ব্যক্তি মানসিকতার উন্নতি একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতি
রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের জনসাধারণ আরো ভালো থাকবে আশায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ শ্রেণী-বৈষম্য ভুলে এক কাতারে এসে মরণপণ লড়াই করে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা করে বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্থান করে নেয়। যার জন্যে ঝরেছিল অনেক অনেক তাজা প্রাণ। বিনিময়ে চাওয়া ছিল শুধু দেশ ও দেশের মানুষের উন্নতি এবং অগ্রগতি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে বাঙালি বীরের জাতি হিসেবে পরিচয় পেলেও দেশের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সেই বীরত্ব দেখাতে পারেনি শুধুমাত্র ব্যক্তি মানসিকতার উন্নয়ন হয়নি বলে। যদিও আজ বাংলাদেশ শিল্প, চিকিত্সা জনশক্তি রপ্তানি দারিদ্র্যের হার হ্রাসকরণ ইত্যাদি কিছু কিছু খাতে কিছুটা উন্নতি করলেও আশানুরূপ বা চাহিদানুরূপ অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। আগামীদিনের বাংলাদেশ কিরূপ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বলবো—আগামীদিনের বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে উন্নত রাষ্ট্রের মডেল হতে পারে— যদি দেশের সকল স্তর থেকে দুর্নীতি, সুদ-ঘুষ, অপচয়-অপব্যয়, আত্মসাত্, স্বজনপ্রীতি ভোজননীতি, খাদ্যে ভেজাল, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসত্ উপায়ে উপার্জন ইত্যাদি সকল ন্যক্কারজনক কর্ম দূর করতে পারে। যার জন্য সবার আগে প্রয়োজন ব্যক্তিজীবনে নৈতিক চরিত্রের উন্নতি এবং ঈমানের অগ্রগতি। তবেই হবে ব্যক্তি মানসিকতার উন্নতি এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতি। যা প্রতিটি মানুষেরই কাম্য।
শামীম সুলতানা
এলএল, এম,
অতীশ দিপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
পান্থপথ,ঢাকা।
আগামীদিনের বাংলাদেশে হবে ফরমালিনমুক্ত রাজনীতি
আগামীদিনের বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে আমাদের জন্য অপরিহার্য হলো সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ ও ফরমালিনমুক্ত রাজনীতি। আসলে আমরা যদি সবাই মিলেমিশে সুষ্ঠু রাজনীতি করি তাহলে দেখা যাবে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের সোনার বাংলাদেশ পেতে বেশি সময় লাগবে না। আমাদের ছাত্র-রাজনীতিবিদদের যদি আমরা সঠিক পথে পরিচালিত করি তাহলে এ দেশ হবে অন্যদেশের জন্য মডেলস্বরূপ। ছাত্রদের আমরা যার যার স্বার্থে ব্যবহার না করে যদি দেশের জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করি তাহলে আমাদের সোনার বাংলাদেশ শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। ভাল কাজের জন্য যদি আমরা ছাত্রদের মূল্যায়ন করি তাহলে ছাত্রদের গতি আরো বৃদ্ধি পাবে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। দেশের শান্তির জন্য বর্জন করতে হবে প্রতিহিংসার রাজনীতি, লোভী মনোভাব। রাজনৈতিক ব্যবস্থা করতে হবে সঠিক ব্যবস্থা। সঠিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োগ করলে আর যেকোনো পাঁচটি উন্নত দেশের মত বাংলাদেশ খুব তাড়াতাড়ি উন্নত হয়ে উঠবে। আর তখনই পাবো একটি সোনার দেশ। যে দেশে সঠিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। সঠিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার ফলে একটি দেশকে অপকর্মমুক্ত দেশ হিসেবে পাওয়া যায়। আমরাও করলে ঠিক তাই পাবো। তখনই আমরা গর্ব করে বলতে পারবো বাংলাদেশ আমাদের দেশ। চলুন আমরা সবাই এগিয়ে যাই। আমাদের বাংলাদেশ সঠিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োগ করলে সবল দেশে পরিণত হবে।
সাহিদা আক্তার তানিয়া
শ্রেণী-৮ম, রোল-০১,
ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ভোলা।
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই সুস্থ ধারার রাজনীতি
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি সুস্থ ধারার রাজনীতি বিদ্যমান থাকে, তাদের উদ্দেশ্য যদি থাকে রাষ্ট্রের উন্নয়ন করা তবে সেই সরকার কাজ করবে জনগণের কল্যাণের জন্য। রাষ্ট্রের সকল কার্যাবলি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সরকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী সকল পরিকল্পনা সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে। আর তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন শাসন বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। অবশ্য স্বল্পস্থায়ী সরকার পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিপন্থী। এজন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে দেখা যায় একই সরকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসীন হয়। এতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। সকল শিল্প-কারখানা পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। ঢাকাকেন্দ্রিক শিল্প-কারখানা কমিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে স্থানান্তর করতে হবে। এতে যেমন শ্রমিকের সহজলভ্য হবে তেমনি ঢাকার উপর অতিরিক্ত চাপ কমবে। ঢাকা শহরের যানজট অনেকটা লাঘব হবে। গ্রামের অনেক অসহায় হতদরিদ্র মানুষ ঢাকায় এসে কাজ করার সুযোগ পায় না। তারা যদি হাতের কাছে নিজ এলাকায় কাজ করার সুযোগ পায় তবে বিশাল বেকারত্ব ও নির্ভরতা অনেকটা হ্রাস পাবে। এতে যেমন আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে তেমনি দেশ শিল্প ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ হবে। তা হলেই সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামীদিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
মো. আমিনুল ইসলাম
২য় বর্ষ, উর্দু বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
টেকসই উন্নয়নই
জাতির লক্ষ্য
বাংলাদেশকে ঘিরে আমি এক নব আশার স্বপ্ন দেখি। সভ্যতা আমার চেতনায় প্রগতি ও মানবতার সমন্বিত রূপ। সারাবিশ্ব প্রগতির পথে এগিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সত্যিকারভাবে সে কতখানি মানুষ হয়ে উঠতে পারবে সে বিষয়ে জোর দিয়ে কিছু বলা কঠিন। আমার একান্ত কামনা- বাংলাদেশও যেন এই সাধনায় সমানতালে চলতে পারে। তবে একথা সবার জানা দরকার যে, কামনা ও বাস্তবতা এক নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি উন্নয়নশীল দেশ হলেও অপার সম্ভাবনা বিদ্যমান রয়েছে। সত্যিকার দেশপ্রেমিককে দেশের হাল ধরতে হবে। যে দেশের জন্য কাজ করবে, দেশের খেটে-খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করবে- এমন লোকের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন একটি অবস্থায় পৌঁছেছে যে কোথাও কোন আশার আলো মিলছে না। দেশের প্রধান দু’দলের থাবায় পুরো জাতি বিস্মিত। জাতি কি এটাই আশা করে? উত্তরে অবশ্যই না শব্দটা যোগ হবে। সত্যিকার মন-মানসিকতা নিয়ে, দেশের জন্য কাজ করার প্রবণতা নিয়ে কেউ যদি হাল ধরে তবে বাংলাদেশকে আর পেছনে তাকাতে হবে না। তখন বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন একটি বাংলাদেশ দেখার জন্য আমরা কি স্বপ্ন বুনতে পারি?
আকাশ আহমেদ (জারসা)
অনার্স ১ম বর্ষ,
সমাজবিজ্ঞান শিক্ষার্থী,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,
কুষ্টিয়া।
