০০০
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নেগেটিভ ইঙ্গিত দিচ্ছে
আগামীদিনের বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের অনেক স্বপ্ন আছে। সেই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পরও কৃষক ভেবেছিল সে চাষের জমি পাবে, ছাত্র ভেবেছিল সে পড়ার উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা পাবে, শ্রমিক ভেবেছিল সে তিন বেলা পেটভরে খেতে পারবে। প্রতিটি শ্রেণীর মানুষের এরকম স্বপ্ন ছিল। গত ৪০টি বছরের দিকে একটিবার নজর দিলে ব্যর্থতা নামক শব্দটির প্রাধান্যই দেখা যাবে। তত্কালীন আশি শতাংশ গরিব মানুষের সাধারণ চাহিদাই পূরণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সেই মানুষগুলোর পরবর্তী প্রজন্ম আজও স্বপ্ন দেখে যাচ্ছে। সেই শ্রমিকের সন্তান স্কুলে যাবার স্বপ্ন দেখছে কিন্তু যেতে পারছে না, সেই ছাত্রটি তার সন্তানের স্কুলের ফি দিতে হিমশিম খাচ্ছে। অর্থাত্ এই ৪০ বছরের পৃথিবী অনেকদূর পর্যন্ত এগিয়ে গেলেও আমাদের চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, পরবর্তী ৪০ বছরে কি হবে? নতুন প্রজন্ম যে স্বপ্ন দেখছে সেই স্বপ্নও কি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে? আমার উত্তর, হ্যাঁ। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তার জ্বলন্ত প্রমাণ। যারা জাতির জনককে নিয়ে টানা-হেঁচড়া করে, নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশকে ভুলে যাচ্ছে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা এক কথায় অসম্ভব। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের কথা ঢালাওভাবে বলে যেসব নিয়ম-কানুন করা হচ্ছে তার জন্য কি একটিবারও শিক্ষার্থীদের মতামত নেয়া হয়েছে? আমরা কি চাই, না চাই একটিবারও কি আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে? এসব না করে নিজেদের মধ্যে দু’একটা মিটিং ডেকে নতুন নতুন নিয়ম করে এক অন্ধকারের মধ্যে আমাদের ফেলে দেয়া হচ্ছে। এরকম শিক্ষা ব্যবস্থাকে কোনো শিক্ষার্থিই মন থেকে সাপোর্ট করেনি আর করবেও না। ফলে একটি প্রজন্ম আগামীদিনে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগুচ্ছে, একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
সৌরভ দাস,
শ্রেণী-দ্বাদশ,বিভাগ-বিজ্ঞান,
সিলেট সরকারি কলেজ, সিলেট।
০০০
আগামীদিনের বাংলাদেশ
হবে স্বচ্ছ ও দুর্নীতি-বিরোধী বাংলাদেশ
গণতন্ত্র ও সুশাসন একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। সুস্থ ও সত্ চর্চার ওপর নির্ভর করে কোনো একটি দেশের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন। প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি। দুর্নীতি বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষতিকর সামাজিক ব্যাধিগুলোর অন্যতম। জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল অন অ্যান্টিকরাপশন পলিসি অনুযায়ী ব্যক্তিগত স্বার্থোদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রশাসনে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব লক্ষণীয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিজেদের স্বার্থে রাজনৈতিক দলের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দুর্নীতিগ্রস্ত এবং জনপ্রশাসনে এর যথেষ্ট প্রভাব থাকার কারণে আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অর্জন করতে হলে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই দেশ বিশ্বের ইতিহাসে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এদেশের যুবসমাজ বারবার প্রমাণ করেছে আমরা হারিনি, আমরা পেয়েছি, আমরা পারব। দেশের প্রতি তরুণদের অকৃত্রিম ভালবাসা ও দায়িত্ববোধই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে দুর্নীতিবিরোধী এই সামাজিক আন্দোলনকে।
মো. তারিকুল ইসলাম (প্রিন্স)
একাদশ শ্রেণী, বামনা সারওয়ার জান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ,
বরগুনা,বরিশাল।
০০০
দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, নেশামুক্ত, অহিংসা ও দূষণমুক্ত বাংলাদেশ চাই
রাজনীতি, উন্নতি, অবনতি, দুর্নীতি—এই চারটি নীতির সমন্বয়ে বর্তমান বাংলাদেশ। যেখানে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মধ্যে দুরারোগ্য রোগ হচ্ছে এইডস, ক্যান্সার ইত্যাদি। কিন্তু বাংলাদেশের মারাত্মক দুরারোগ্য রোগ হচ্ছে দুর্নীতি। বিশ্বের অন্য দেশগুলো যখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসে তখন বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাসে হাবুডুবু খায়। বাংলাদেশের ছোট-বড় সব সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির আনাগোনা। বাংলাদেশের দুর্নীতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেখলাম একটা সরকারি চাকরি নিতে কমপক্ষে দু’তিন লাখ টাকা বা তার বেশি ঘুষ দিতে হয়। কিন্তু তার বেতন সাত-আট হাজার টাকা। এতে করে তাকে পুনরায় দুর্নীতিতে লিপ্ত হতে হয়। দেশের উঁচুতলার মানুষগুলো এই নীতির প্রচলন করেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালে দেখা যাবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুন, হত্যা, রাহাজানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ ঘটে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হচ্ছে মেধাবী ছাত্ররা। সেখানে তারা যদি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীর দাপটে ও হুমকির তাড়নায় রাজনীতির নামে অরাজনৈতিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত হয়, সেখানে আগামীদিনের বাংলাদেশ কী হবে আশা করা যায়?
আগামীদিনের বাংলাদেশ হবে নজরুলের, জীবনানন্দ দাশ ও কায়কোবাদের বাংলাদেশ। একটি সুষ্ঠু, রাজনৈতিক সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে। আমাদের ঐকমত্য পোষণ করতে হবে। সকলকে পরিহার করতে হবে লোভ-লালসা। রাজনীতির নামে পেটনীতি, হিংসা-বিদ্বেষ, রাহাজানি, খুন, ধর্ষণ ও মারামারি। সফল নেতৃত্ব দ্বারা প্রত্যেকটি দেশের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তাই আমাদের দায়িত্ববোধ, ধৈর্যশীল, নমনীয় নেতার নেতৃত্বে চলা উচিত। দক্ষ নেতৃত্বের বিকাশ ও একজন সত্ নেতাই পারে আগামীদিনের দেশকে সমৃদ্ধির দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে। তাই বলতে চাই।
‘‘দেশকে গড়তে চাওতো, আগে নিজেকে গড়ো’’।
মো. নূর আলম,
ভর্তিচ্ছুক (অনার্স, ১ম বর্ষ),
নোয়াখালী সরকারি কলেজ, নোয়াখালী।
০০০
মাথা তুলে দাঁড়াবেই আমার
প্রিয় জন্মভূমি
আত্মত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতি আমাদের, দেশপ্রেম সাথী করে যারা—নিঃশর্তচিত্তে আত্মাহুতি দিতে জানে তাদেরকে অপশাসন আর কতদিনই বা দাবিয়ে রাখবে। যেদিকে তাকাই শত শত হতাশার মাঝেও উজ্জ্বল আলোর সম্ভাবনা দেখতে পাই। এই যেমন—সর্বোচ্চ রপ্তানি খাতের নেতৃত্ব নারীদের হাতে, নারীরা এখন আর পরনির্ভরশীল নয়, শিক্ষার অগ্রগতি বাড়ছে দ্রুত, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় উন্নত জীবনযাত্রা হয়েছে সহজতর। অপরাজনীতির ভিড়ে মাঝে মাঝে সংবাদ হয়ে আসে অদম্য টাইগারদের এভারেস্ট জয়, বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশী সৈনিকের অবদান। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিটেন্সে বাড়ছে প্রবৃদ্ধি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কখনো ব্যক্তি উদ্যোগে, আবার কখনো সংগঠিত প্লাটফর্মে সমাজ গঠনের উদ্দীপনামূলক সংবাদও আমাদের সাহস বাড়িয়ে দেয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এনজিওসমূহের অবদানও স্মরণযোগ্য। তাই আর বেশিদিন নয়, সহসাই মাথা তুলে দাঁড়াবেই আমার প্রিয় মাতৃভূমি সোনার বাংলাদেশ।
মো. ফখরুল ইসলাম (টিপু)
বিএ শেষবর্ষ পরীক্ষার্থী
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ।
