০০০
আমরাই আমাদের স্বপ্ন
পূরণ করব
আমি তো সেই বাংলাদেশ চাই যেটি দরিদ্রতা ও ক্ষুধামুক্ত, যেখানে ন্যায়ের পক্ষে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সশ্রদ্ধ বলিষ্ঠ কণ্ঠ, সন্ত্রাসবাদ যেখানে অতীত, সাধুতা ও সততা যেখানে বর্তমান। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইতোমধ্যেই বলেছেন- অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার টাইগার। পোশাক রপ্তানিতেও বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে ২য় অবস্থানে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে ইতোমধ্যেই আমরা খাদ্য রপ্তানিও শুরু করেছি। বিশ্বের নামি-দামি কোম্পানিগুলো এদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসবই প্রমাণ করে বাংলাদেশ অতিদ্রুত মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হবে, সোনার বাংলাদেশ গড়া সময়ের ব্যাপার। কিন্তু কোথায় যেন একটা পিছুটান, কি যেন একটা কুরে কুরে খাচ্ছে আমাদের স্বপ্নগুলোকে। আজ দেশের পোশাক শিল্পে অস্থিরতা, সন্ত্রাসবাদ ও ঘুণেধরা আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা কুরে-কুরে খাচ্ছে ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নগুলোকে। শত বাধা-বিপত্তি জয় করে আমরা নতুন প্রজন্ম গড়বো আমাদের সোনার বাংলা। এটাই আমাদের নতুন প্রজন্মের প্রতিজ্ঞা।
হাবিব
৩য় বর্ষ, ২য় সেমিস্টার
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ । সন্তোষ, টাঙ্গাইল-১৯০২।
০০০
রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারুণ্যের পদচারণা হোক এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই
তারুণ্য মানে চিরসবুজের প্রতীক। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা ছিল সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। বাঙালি জাতি সবুজ জমিনে বুকের লাল রক্ত ঢেলে লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেছে। এটি বাঙালি জাতির চির অহংকার আর গর্বের অর্জন। এই অর্জনকে ধরে রাখতে হলে লাল সূর্যের রঙিন আভায় সবুজ জমিনে তারুণ্যেভরা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ তরুণদের আয়ত্তে রয়েছে সামপ্রতিক ধ্যান-ধারণা ও প্রযুক্তি। বর্তমান বিশ্ব আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করতে না পারলে সমৃদ্ধ দেশের কল্পনা অসম্ভব। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গনে প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। তাহলেই দেশ ও জাতি সময়ের পথে হেঁটে সাফল্য পাবে। আমি চাই রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে তরুণদের পদচারণায় মুখর হোক। এতে নিত্যনতুন ধ্যান-ধারণা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তারুণ্যেদীপ্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তার এই চিন্তা-চেতনা সময়োপযোগী। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন তরুণদের হাতেই। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে বেশ উন্নতি করলেও এখনো অনেক এলাকায় বা অঞ্চলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য রয়ে গেছে। এদেশে মানুষ সবচেয়ে সহনশীল ও শান্তিপ্রিয়। বিশ্বব্যাপী শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে আমাদের সুনাম রয়েছে। আমি সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ চাই। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমি বিশ্বাস করি, তরুণরা এ দেশকে বদলে দেবে। এজন্য তরুণদের সুযোগ করে দিতে হবে। তাই তারুণ্যের জয়গান সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।
মিজানুর রহমান সোহেল
দ্বাদশ শ্রেণী, মানবিক বিভাগ
দিলোয়ারা জাহান মেমোরিয়াল কলেজ
বাকলিয়া, চট্টগ্রাম।
০০০
মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়ে
তোলা সম্ভব
লক্ষ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এ বাংলাদেশ। অনেক লড়াই ও সংগ্রাম করে আমরা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার আইয়ুব খান সরকারের পতন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। কিন্তু আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি খুন, গুম, চাঁদাবাজি, শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সড়ক অবরোধ, হরতাল, পথচারীকে কুপিয়ে হত্যা, ছিনতাই, চোরাকারবারী ও লুটপাটসহ বিভিন্ন অপকর্মে আমাদের সম্ভাবনাময় এই বাংলাদেশকে যেন গ্রাস করে আছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতিকরণে আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সস্তা শ্রম বাজার, কাঁচামালের সহজলভ্যতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশিরা এদেশে বিনিয়োগ কিংবা শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে সাহস পায় না। অনেক সময় দুর্নীতির কারণে বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়। আমরা তরুণ ও যুবসমাজকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত ও নৈতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে পারিনি। যার ফলে নৈতিক ও আদর্শিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছি। রাজনীতিবিদরা নিজের পকেট থেকে প্রচুর পরিমাণ টাকা নির্বাচনে ব্যয় করে জয়লাভ করার জন্য। আর যখন তারা ক্ষমতার আসনে বসে তখনই খরচকৃত টাকা ওঠানোর নেশায় মত্ত হয়ে যায়। যার ফলে আমাদের দেশে দুর্নীতি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। তাই আসুন কল্যাণমুখী, সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সর্বগ্রাসী দুর্নীতিকে গুডবাই জানাই। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি ।
মো. আব্দুুল লতিফ
এমবিএ(তৃতীয় সেমিস্টার)
দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা।
০০০
আগামীদিনের বাংলাদেশ হোক উন্নত, সমৃদ্ধশালী এবং দুর্নীতিমুক্ত
স্বাধীনতা লাভের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। যে লক্ষ্যমাত্রা আমাদের প্রত্যাশিত ছিল তা এখনও পূর্ণরূপে অর্জিত হয়নি। কারণ আমরা আজও ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। এমনকি জাতির গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক বিষয়গুলোতেও আমরা দ্বিধাবিভক্ত। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কিভাবে স্বাধীনতা এনেছিলাম তা আজ ভুলে যেতে বসেছি। একতার বন্ধন ছিন্ন করে আমরা আজ সবাই লড়ছি ব্যক্তিস্বার্থে অথবা গোষ্ঠীস্বার্থে। বৃহত্তর স্বার্থ এখানে পদদলিত হচ্ছে। তাই এই বিজয়ের মাসে আমাদের অতীত থেকে প্রেরণা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হীন পরিবার স্বার্থ এবং দলস্বার্থ থেকে বেড়িয়ে এসে জণকল্যাণে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া। জাতির সামনে এগিয়ে যাওয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে একই প্লাটফর্মে দাঁড়ানো অতীব জরুরি। আমলাদের উচিত লাল ফিতার সুতায় ফাইলবন্দি না রেখে সততা এবং নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। আমলা এবং রাজনীতিকরা দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হলেই পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব। আর এর মাধ্যমেই আগামীদিনের বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন এবং স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করা সম্ভব।
মো. মেফতাউল ইসলাম
চতুর্থ বর্ষ,
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
