অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

নেই যথার্থ উদ্যোগ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১০
সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই পরিণত হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। প্রচলিত পদ্ধতির চাইতে ডিজিটাল মাধ্যমগুলোই এখন অনেক বেশি জনপ্রিয়। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাতেও তাই আমাদের ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর দিকে দৃষ্টি ফেরানো জরুরি। বিশেষ করে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পরিপূর্ণ একটি উপস্থাপনা সম্ভব হতে পারে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে। এখনকার সময়ে সকলেই নানা ধরনের তথ্যের জন্য নির্ভর করে ইন্টারনেটের উপর। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে তাদের যাবতীয় ইতিহাস এবং ইতিহাস সংক্রান্ত বইপত্রকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করে সেগুলোকে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেটে। ফলে বছরের পর বছর ধরে সেই ইতিহাস প্রবাহিত হয়ে যাচ্ছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ৪১ বছর পেরিয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের পরে জন্ম নিয়েছে একাধিক প্রজন্ম। আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের যে প্রজন্ম, তারা একে একে বিদায় নিতে শুরু করেছে পৃথিবী থেকে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে রেখে যাওয়ার জন্য তাই আমাদেরকেও ডিজিটাল মাধ্যমের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ইতিহাসকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে ইন্টারনেটে আপলোড করলে তা টিকে থাকবে দীর্ঘদিন। আর মুক্তিযুদ্ধের যেসব দলিলপত্র রয়েছে, সেগুলো সাধারণতই জনসাধারণের নাগালের বাইরে রয়ে যায়। সেগুলোরও যদি ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করা যায় এবং আপলোড করে রাখা যায় ইন্টারনেটে, তাহলে নতুন প্রজন্মও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ের তথ্যসমৃদ্ধ করে নিতে পারবে নিজেদের। সরকারি ওয়েবসাইটের কচ্ছপ গতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সরকারি যে কয়েকটি ওয়েবসাইট রয়েছে, সময়ের সাথে সাথে সেসব ওয়েবসাইটের অগ্রগতি হচ্ছে সামান্যই। অনেকটা কচ্ছপ গতিতেই এসব ওয়েবসাইট চলছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হতে পারে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটে মুুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন সেকশনও রয়েছে। তবে এসব সেকশনের সব তথ্য সব ধরনের চাহিদা পূরণের উপযোগী নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে অনেকেরই আশাবাদ ছিল এই সরকার ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেই আশা খুব একটা পূরণ হয়নি, তা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.molwa.gov.bd তে প্রবেশ করলেই বুঝা যায়। এখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংক্রান্ত একটি সেকশনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি আলোচনা রয়েছে। রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর এবং সেক্টর কমান্ডারদের তালিকা। বীরশ্রেষ্ঠদের নামের তালিকা এবং তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনীও রয়েছে এই সাইটে। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সম্মাননা কার্যক্রমের বিবরণ এবং ছবির লিংকও পাওয়া যাবে এখান থেকে। তবে এই সাইটেই মন্ত্রণালয়ের গত দুই বছরের কার্যক্রমের অগ্রগতিতে উল্লেখ রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার ডেটাবেইজ তৈরি করার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও তা জনবলের অভাবে করা যাচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের আর্কাইভ অংশে কেবল তিনটি ভিডিও রয়েছে। এগুলোর একটি ৭ই মার্চের ভাষণের, একটি মুজিবনগর সরকার গঠনের এবং অন্যটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি ভিডিওচিত্রের। তবে শেষেরটি বেশিরভাগ সময়েই কার্যকর থাকে না বলে দেখা গেছে। এর বাইরে বাড়তি অন্য কোনো তথ্য চাইলে এখান থেকে হতাশ হয়ে ফিরতে হবে। ঠিক একই ধরনের অভিজ্ঞতা হবে সরকারি বিভিন্ন জেলার ওয়েব পোর্টালগুলোতে ঢুকলেও। প্রতিটি জেলার ওয়েব পোর্টালেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি আলাদা সেকশন। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে, বেশিরভাগ জেলার ওয়েবসাইটে গেলেই এই সেকশনটিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যাবে না। অনেকটা দায়সারাভাবেই এখানে তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। অনেক জেলার পোর্টালে আবার এই সেকশনে কোনো ধরনের তথ্যই সংযোজিত নেই। অথচ প্রতিটি জেলাভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ ছিল। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি অংশ রয়েছে। এখানে রাখা হয়েছে বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার তৈরি দুইটি প্রামাণ্যচিত্র। প্রতিটি প্রায় ৫০ মিনিটের এই ভিডিও দুইটির ডাউনলোড লিংকও দেওয়া রয়েছে এখানে। ফলে ভিডিও দুইটি ডাউনলোড করা যাবে www.pmo.gov.bd/ffvideo.php ঠিকানার ওয়েবসাইট থেকে। এর বাইরে আর কিছু নেই এই ওয়েবসাইটে। সরকারি উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো দলিলপত্রাদি অথবা কোনো ছবি বা ভিডিওচিত্রের কিছুই নেই এখানে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাইটটিও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহীদের আগ্রহ মেটানোর মতো যথেষ্ট তথ্যবহুল নয়। অন্যান্য ওয়েবসাইটও হালনাগাদ নয় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ ভালো একটি ওয়েবসাইট হিসেবেই যাত্রা শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ওয়েবসাইট। দুর্লভ সব ছবি, তথ্য, প্রচার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের খবর, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহূত জিনিসপত্র সহ বেশ বিশাল একটি সংগ্রহ রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের। ঠিক জাদুঘরের মতোই তারা নানা তথ্যে সাজিয়েছে তাদের ওয়েব সাইট www.liberationwarmuseum.org। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ট্রাস্ট কর্তৃক নির্মিত এই ওয়েব সাইটে জাদুঘরের সকল তথ্য বিবরণের পাশাপাশি রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গণহত্যা, সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা, বহির্বিশ্বের ভূমিকা, গণহত্যা, শরণার্থী, মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা প্রভৃতি বিষয়ক নানান তথ্য। একই সাথে রয়েছে বেশ কিছু দুর্লভ ছবির সংগ্রহ এবং কিছু ভিডিও ক্লিপস। তবে এই সাইটটিও অনেকদিন যাবত হালনাগাদ হয় না বলেই প্রতীয়মান হয় সাইটে ঢুকলে। এখানে সাম্প্রতিক সংবাদ হিসেবে যে খবরগুলো দেখানো হচ্ছে, তার কোনোটিই ২০১০-এর পরের নয়। ওদিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে সমৃদ্ধ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের ফোরাম ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম’। বছরখানেক আগেও এই সাইটটি চলমান একটি সাইট হিসেবে অনেক ধরনের তথ্যের সংগ্রহ হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিল। www.sectorcommandersforum.org সাইটে অবশ্য এখন আর প্রবেশ করা যায় না। সাইটটিকে সচল রাখার মতো কোনো উদ্যোগও নেই। অনলাইন বিশ্বকোষে মুক্তিযুদ্ধ অনলাইনে জনপ্রিয় বিশ্বকোষ উইকপিডিয়া এখন অনেকের কাছেই যেকোনো তথ্যের অন্যতম প্রধান ভরসার একটি স্থান। http:/en.wikipedia.org/wiki/ bangladesh_liberation_war ঠিকানায় গেলেই উইকিপিডিয়াতে পাওয়া যাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি ওয়েবপেইজ। এখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি, মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের ভূমিকা, যুদ্ধকালীন সময়ের বর্ণনা, ভারতসহ অন্যান্য দেশের সমর্থন, পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনসহ প্রচুর রেফারেন্স। ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও পাওয়া যাবে এই পেজ যার ঠিকানা http://bn.wikipedia.org/wiki/বাংলাদেশের-স্বাধীনতা-যুদ্ধ। ইউনিকোড ব্যবহার করে এই ঠিকানায় ঢুকলেই বাংলাতে পড়া যাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। উইকিপিডিয়ার একটি বিশেষ দিক হচ্ছে এতে যুক্ত যে কোন বিষয়ের উপর লেখা সম্পাদনা করার সুযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি উদ্যোগে এই ওয়েব পেইজটিকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ করার সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগটি আমরা এতদিনেও সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। www.banglapedia.org ঠিকানায় বাংলাপিডিয়াতেও পাওয়া যাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তথ্য। তবে এখানেও প্রয়োজনীয় সব তথ্যাদি সংযোজিত নেই। এদিকে http://muktijuddho.wikia.com/wiki/প্রধান-পাতা ওয়েবসাইটটিতেও মুক্তিযুদ্ধের নানা তথ্য রয়েছে, রয়েছে এখানকার তথ্য নিয়মিত আপডেট করে একে সমৃদ্ধ করে তোলার। অনলাইনে এখন সকলেই যেখানে নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে বিশ্ববাসীর সামনে, সেখানে আমরা কেন যেন সবার থেকে পিছিয়েই রয়েছি। তবুও রয়েছে আশার আলো আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় অংশজুড়ে ছিল পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক অত্যাচার আর বর্বর হামলা। বিভিন্ন স্থানে তারা নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে পুরো দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করে। সরকারি উদ্যোগে না হলেও ব্যক্তি উদ্যোগেই বেশ কিছু ব্লগার একত্রে তৈরি করেছেন গণহত্যার উপর নির্ভর করে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ওয়েবসাইট www.genocidebangladesh.org। এই ওয়েবসাইটটি নানান তথ্যে সমৃদ্ধ। এখানে রয়েছে ১৯৩০ সাল থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের একটি ইতিহাস। রয়েছে যুদ্ধাপরাধী এবং মুক্তিযুদ্ধে এশীয় দালালদের তালিকা, মুক্তিযুদ্ধের ছবি, ভিডিও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন পত্রিকা ও সংবাদপত্রের সংবাদের কাটিং ইত্যাদি। আর মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যাগুলোর উপরেও ছবি, অডিও-ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ রয়েছে এই সাইটে। এখানে মুক্তিযুদ্ধের উপর যে কোন ওয়েব লিংক যুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে, রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের উপর যে কোন লেখা পোস্ট করার ব্যবস্থা। ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা অনেক প্রবন্ধ রয়েছে এই সাইটে। রয়েছে ই-বুকের লিংক, বিদেশি পত্রিকাগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার খবর, বাংলা আর্কাইভ প্রভৃতি। এই সাইটে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহীরা অনেক তথ্যে সমৃদ্ধ করে নিতে পারবেন নিজেদের। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত আরেকটি ওয়েবসাইট হচ্ছে সেক্যুলার ভয়েস। এর ঠিকানা www.secularvoiceofbangladesh.com। এই সাইটে বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীদের লেখা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক প্রবন্ধ পাওয়া যাবে। পাওয়া যাবে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির বিভিন্ন তথ্য। মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধের একটি সংগ্রহও রয়েছে এই সাইটে। অনলাইনে আরও কিছু উদ্যোগ www.banglagallery.comসাইটে গেলে পাওয়া যাবে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সময়ের তোলা সব দুর্লভ ছবির সংগ্রহ। এদিকে বিশ্বব্যাপী ভিডিও শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউবেও রয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশকিছু ভিডিও ক্লিপস। ইউটিউবের সার্চ ইঞ্জিনে Bangladesh liberation war বা Bangladesh 1971, Bangladesh War বা কাছাকাছি কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করলেই ইউটিউবে মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিডিওগুলোর লিংক পাওয়া যাবে। http://www.liberationwarbd.org লিংকে গেলে পাওয়া যাবে মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বইটির বাংলা, ইংরেজি এবং শিশু সংস্করণ। বইটি লেখার পেছনের কাহিনী এবং প্রচ্ছদটিও পাওয়া যাবে এই সাইটে। http://www.drishtipat.org/1971/profile.htm সাইটে গেলে পাওয়া যাবে মুক্তিযুদ্ধের নারী এবং যুদ্ধ শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন তথ্য। তবে দুঃখের বিষয় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের নানা ধরনের তথ্য ও ছবি নিয়ে আরও অনেক ওয়েবসাইট যাত্রা শুরু করেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের চালু রাখতে পারেনি। গত এক বছরেই এই রকম অনেক ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইনেও সক্রিয় স্বাধীনতাবিরোধীরা সময়ের সাথে সাথে অনলাইনেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্বাধীনতার বিরোধীরা। বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য প্রচার করে আসছে অনলাইনে। এর মধ্যে উল্লেখ করা যায় http://www.drfirozmahboobkamal.com সাইটের কথা। মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়ে ভ্রান্ত তথ্য নিয়ে এখানে অনেক ধরনের লেখালেখি রয়েছে। http://storyofbangladesh.com সাইটেও মুক্তিযুদ্ধকে ভ্রান্তভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা রয়েছে। বিভিন্ন নিবন্ধ এবং ই-বুকের মাধ্যমে এসব সাইটে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে নগ্নভাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্লগ এবং ফেসবুকেও চেষ্টা চলছে এসব স্বাধীনতা বিরোধীদের। অনলাইনে যখন স্বাধীনতা বিরোধীরা অনেক বেশি সক্রিয়, তখন স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাসকে তুলে ধরার যে দায় রয়েছে সরকারের, সে দায় পূরণে তারা যে খুব একটা সফল নয়, তা সরকারি ওয়েবসাইটগুলোই প্রমাণ করে। আর যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ বলে নিজেদের দাবী করে থাকেন, তারাও নিজেদের প্রচেষ্টাগুলোকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে পারছেন না অনলাইনে। সেই ফাঁকে অনলাইনে স্বাধীনতা বিরোধীরাই নিজেদের সক্রিয়তা বজায় রেখেছে পুরোদমে। স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরেও এসে এই চিত্র দুর্ভাগ্যজনক বটে!