সুন্দর দেশ গড়তে চাই
সকলের সহযোগিতা
‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’। জীবনানন্দ দাশ দেশ দেখে আর পৃথিবীর রূপ খুঁজতে চাননি। সেই বাংলাদেশের রূপ কি আছে আগের মতো? আমি যে বাংলাদেশ দেখতে চাই তার সুন্দর চেহারায় এসিড মারছি বন-জঙ্গল উজাড় করে। এর শরীরে বিষের ইনজেকশন দিচ্ছি দুর্নীতি করে। সম্ভ্রম কেড়ে নিচ্ছি নারী নির্যাতন করে। এমন একটি বাংলাদেশ আমি দেখতে চাই যেখানে থাকবে না কোন জাতিগত ভেদাভেদ। যেখানে ভাঙ্গা হবে না কোন বৌদ্ধ মন্দির, যেখানে আগুন লাগানো হবে না গার্মেন্টস কারখানায়। যে দেশে লিমনের মতো আর কাউকে পা হারাতে হবে না র্যাবের গুলিতে। দেশের মেয়েদের থাকবে না ইভটিজিং-এর ভয়। এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে আমাদের একটু সচেতন হতে হবে। একটু আত্মসমালোচক হতে হবে। প্রতিটা ব্যক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে। শিখতে হবে নীতির শিক্ষা। আর এই শিক্ষাই যদি আমরা একটু বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করি তাহলেই সম্ভব এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে।
আতাউল গনি ওসমানী,
উর্দু বিভাগ, ২য় বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
----
যোগ্য নেতৃত্বের বলিষ্ঠ পদক্ষেপই হবে সুন্দর
আগামীর সোপান
‘বাংলাদেশ’। যা অর্জন করতে লেগেছে দীর্ঘ নয়টি মাস, বিসর্জন দিতে হয়েছে ৩০ লক্ষ তাজা প্রাণ, বহু মা-বোনের ইজ্জত। হাঁটি হাঁটি পা পা করে স্বাধীনতার ৪১ বছরে পদার্পণ করেছে দেশ। এ দীর্ঘ সময়ে দেশটির ঝুলিতে রয়েছে অনেক অর্জন, অনেক হারানোর বেদনা, রয়েছে প্রত্যাশা পূরণের হাতছানি। রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে দেশটি এগোচ্ছে সম্মুখপানে। পক্ষান্তরে নিয়মিত ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। একের পর এক জন্ম নিচ্ছে বিতর্কিত বিষয়। আর এক্ষেত্রে দায়ী কারণসমূহের মধ্যে অন্যতম রাজনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা। রাজনীতি এখন রূপ নিয়েছে ‘দলীয় নীতিতে’। আর তা প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের আমলেই বিদ্যমান। তবে কিছু রাজনীতিবিদ আছেন যারা তাদের আদর্শের জায়গাতে অবিচল। তবে তাদের সংখ্যা নেহাতই কম। এরূপ বিরূপ পরিস্থিতি ও প্রতিকূল অবস্থার মাঝেও আশা জাগায় বাংলা মায়ের কৃতী সন্তানদের সাফল্য। যখন নোবেল অর্জন করে বিশ্বের কাছে আমাদের দেশকে পরিচয় করিয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করে, যখন ক্রিকেট বিশ্বে একের পর এক সাফল্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, এভারেস্টের সর্বোচ্চ শিখরে আমার দেশের পতাকা পতপত করে উড়ে বিশ্ববাসীকে জানান দেয় আমরা বীরের জাতি, জয়ের নেশায় উন্মত্ত আমাদের মন আর আমরা এক সময় বিশ্ব জয় করবোই। এ সাফল্য ও বীরত্ব আমাদের অতীত ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয় ৫২, ৬২, ৬৯, ৭১ প্রভৃতি আন্দোলনে, সংগ্রামে দেশের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসে জয়ী হবার কথা। আর এ অতীত বিজয়কে অনুপ্রেরণা হিসেবে পুঁজি করে, বর্তমান কৃতিত্বের উপর ভর করে, ভবিষ্যত্ সফলতা অর্জনই হবে আমাদের কাজ।
সব বিভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সমাজকে কলুষিত, পাপ, পঙ্কিলতার কালিমামুক্ত এক পরিচ্ছিন্ন সমাজে পরিণত করতে হবে। যে সমাজে একের পর এক জন্ম নেবে সত্, যোগ্য ও আদর্শ নেতৃত্ব। যে নেতৃত্ব হবে জনগণের, সাধারণ মানুষের জন্য অন্তঃপ্রাণ। তবেই আমরা জাতি হিসেবে স্পর্শ করতে পারব উন্নতির সর্বোচ্চ মাইলফলক এবং উপহার দিতে পারব সুন্দর আগামী।
ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী (সজীব),
অনার্স ১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
---
সুখী সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশই
হবে আগামীদিনের
বাংলাদেশ
বাংলাদেশ হচ্ছে একটি উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নের ছোঁয়া লেগে যাচ্ছে সমাজের প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে। কিন্তু উন্নত দেশে রূপান্তর এখনো হয়নি বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক সমস্যা থেকে শুরু করে বেকারত্ব নানান ধরনের সমস্যা লেগেই আছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আটকে আছে দেশ। যে পরিমাণ বেকার জনগণ রয়েছে তাদের শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। বেকারত্ব নামের অভিশাপটুকু যেন না থাকে এই দেশে। বর্তমানে রাজনৈতিক সমস্যাও প্রবল আকার ধারণ করেছে। হরতাল, মিছিল, ভাংচুর ইত্যাদি সমাজের কোন কল্যাণ বয়ে আনে না, বরং ক্ষতিরই বাহক। বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো পারে কেবল এসব রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে আমরা পদার্পণ করেছি স্বাধীনতার ৪১ বছরে। এই স্বাধীন দেশে চাই না কোন অরাজকতা। স্বাধীন দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই আমরা। আর আমাদের এই বাংলাদেশকে দেখতে চাই সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, জনগণ তথা সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার মাধ্যমেই দেশের পরিপূর্ণ সমৃদ্ধি সম্ভব।
সুলতানা আনজুমান
অনার্স, ৩য় বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ,
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।
-----
বাংলাদেশ কি আদৌ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারবে?
বাংলাদেশ একটি স্বল্প আয়ের দেশ। আমরা যদি এই দেশে কতগুলো ব্যক্তিকে নির্বাচন করি, যারা বর্তমানে রাজনীতি নিয়ে কথা বলে, রাজনৈতিক দলগুলোর কথা বলে। এবং যে সরকার আসুক না কেন তারা নিজের স্বার্থ হাসিল করে। বাংলাদেশকে আরো বেশি অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তারাই। আগে নিজেকে পুরোপুরি নীতিবান হতে হবে, তারপর কাছাকাছি মানুষকে নীতিবান হতে বলবে। মানুষের সমালোচনা করা বর্তমান রাজনৈতিক নেতাদের শ্রেষ্ঠ চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সমালোচনা নয়, মানুষের ভুলগুলো কোথায়, কিভাবে সমাধান করা সম্ভব তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা শ্রেষ্ঠ মানবিক কাজ।
প্রদীপ চন্দ্র রায়,
পরিসংখ্যান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
-------
আজও বাংলাদেশের মানুষ স্বপ্ন দেখে আরেকটি বিজয়ের
প্রত্যেক জাতিরই একটা স্বপ্ন থাকে, যে স্বপ্নকে তারা বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য সকল বাধার প্রাচীরকে ভেঙ্গে-চুরে দেয়ার জন্য চেষ্টা করে এবং দিতে পারে, সেই জাতির ভবিষ্যত্ সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়। বাঙালি জাতি তেমনি একটা জাতি। যারা স্বপ্ন দেখেছিল ’৪৭, ’৫২ আর ’৭১ এবং সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য পরিত্যাগ করতে হয়েছিল অনেকগুলো জীবন, দিতে হয়েছিল অনেক শ্রম, হারাতে হয়েছিল অনেক মেধা, সম্পদ এবং মূল্যবান মা-বোনের ইজ্জত। যার ফলে সাহসিকতার সাথে সফলতা অর্জন করতে পেরেছে বাঙালি জাতি। কিন্তু এই সফলতা বর্তমানে ধরে রাখা দায়। আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক শিক্ষার পরেই ঝরে পড়ে। কিন্তু তাদের যদি অতিরিক্ত বিষয় হিসাবে শারীরিক শিক্ষা না হয়ে যে কোন কারিগরি শিক্ষা হতো তা হলে বেকার সমস্যা থাকত কী? তাছাড়া আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমরা তরুণদের মূল্যবোধ শিক্ষা দিতে পারছি না। যার ফলে তারা ডিগ্রি নিয়েও অজ্ঞ থেকে যায়। আমাদের মানুষ গড়ার কারখানাগুলোতে সৃষ্টি করছি দুর্নীতি নামক এক জঘন্য অধ্যায়ের। যার বাস্তবিক প্রয়োগ তারা ঘটাচ্ছে পরিবর্তী জীবনে। যার ফলে স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও বাংলাদেশে আশানুরূপ পরিবর্তন ঘটেনি। অথচ বিভিন্ন মনীষী, বিজ্ঞজন বাংলাদেশে সবুজ-শ্যামল এই মাটির দেশে অফুরন্ত সম্ভাবনা দেখতে পান।
আমাদের জনসংখ্যাকে অভিশাপ থেকে আশীর্বাদে রূপান্তর করতে হলে আরেকটি বিজয় আনতে হবে। যে বিজয়ের ফলে বাংলাদেশ লাভ করতে পারবে সমৃদ্ধশীল, শিক্ষিত ও উন্নত একটি স্বাধীন দেশ। এর জন্য আরেকবার গর্জন করে জেগে উঠতে হবে। তবেই সম্ভব।
মো. তাজুল ইসলাম ফাহিম,
নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ,
দ্বাদশ শ্রেণী, বিপুলায়ার, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা।
