টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ও ঐতিহ্যবাহী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ৩-২ ব্যবধানে এক অবিস্মরণীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় করিল গত শনিবার। এই জয়োত্সবের আমেজ বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে এখনও বজায় রহিয়াছে। শনিবার মিরপুর শেরে-বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের পঞ্চম ও ফাইনাল খেলায় বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ২ উইকেটে পরাজিত করে। এই ম্যাচ আগের দুইটি ম্যাচের ন্যায় ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও অনেকটাই শ্বাসরুদ্ধকর। সিরিজের তৃতীয় ও চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশ অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়া যায়। কিন্তু ইহার পরই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আবার ঘুরিয়া দাঁড়াইতে সক্ষম হয়। ইহাতে অধিনায়ক ও সহঅধিনায়ক এক অনবদ্য অবদান রাখেন। ইহার আগে খুলনায় প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা দুর্দান্তভাবে জয়লাভ করে। বিজয়ের মাসে এমন উপভোগ্য বিজয় উপহার দেওয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
প্রকৃতপক্ষে এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেরা জয়গুলির অন্যতম। ইহার তিন বত্সর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেই বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে। নিজেদের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকেও হোয়াইটওয়াশ করিয়া গৌরব অর্জন করে। কিন্তু তখন সমালোচনা হইয়াছিল এই বলিয়া যে, উহা তাহাদের পুরাশক্তির দল ছিল না। দলে নানা কারণে প্রধান সারির খেলোয়াড়রা ছিলেন অনুপস্থিত। তবে এবার সে কথা বলার কোন অবকাশ নাই। বরং বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। তাহাছাড়া একাধিক ক্রিকেটারের অভিষেক হয় এই সিরিজে। তাহারাও ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখিয়াছেন। তাই এই সিরিজ সর্বদিক দিয়াই সার্থক হইয়াছে। মোটকথা, বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলায় আশানুরূপ ভাল না করিলেও ওয়ানডে বা একদিনের ম্যাচে দিন দিন উন্নতি করিতেছে। ইতোমধ্যে র্যাংকিংয়েও তাহাদের এক ধাপ উন্নতি হইয়াছে। তাহারা এখন নিউজিল্যান্ডের উপরে অষ্টম অবস্থানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলিয়া তাহারা ক্লান্ত ও অবিশ্রান্ত বলিয়াই মনে হয়। তাহাছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা খেলোয়াড় ক্রিস গেইলকে বাংলাদেশ সফরে বরাবরই নিষ্প্রভ দেখা যাইতেছে। যাহা হউক, এশিয়া কাপের সাফল্যের পর এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরো উন্নতির শিখরে নিয়া যাইবে বলিয়া আমরা আশা রাখি। তবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রশংসাজনক। কিন্তু ব্যাটিংয়ে মাঝেমধ্যেই বড় ধরনের বিপর্যয় নামিয়া আসিতে দেখা যাইতেছে যাহা মোটেও কাম্য নহে। ক্রিকেটামোদী দর্শকরা এ কারণেই বারবার আশাহত হইতেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহিত প্রথম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হইয়াছিল। কিন্তু পঞ্চম দিনে সেই চিরচেনা বাংলাদেশকে দেখা গেল এবং শেষপর্যন্ত জয় হাতছাড়া হইয়া গেল। এসব জায়গায় বাংলাদেশকে অবশ্যই উন্নতি সাধন করিতে হইবে। সম্প্রতি আইসিসির সহ-সভাপতি হইয়াছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল। তাই ক্রিকেটের সর্বক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন একান্ত প্রত্যাশিত।
আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলিতেছে। এই ম্যাচেও আমরা বাংলাদেশের সাফল্য কামনা করি। এই ম্যাচের মধ্য দিয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফর সমাপ্ত হইবে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রতিও আমাদের শুভ কামনা রহিল।
