃত্ব, এটাই বাংলাদেশের মূল বিকলাঙ্গতা। একটি রাষ্ট্রের নেতা মানে রাষ্ট্রের জনগণের সকল চাহিদা পূরণের ভার তার উপরই ন্যস্ত। অথচ আমাদের দলীয়, বিরোধী দলীয় নেতারা নিজেদের চাহিদাই পূরণ করে জনগণের অর্থে। কোন দেশকে সম্ভাবনার মুখ দেখতে হলে প্রয়োজন সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণ নেতৃত্ব। যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আষাঢ়ে গল্প। আমাদের নেতারা বিশ্বাস করেন মারমুখী নেতৃত্বে। এক দল আরেক দলের বিরুদ্ধে হরতাল, মিছিল, অবরোধ দিয়ে দেশের ১২টা বাজাচ্ছে। কিন্তু তা নিয়ে কোন দলেরই মাথাব্যথা নেই। এর উপর আবার আছে চাটুকারিতা। দেশ রসাতলে যাক কিন্তু আমার খাতির ঠিক থাক। তাই সবাই আপন উদরপূর্তি নিয়ে ব্যস্ত। নীতির ঘাড়ে দুর্নীতি নামক একটি ঘাতক ক্যান্সার চড়ে বসেছে। যা দিনে দিনে ছড়িয়ে পড়ছে এবং পচন ধরাচ্ছে নৈতিকতায় আর নষ্ট করছে মূল্যবোধ। দৃষ্টান্তস্বরূপ লিবিয়া ও মিসরের কথা উপস্থাপন করা যায়। সবার যৌথ আন্দোলনে লিবিয়াবাসী জালিম শাসক কর্ণেল মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উচ্ছেদ করতে পেরেছিলেন। মিসরীয়রা নির্বাচন করেছেন উপযুক্ত নেতা। তাই আমাদের শুরু করতে হবে শুরু থেকে। আগে এই জালিয়াত ও শোষক নেতাদের উচ্ছেদ করে যথাযথ শাস্তি প্রদান করতে হবে এবং নির্ধারণ করতে হবে এদেশের উপযুক্ত পাঞ্জেরী। তখনই বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাগুলো বাস্তবিক রূপ নিবে।
কানিজ ফাতিমা
১২শ শ্রেণী (ফলাফল প্রাপ্ত)
ব্যবসায় শিক্ষা শাখা,
অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ।
