জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তা তারা কেবল অব্যাহতই রেখেছে এমনটিও নয়। বরঞ্চ তাদের সন্ত্রাসের মরিয়া অভিযানকে তারা আরো প্রসারিত করছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্য, পুলিশের যানবাহন, সরকারি স্থাপনা, মন্ত্রীর গাড়িবহরে আক্রমণের ধারা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার তারা সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি-র যানবাহনেও আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের এই সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলার কাজকে এগিয়ে নিতে তারা আর কোন্ নতুন নতুন ক্ষেত্র বেছে নিবে তা দেখার বিষয়। সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলাবাজির কারণে জামায়াত শিবির সাধারণ মানুষ কর্তৃক ধিক্কৃত হলেও এবং আক্রান্তের প্রতি মানুষের যে স্বাভাবিক সহানুভূতি থাকে তার পরিবর্তে জনগণ থেকে ক্রমে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে থাকলেও তারা তাদের সন্ত্রাসী তাণ্ডব থেকে সরে আসছে না। আসলে তারা তা থেকে সরে আসতে পারছে না। কারণ জনগণ থেকে তারা যতো বিচ্ছিন্ন হচ্ছে ততো বেশি করে তাদেরকে সন্ত্রাসী কাজ বাড়িয়ে দিতে হচ্ছে। এছাড়া ‘পরিস্থিতি সৃষ্টি করে’ নেতাদেরকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ বিশেষ ট্রাইব্যুনালের’ বিচারের রায় ও দণ্ড থেকে রক্ষার চেষ্টায় তাদের অন্য কোনো পথ খোলা নেই। দেশের মধ্যে অরাজকতা ও অন্তর্ঘাত দ্বারা গণতান্ত্রিক ধারা ও বিচার প্রক্রিয়াকে সর্ট-সার্কিট করার অপচেষ্টার সাথে সাথে তারা হাজার হাজার কোটি টাকায় বিদেশি এজেন্ট নিয়োগ করে ও তাদের আন্তর্জাতিক বন্ধু শক্তির সহায়তায় বিচার প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করতে বা প্রশ্নবিদ্ধ করতে সচেষ্ট রয়েছে। বিচারের রায় প্রদানের সময় যতো নিকটবর্তী হচ্ছে তাদের নেতাদের বাঁচাতে জামায়াত ততো বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে।
গত ৪ ডিসেম্বর জামায়াতে-ই-ইসলাম দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছিল। হরতাল ছিল শিথিল। মানুষের তাতে তেমন সমর্থন ছিল না। কিন্তু ছিল ভীতি। এমনিতেই কয়েক সপ্তাহ ধরে সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব চলছিল। হরতালের আগের দিন সন্ধ্যার পর থেকে তারা শুরু করেছিল গাড়ি-বাস জ্বালাও-পোড়াওয়ের কর্মকাণ্ড। হরতালের দিন সকাল থেকেই শুরু হয়েছিল সন্ত্রাস সৃষ্টির চোরাগোপ্তা অপারেশন। রাইট ফ্ল্যাঙ্ক, লেফট ফ্ল্যাঙ্ক, এ্যাসাল্ট, রিট্রিট—একেবারে সামরিক কায়দায় জামায়াত-শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা সেদিন রাজপথে সন্ত্রাসী অভিযান পরিচালনা করেছিল। তাদের ডাকা হরতালকে তারা পরিণত করেছিল ‘ডরতালে’। হরতালের প্রতি বিএনপি কি মনোভাব গ্রহণ করে, তা জানতে সবাই আগে থেকেই উদগ্রীব ছিল। জামায়াত হরতালের ঘোষণা দেয়ার পরে বিএনপি ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল সম্পর্কে নীরব থেকেছে। এমনকি সেদিনই ১৮ দলের প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াত নেতাকে পাশে রেখে কথার বলার সময়েও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সে বিষয়ে টুঁ শব্দটি না করে অন্য নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সন্ধ্যার পর প্রচার মাধ্যমের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেরিত সংক্ষিপ্ত কয়েক লাইনের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জামায়াতকে আগের দিন সভা ও মিছিল করতে না দেয়ার ঘটনার নিন্দা করা হয় এবং এই ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত বাধ্য হয়ে হরতাল ডেকেছে বলে উল্লেখ করে হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন প্রদান সম্পর্কে বিএনপির বক্তব্য একাধিক কারণে যথার্থ নয়। জামায়াত সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ‘একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে’ ঘাতক যুদ্ধাপরাধী বলে সর্বমহলে পরিচিত ও জ্ঞাত বিচারের জন্য আটক তাদের নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে। প্রথম কথা, এরূপ দাবিতে সভা, সমাবেশ, মিছিল করার সুযোগ কি গণতান্ত্রিক অধিকারের মধ্যে পড়ে? কেউ কি ভাবতে পারেন যে, ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরে আটক কত রাজাকার-আলবদর সদস্যদের অথবা আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সেনা অফিসার ও সৈনিকদের মুক্তির দাবিতে জামায়াত ঢাকায় সভা-মিছিল করছে, এমন চিত্র কি কল্পনাও করা যায়? কিম্বা একথা কি ভাবা যায় যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন হিটলারের নািস পার্টির শীর্ষ নেতৃবর্গ নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের সামনে বিচারের সম্মুখীন, তখন সেই পার্টির নেতারা বার্লিনে তাদের মুক্তি ও ট্রাইব্যুনাল বিলুপ্তির দাবিতে সভা-মিছিল করছে! তাদেরকে সভা-মিছিলের অনুমতি প্রদান না করাটা কি অগণতান্ত্রিক ছিল। জামায়াতকে অনুরূপ দাবিতে সভা-মিছিল করতে না দেয়াটাকে বিএনপি তাহলে অগণতান্ত্রিক বলে আখ্যায়িত করে কিভাবে? তাছাড়া, জামায়াত ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরেই অবৈধ হয়ে গেছে। ৭৫-এর পর তাকে বৈধতা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই বৈধতা প্রদান করাটা ছিল অবৈধ। সুপ্রিম কোর্ট সেরূপ চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছে। একটি দলকে অবৈধভাবে বৈধতা প্রদান করাটা সেই দলের বৈধতার ভিত্তি হতে পারে না। জামায়াতের বৈধতা প্রাপ্তি অবৈধ। সেই অবৈধ দলের তত্পরতা চালানোর চেষ্টাকে গণতান্ত্রিক অধিকার বলে সমর্থন করা যায় কি?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কয়েকদিন আগে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘জামায়াতের সহিংসতার দায় বিএনপি নেবে না’। তারপরেও হরতালের নামে জামায়াত সহিংস তাণ্ডব চালাবে জেনেও বিএনপি তাদের হরতালের নৈতিক সমর্থন জানায় কিভাবে? সহিংসতা হবে সে কথা জেনে-শুনেও হরতালে সমর্থন প্রদান কি হরতালের নামে জামায়াতের ‘ডরতাল’ ও আনুষঙ্গিক সহিংস তত্পরতার প্রতি নৈতিক সমর্থন প্রদানের মতো বিষয় হয়ে ওঠে না?
বছর দেড়েক আগে তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি কানকো-ফিলিপসকে রপ্তানির সুযোগসহ তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ও উত্তোলনের জন্য বঙ্গোপসাগরে ব্লক বরাদ্দ দিয়ে পিএসসি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রতিবাদে হরতাল আহ্বান করেছিল। বিএনপির এই নেতাই সেই হরতালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, এ ধরনের দাবি বিএনপি বিরোধিতা করে। সে কারণে বিএনপির হরতালেরও বিরোধিতা করে। প্রশ্ন হলো, জামায়াত হরতাল ডেকেছিল একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারাধীন আটক নেতাদের মুক্তি ও ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে। এই দাবির প্রতি যদি বিএনপি সমর্থন না থেকে থাকে, তাহলে তো তার উচিত ছিল পূর্বতন দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বলে দেয়া যে, জামায়াতের এই দাবির তারা বিরোধিতা করে এবং সে কারণে তারা জামায়াতের হরতালেরও বিরোধিতা করবে। তা না করে হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন ঘোষণা কি সেক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে ও প্রকারান্তরে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া বানচালের জন্য জামায়াতের দাবির প্রতি নৈতিক সমর্থন প্রদান করা হয়ে ওঠে না? বিএনপি এক্ষেত্রে যুক্তি দেয় যে, জামায়াতকে সঙ্গে না রাখলে আওয়ামী লীগ তাকে সপক্ষে টেনে নিতে পারে। সেই ভয়েই বাধ্য হয়ে তাকে জামায়াতের হরতালের প্রতি নরম সমর্থন ঘোষণা করতে হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে তর্কে না গিয়ে তাদের সে কথা সত্য বলে ধরে নিলেও প্রশ্ন দাঁড়ায়, একজনের মন্দ হওয়াটা কি কখনো অপর কারো জন্য অনুরূপ মন্দ হওয়ার যুক্তি হতে পারে?
আসলে বড় বুর্জোয়া দলগুলোর মধ্যে নীতি-আদর্শ প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। সে ধরনের নীতিনিষ্ঠ রাজনীতি এখন তাদের মাঝে কোথায়? এসব দলের জন্য হালুয়া-রুটির ধান্ধায় যেনতেন উপায়ে হলেও গদিতে থাকা বা গদিতে যাওয়াই একমাত্র বিবেচনার বিষয়। জামায়াত সেই সুযোগ নিয়ে এতোদিন একবার এর কাঁধে, আর আরেকবার ওর কাঁধে পা রেখে বেড়ে উঠেছে। এবার সুযোগ এসেছিল সেই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে এসে সবাই মিলে জামায়াতকে একঘরে করে ফেলার। কিন্তু বুর্জোয়া দল দু’টির জন্য সে পথ ধরে চলা বেশ কঠিন কাজ। কারণ জামায়াতের পেছনে রয়েছে আমেরিকা। গদিতে যাওয়ার বা থাকার জন্য আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের আশীর্বাদ এসব দলের জন্য অত্যাবশ্যক। জামায়াত হলো সাম্রাজ্যবাদের একটি পালিত শক্তি। তাই ক্ষমতার খেলার প্রয়োজনে জামায়াতের অস্তিত্ব মেনে নিয়ে, তাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেই দড়ি টানাটানিতে দু’পক্ষই ব্যস্ত। সেই প্রতিযোগিতায় বিএনপি তার এগিয়ে থাকা অবস্থান হারাতে চায় না। জামায়াতের মার্কিন কানেকশন অনেক পুরনো। বস্তুত বৃটিশ পরাধীনতার যুগে ঔপনিবেশিক শাসকদের অনুগ্রহে এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সাম্র্রাজ্যবাদের পদলেহন হলো তাদের চরিত্র ও অস্তিত্বের মূলে। এখনও তারা মার্কিন-সউদী-পাকিস্তানিদের পদলেহন করে চলেছে। ৪ ডিসেম্বর হরতালেও জামায়াত তার মার্কিন তাঁবেদারীর নিদর্শন দেখিয়েছে। হরতালে জামায়াতের সহিংস তাণ্ডবের শিকার হয়েছে অনেক সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানুষের সম্পদ। হামলা চালানো হয়েছে পুলিশের ওপর। ভাংচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে শ’দুয়েক গাড়ি, বাস, ভ্যান, ট্রাকে। মার্কিন দূতাবাসের একটি গাড়িও আক্রান্ত হয়েছে। মার্কিন দূতাবাস এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। এতে জামায়াতের তো মাথায় বাড়ি! প্রভুর গাড়িতে হামলা, এ তো সর্বনাশা কাণ্ড! মার্কিন দূতাবাসের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য দায় স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য তারা প্রস্তুত বলে জামায়াত কয়েক ঘন্টার মধ্যে সাত তাড়াতাড়ি প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেয়। হরতালে কতো মানুষের ক্ষতি হলো, কতো গাড়ি পুড়ে ছাই বা ভেঙ্গে চুরমার হলো। জামায়াত যদি সত্যিই আন্তরিক হতো তাহলে তো ক্ষতিগ্রস্ত সকলের কাছেই সে দুঃখ প্রকাশ করে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতো। কিন্তু জামায়াত জনগণের সার্বভৌমত্বের নীতিতে বিশ্বাস করে না। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ হলো তার কাছে সর্বেসর্বা। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়াটা সে নিষ্প্রয়োজন মনে করলেও মার্কিন প্রভুদের অসন্তোষ কমানোর চেষ্টা না করে কি সে পারে! জামায়াতের ড্যামেজ কন্ট্রোলের এই চেষ্টা সফল হলেও সে যে কতোটা পরিমাণে মার্কিন পদলেহী তা দেশবাসীর কাছে আবার খোলাসা হয়ে গেল। কিন্তু তাতে কি আসে যায়? কারণ জনগণের সার্বভৌমত্ব তো জামায়াত মানেই না। আসলে জামায়াত কি মানে? সেই রহস্যময় প্রশ্ন আরো ধোঁয়াশাময় হলো যখন জনগণ হরতালের দিন প্রকাশিত পত্রিকার খবরে জানতে পারলো যে, জামায়াত তার গঠনতন্ত্রে দলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য থেকে ‘আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুল (সা.) প্রদর্শিত দ্বীন কায়েমের’ কথা বাদ দিয়েছে। সেই সাথে ‘আল্লাহ ব্যতীত কাহাকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে’—মর্মে নীতিও বাদ দেয়া হয়েছে। ‘ইসলামী শাসন কায়েমের’ বদলে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার’ কথা যুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের যেসব সাংঘর্ষিক ধারা রয়েছে, সে রূপ মোট ৮টি ধারা বিলুপ্ত বা পরিবর্তন করে সংশোধিত গঠনতন্ত্র হিসেবে তা ইসির কাছে জমা দেয়া হয়েছে। সংশোধিত বিষয়গুলো খুবই মৌলিক ধরনের। এসব মৌলিক বিষয়ে গঠনতন্ত্রের পরিবর্তনগুলো কি আন্তরিক উপলব্ধি ও সমগ্র দলের সাধারণ সম্মতির ভিত্তিতে করা হয়েছে? না কি, তা কেবল মানুষের তৈরি আইন ও বিধান মেনে ইসির নিবন্ধন পাওয়ার ইহলৌকিক প্রয়োজনীয়তা থেকে তা করা হয়েছে? অসাধু ব্যবসায়ীদের দু’নম্বরী হিসাবের খাতার মতো করে কি জামায়াতের জমা দেয়া সংশোধিত গঠনতন্ত্র প্রণীত হয়েছে? যদি সেরূপ হয়ে থাকে, তাহলে তা হলো জামায়াতের আরেকটি প্রতারণার নিদর্শন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জামায়াত সত্যকে আড়াল করে, অবস্থানুসারে মুখোশধারী মিথ্যাবাদী সেজেও ‘রাজনীতি’ করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হয় না। পবিত্র ধর্ম হলো তাদের কাছে নিছক রাজনৈতিক-ব্যবসার একটি উপকরণের মতো। আর এসব সংশোধনী যদি আন্তরিক উপলব্ধি প্রসূত হয়ে থাকে তাহলে তো এই দলটি আর জামায়াত-ই-ইসলাম থাকে না। তা হয়ে ওঠে নতুন চরিত্রের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি রাজনৈতিক সত্তা। সেক্ষেত্রে জামায়াত-ই-ইসলাম নামটা রেখে দেয়ার কি যুক্তি থাকতে পারে? একথা ধরে নেয়ার যথেষ্ট কারণ আছে যে, দ্বিতীয় অনুমান সত্য নয়। সবটাই জামায়াতের সাজানো মিথ্যাচারের মুখোশধারী নাটকের প্রতারণামূলক অভিনয় মাত্র।
রাজাকাররা বিজয়ের মাসে ঘাতকের মুক্তির দাবিতে হরতালের নামে সহিংস তাণ্ডব চালিয়ে ‘ডরতাল’ করবে, আর মুক্তিযোদ্ধা, জনগণ চুপচাপ বসে তা শুধু অবলোকন করবে— তা হতে দেয়া যায় কি? ডিসেম্বর মাস বিজয়ের উত্সবের মাস, লড়াইয়েরও মাস। শত্রু এলে বাঙালি জাতি ও দেশবাসী শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে জানে। রাজাকারের ‘ডরতালের’ জবাবে ১৮ ডিসেম্বর জনগণের হরতাল ডাকা হয়েছে। কে রুখতে পারবে জনগণের জাগরণ?
লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
