বিশ্বজিত্ হত্যা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১৬
বিশ্বজিত্ হত্যার সুবিচার চাই জনসম্মুখে। সবার সামনে বিচার চাই। তাহলে আমরা তৃপ্তি পাই। এটাই আজকের দাবি। সেকান্দার আলী চৌধুরী ৩৮ দিলকুশা, ঢাকা। এ হত্যার বিচার যদি না হয় তাহলে বাংলাদেশে আর কেউ কোন বিচার পাবে না। বিজয়ের মাসে এই বিচারটা হওয়া দরকার। শোভন সাহা, ২৫/২ গ্রীন রোড, ঢাকা। এ হত্যা গণতন্ত্রকে হত্যা করার সামিল। আমাদের যে কারোরই ভাগ্যে এমন হতে পারতো। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। মো. নূরুজ্জামান ফারুকী শিক্ষক, মাদারীপুর। রাজনীতি যদি সাধারণ মানুষের মঙ্গলের জন্য হয়ে থাকে, তবে কেন এই সহিংসতা, কেন এই হত্যাকাণ্ড। মানুষের জীবনের নেই আজ নিরাপত্তা। মঞ্জু খন্দকার, চুয়াডাঙ্গা। এদেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার আছে। বিশ্বজিত্ এর বিচার যাতে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে সম্পন্ন হয়—আমি সেটাই আশা করছি। জাহাঙ্গীর আলম সিরাজগঞ্জ। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে বিশ্বজিত্ এর মতো সাধারণ নাগরিক মারা যাচ্ছে। আমাদের রাজনীতিবিদদের একটাই লক্ষ্য যে কোন প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়া ও ধরে রাখা। দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে তাদের কোন আগ্রহ নেই। বিগত চার দলীয় জোটের সময় দেশে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, দলীয়করণ নগ্নভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এ হত্যা তারই ধারাবহিকতার ফসল। আমাদের মাননীয় সাংসদরা পার্লামেন্টে অংশ গ্রহণ নিয়মিত না করেও তাদের বেতন ভাতাদিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিয়ে নিচ্ছেন তা একেবারেই অনৈতিক। সংসদে গিয়ে তারা জনগণের কথা না বলে জনগণের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে। সুতরাং এরকম রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে আমরা বেশী কিছু আশা করতে পারি না। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ খুবই সত্। যতসব নষ্টের মূল আমাদের তথাকথিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ অদক্ষ আমলারা। অধ্যাপক আজিজুর রহমান আজম লক্ষ্মীপুর। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ড সরকারের একটা ব্যর্থতা বলে আমি মনে করি। ছাত্রলীগের নামধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করা হলে সরকারের ভাবমূর্তি দেশের মানুষের কাছে উজ্জ্বল হবে। মো. মাসুম চৌধুরী রাজবাড়ী। বিশ্বজিেক যেভাবে হত্যা করা হলো আমি চাই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হোক। যাতে পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। ফোজায়েল আহম্মেদ বড় লেখা উপজেলা, মৌলভীবাজার। অবরোধের সময় পুরান ঢাকার বিশ্বজিত্ দাসকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন এ ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবার ঐ দিনই ২ ঘন্টা পর পুলিশ বলেছে কেউ গ্রেফতার হয়নি। শুধু জড়িত হিসেবে ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাহলে আমরা বলবো কোনটি সত্য? সুতরাং সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। কিন্তু এটা মোটেই ঠিক নয়। আমরা চাই সত্যিকারের খুনীকে গ্রেফতার করে তার সুষ্ঠু বিচার। দেশের মানুষ জনসম্মুখে এর বিচার দেখতে চায়। কাউসার আকন্দ মতিঝিল, ঢাকা। সম্প্রতি বিরোধী দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি পালনকালে বিএনপি সমর্থক ও আওয়ামী ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে পড়ে নিরীহ বিশ্বজিত্ দাসকে পিটিয়ে হত্যা করলো ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চাপাতি, রড, বাঁশ দিয়ে যে যেভাবে পেরেছে তাকে মেরে হত্যা করেছে। বিশ্বজিত্ দাস বাঁচার জন্য ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডারদের কাছে বহু আকুতি-মিনতি করেছে; কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হলো তাকে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী জড়িত নয়; তা হলে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কারা? টেলিভিশনের পর্দায় নৃশংস হত্যার চিত্র দেখে আমি ঠিক থাকতে পারিনি। পরের দিন ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় বিশ্বজিত্ দাসের রক্তাক্ত ছবি দেখে আমি রীতিমত হতবাক হয়েছি। বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরাসহ অন্য মিডিয়াগুলোতেও এই চিত্র বার বার প্রচার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বহির্বিশ্বের কাছে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। এ কিসের রাজনীতি? কেন এই সংঘাত? কেন এই রক্ত? বিশ্বজিত্ দাস কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী নয়। একজন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। তাহলে কেন তাকে হত্যা করা হলো? বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচার করা হবে? আমরাও তাই আশা করি। মো. লিটন গাজী দক্ষিণ টেংরা, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা ১২০৫। বিশ্বজিত্ হত্যা যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় করা হয় তাহলে দুঃখজনক। এখনও সময় আছে রাজনৈতিক কর্মীদের উচ্ছৃঙ্খলা বন্ধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার। তা না হলে সাধারণ মানুষের আস্থা রাজনীতিবিদদের থেকে উঠে যাবে। তখন ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। মো. সেলিম, রসুলবাগ, মহাখালী, ঢাকা। অশুভ রাজনীতির স্বীকার হয়ে নিরপরাধ বিশ্বজিেক অকারণে প্রাণ হারাতে হলো। জনজীবনের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সারা দেশের মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের সাথে কারা জড়িত মিডিয়ার কল্যাণে তা সর্বত্র প্রকাশিত। হত্যাকারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে সংশয় সৃষ্টি করেছে। সুফিয়া রহমান মোহাম্মদী হাউজিং লি:, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের ঠিক আগের দিন রাজপথে নিরীহ নাগরিক বিশ্বজিেক পিটিয়ে হত্যা করলো ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এতে মানবতার চরমভাবে লংঘন হয়েছে। তাই সরকারের উচিত দোষীদের চিহ্নিত করে দেশের প্রচলিত আইনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের সহায়তা নেয়া। জুনায়েদ দেওয়ান মাহির দেওয়ান বাড়ী , রায় গোপালপুর, মুন্সীগঞ্জ। সম্প্রতি বিরোধীদল জোটের ডাকা অবরোধের দিন দোকান খুলতে যাচ্ছিল দর্জি বিশ্বজিত্ দাস। এ সময়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঐ দিন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজে ছাত্রলীগ কর্মীদের এই নৃশংস ন্যক্কারজনক চিত্র আমরা দেখতে পাই। এই রাজনৈতিক সহিংসতার রূপ আবারো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল এই ঘটনায়। আমরা চাই এর সুষ্ঠু বিচার। এস কে মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন মীর মোশাররফ হোসেন হল, সাভার, ঢাকা। স্বাধীনতার ৪২ বছরে আমাদের গণতন্ত্র এবং রাজনীতি নিয়ে গর্ব করার কিছুই নেই। যেখানে একজন সাধারণ মানুষ বিশ্বজিত্ দাস। একটি দল নির্মম নৃশংসভাবে খুন করলো সবার সামনে যা মানবতার চরম লংঘন। রাজনীতির এই দৃশ্য সামনে রেখে বিশ্বের সামনে গর্ব করার মতো আর কিছু আমাদের নেই। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন (চৌধুরী), নোয়াখালী। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি এরা, যারা বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। আবদুস সাত্তার, দোহার, ঢাকা। আমাদের রাজনীতির নামে অপরাজনীতি চলছে। যার ফলেই এরকম ঘটনা ঘটছে। হুমায়ুন কবির, ধানমন্ডি, ঢাকা। কোন দলের নেতা বা কর্মীকে বহিষ্কার করলে ঐ দলের কোন দায়-দায়িত্ব থাকে না। বিশ্বজিেক যারা হত্যা করেছে তাদেরকে ছাত্রলীগ থেকে অনেক আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু বাসে পুড়ে যে মানুষ মারা গেছে এর দায় বিএনপিকে নিতে হবে এবং এজন্য বিএনপির চেয়ারপারসনকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সেটা কি হবে? মো. করিম লালবাগ, বিডিয়ার ১নং গেট, পোস্ট অফিস গলি। দুই নেত্রীর কাছে আহ্বান দেশের ষোল কোটি মানুষকে নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলবেন না। এরফান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বজিত্ হত্যা শুধু নয়, হরতালের সময়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সবারই বিচার করা প্রয়োজন। মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গাড়ি বের করা যাবে না। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগ তা প্রতিহত করবে। যদি এরকমই নয় তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজন কী? এই চারজনের হত্যার দায় এই দুই নেতাকে নিতে হবে। দুই নেত্রীকে বলছি, দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না। সৈয়দ হায়দার আলী মহাখালী, ঢাকা। বিশ্বজিেক যারা হত্যা করেছে তাদেরকে যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ধরে ফেলা হতো তাহলে আমি খুশি হতাম। মুকুল, উত্তরা, ঢাকা। আমাদের তথাকথিত গণতন্ত্রের নিষ্ঠুর বলি নিষ্পাপ বিশ্বজিত্। ছাত্র নামধারী ঐসব নরপিশাচ সন্ত্রাসীদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হলে আমাদের রাজনীতিবিদরাও রেহাই পাবেন না। মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম ১৩১৬ পূর্ব শেওরাপাড়া, মিরপুর। আমাদের দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে প্রতিদিন কোন না কোন বিশ্বজিত্ মায়ের কোল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এ হত্যার পেছনে যে কোন রহস্য থাকুক না কেন তা বের করা দরকার। মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী হাউজিং স্টেট, রাজশাহী। হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও এবং ভাংচুরের হুকুমদাতা হিসাবে বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ অনেককে যদি গ্রেফতার করা যায় তাহলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে লেলিয়ে দিয়ে বিশ্বজিতের মতো নিরীহ লোককে হত্যা করার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রী ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদককে গ্রেফতার করা হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কখনো কেউ এরকম কথা বলতে সাহস পাবে না। শাহ্ আলম খান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে অবরোধ প্রতিহত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এমন জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। আমি মনে করি, বিশ্বজিতের হত্যাকারীদের অবিলম্বে যদি ধরা হয় তাহলে বলবো তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সফল। মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বিশ্বজিত্ দাসের মৃত্যুর ঘটনা সারা বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে, পিটিয়ে হত্যার দৃশ্য দেখে সবার তাই মনে হবে। তাকে বাঁচাতে পুলিশ পর্যন্ত এগিয়ে যায়নি। এমন নির্মম দৃশ্য দেখার পর অবক্ষয়ের রাজনীতি আর কতদূর এগুবে জাতির কাছে এটাই আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতির বলি বিশ্বজিত্ দাসের মৃত্যু জাতির কাছে নাড়া দিয়েছে। লাশের রাজনীতি আর কতদিন চলবে? এর জবাব রাজনীতিবিদদেরই দিতে হবে। শাহ্ মো. হেলাল উদ্দিন হিরু কালিহাতি, টাঙ্গাইল। মানবপুত্র বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ডের তাণ্ডবলীলা যদি সুন্দরবনের হিংস ব্যাঘ্রের অবলোকনের সুযোগ থাকতো তাহলে হয়তো মানুষের পশুত্ব দেখে লজ্জা পেতো। এ মুহূর্তে রাজনীতিবিদরা সংযত না হলে হিংসা, প্রতিহিংসা, লুটতরাজ আর কুশাসনের যাঁতাকলে পড়ে বিশ্বজিতের মা-বাবা-ভাইবোনের বুক ফাটা কান্না ধ্বনিত হতেই থাকবে। মো. লুত্ফুর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা। ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে বিশ্বজিেক কুপিয়ে হত্যা করলো। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা হত্যাকারী ছাত্রলীগদের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষকে কতটা বোকা ও নির্বোধ ভাবছে তা এ ব্যাপার থেকেই প্রকাশ পায়। ছাত্রলীগ যুবলীগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বিরোধী জোটের ওপর হামলা করতে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ছাত্রলীগ বিশ্বজিেক বিরোধী জোটের মনে করে কুপিয়ে হত্যা করে। সাইফুল ইসলাম তানভীর মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট। এই হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে তাদেরকে জনসমক্ষে ফাঁসি দেয়া উচিত। সালিম মাহতাব ধোলাইখাল। রাজধানীর পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার বাহাদুর শাহ্ পার্কের কাছে নিরীহ পথচারি বিশ্বজিত্ দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত। এমন মৃত্যু যেন এই পৃথিবীতে আর কাউকে বরণ করতে না হয়। একটি স্বাধীন দেশের আইন-শৃঙ্খলার এত অবনতি জীবিত অবস্থায় দেখতে পাওয়া খুবই দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। একজন সাধারণ মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা নেই এটা কেমন দেশ? আমরা কোথায় আছি? মো. আলমগীর হোসেন মিয়াজী বাকির আটোমুর, কচুয়া, চাঁদপুর। যে মেরেছে সে সরকারি দলেরই লোক কিংবা অন্যকোন দলের হোক তার শাস্তি পাওয়া উচিত। যে সরকারই আসুক সে সরকারের লোকেরাই এমন জঘন্য অপরাধ করছে। তাদের যেনো শাস্তি হয়। নাজমা বেগম লালকুঠি, মিরপুর। এই ন্যক্কারজনক ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা অপরাজনীতি চর্চায় রয়েছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। রাজনীতি থেকে তাদেরকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। যেনো এরকম ঘটনা আর না ঘটে। আব্দুস সামাদ, ১৪২/২ কোর্টবাড়ি, নামাপাড়া, মিরপুর, ঢাকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন তারা ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত নয়। আমার কথা হলো তারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হোক। মো. মারুফ হোসেন প্রভাষক, ইস্টার্ন আইডিয়াল কলেজ, চিটাগাং রোড, নারায়ণগঞ্জ। এ ধরনের নির্মম ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদেরকে জনগণের সামনে নিয়ে সুষ্ঠু বিচার করা সরকারের একান্ত কর্তব্য। নীলুফা আক্তার, টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা। টেইলার্স ব্যবসায়ী বিশ্বজিত্ জীবন-জীবিকার যুদ্ধে জয়ী হয়ে অগ্রজের কাছ থেকে পুরস্কার স্বরূপ যে দর্জির দোকান পেয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘নিউ আমন্ত্রণ টেইলার্স’। কর্তব্য-নিষ্ঠার চরম পরাকাষ্ঠা দেখাতে গিয়ে সেই আমন্ত্রিত দোকানে নিমন্ত্রিত গ্রাহকের সেবা দিতে গিয়ে যে তার জীবন প্রদীপ নিভে যাবে তা সে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। ক্রিকেট খেলা পাগল কর্মঠ যুবক ব্যস্তময় কর্মজীবনে সুযোগ পেলে ক্রিকেট খেলা ও দেখায়ই মেতে উঠতো। মৃত্যুর আগের রাতে সবান্ধব ক্রিকেট খেলা দেখে বাংলাদেশ দলের বিজয়ে নিজ হাতে তৈরি জাতীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে আনন্দে মেতে উঠেছিল সবার সাথে। অথচ পরদিন গ্রাহক লক্ষ্মীর অবতার জেনে সেই গ্রাহকের ডাকে সাড়া দিয়ে সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের পাঠানো পিঠা দিয়ে প্রাতঃরাশ শেষে দোকানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেই যাত্রাই হয়ে উঠে তার অন্তিম যাত্রা। শত কাকুতি-মিনতি করেও সেই অন্তিম যাত্রা থেকে সে রক্ষা পায়নি। হায়রে নিয়তি! বলার অপেক্ষা রাখে না, তার এই নিয়তির জন্য দায়ী আমাদের দেশের সহিংস রাজনীতি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিপথগামী (বহিষ্কৃত কিংবা সময়ে সময়ে সাজাপ্রাপ্ত?) কর্মী-সমর্থকদের হাতে নৃশংসভাবে বিশ্বজিত্ খুন হলো। একজন নিরস্ত্র, নিরীহ, খেটে খাওয়া, স্বাবলম্বী যুবকের উপর যেভাবে হরতালবিরোধী পক্ষ চাপাতি, রামদা, রডসহ মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল তা দেখে বিশ্ব বিবেক চমকে উঠলো। গণতান্ত্রিক দলীয় সরকারের শাসনামলে এধরনের নির্দয় হত্যাকাণ্ড কোনোমতেই জাতির কাম্য নয়। আমাদের জানামতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দলের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ নামক সংগঠনের সাংগঠনিক পদ থেকে ২০০৯ সালে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রলীরে কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ ছাত্রলীগের কোনো দায় না নেয়ার কথা প্রকাশ্যে একবার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার পরেও পুলিশের নাকের ডগায় এধরনের আস্পর্ধা দেখানোর সাহস তারা কোত্থেকে পায় সেটা ভেবে দেখতে হবে। অথচ হত্যাকারীদের ছবি, নাম-ধাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও তাদের নিয়ে গ্রেফতার নাটক সাজনো সরকারের প্রশাসনিক দেউলিয়াই প্রমাণ করে। কথায় আছে তুমি অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ হবে না। মহামান্য হাইকোর্ট তাদের গ্রেফতারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। আমরা আশা করব, বিশ্বজিতের মতো নিরীহ মানুষকে রক্ষায় সরকার আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসবেন। ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী। বিশ্বজিতের মতো শ্রমজীবী তরুণের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতির আরো বড় প্রমাণ মিলল। পত্রিকার রিপোর্ট ও ছবি এবং টেলিভিশনের ফুটেজ দেখে অনায়াসেই চিহ্নিত হয়, কারা হত্যাকারী। সরকারের যদি আইনের শাসনের প্রতি সামান্যতম শ্রদ্ধাবোধ থাকে তাহলে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি মনে করি, বিরোধী মত ও দলকে রুখতে পুলিশের পাশাপাশি সরকার দলীয় ক্যাডারদের উন্মুক্ত সড়কে অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শন ও ব্যবহার প্রকারান্তরে এ সরকারের পতনকে আরো বেশি ত্বরান্বিত ও অবশ্যম্ভাবী করে তুলবে। শুধু এ সরকারই নয়, কোনো সরকারেরই নিজ দলীয় ক্যাডারদের এভাবে বিরোধী দল নিধনে ব্যবহার করা উচিত হবে না। অধ্যাপক ওমর ফারুক লন্ডন, ইউকে। স্বাধীন আকাশের নিচে হেঁটে চলা কি অপরাধ। বিশ্বজিত্ দৌড়িয়ে দোতলার বারান্দায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। কিন্তু ওরা যে খুনের নেশায় মাতাল। তারা ঘরের মধ্যে কুপিয়ে করলো রক্তাক্ত। কী নিষ্ঠুর নির্মম ঘটনা ঘটলো! এই বিজয়ের মাসে গণতন্ত্র যেন বড় অসহায়। এরই নাম কি স্বাধীনতা? শাহজাদী নীলা ইয়াসমীন খান ১৪৮, গ্রীণ রোড, ঢাকা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, অবরোধ চলাকালে পুরান ঢাকায় নিরীহ পথচারী বিশ্বজিত্ দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা করলো যে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা, যাদের ছবি মানুষ গণমাধ্যমে দেখেছে তাদের কাউকে গ্রেফতার করা হলো না কেন?। অথচ গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো বিরোধী দলের একজন শীর্ষ নেতাকে— এটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে কেউই ভালোভাবে নেয়নি। অসুস্থ রাজনীতিই দেশকে এক ভয়ংকর সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্রমেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। হরতালে নাশকতা ঠেকাতে সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বললেও তা মানুষের নিরাপত্তাহীনতার বোধ দূর করতে পারছে না। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে বিরোধী দলের সংশয় থেকেই বর্তমান পরিস্থিতি উদ্ভব হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষ চায় সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন-এর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার অপরিহার্য, নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে; কিন্তু এর মীমাংসা কেন রাজপথে হতে হবে? কেন নিরীহ তরুণকে প্রাণ দিতে হবে? বিষয়টি সংসদে বা বাইরে অন্য কোথাও সবাই বসে ঠিক করাই ভালো। স্থিতিশীল রাজনীতির জন্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির এসব তত্পরতা এখনই বন্ধ হোক। দেলোয়ার হোসেন দেলু ৯, নিউ খানপুর, নারায়ণগঞ্জ। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে দেশবাসী মর্মাহত। এ ঘটনাটি মিডিয়ার কল্যাণে চারদিকে তোলপাড় করতে সক্ষম হয়েছে। এর আগেও যুবলীগ, ছাত্রলীগের হামলায় অসংখ্য লোক আহত ও নিহত হয়েছে। সেইসব হত্যাকাণ্ডের অনেক ঘটনাই চাপা পড়ে গেছে। কিছু হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় আবার প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মওকুফও করা হয়েছে। বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ড হয়তো কিছুদিন পরই সময়ের গহীনে তলিয়ে যাবে। সামনে আসবে নতুন আরেকটি ঘটনা; কিন্তু এভাবে কি হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে? এম এ শরীফ, বনানী, ঢাকা প্রয়োজনে অরো রক্ত দেব, তবুও রাজপথ ছাড়বো না- রাজনীতিকদের এই আস্ফাালনেরই বলি বিশ্বজিত্। অথচ হলফ করে বলা যায়, বাংলাদেশের কোনো রাজনীতিকের পৈত্রিক ব্লাড ব্যাংক নেই। তবুও তারা সস্তায় রক্ত পেয়ে যায়, দলের প্রতি গোলামি-আনুগত্যের কারণে। স্বাধীন সার্বভৌম দেশে দিনে-দুপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে, প্রকাশ্যে বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ডটি আরণ্যক যুগের পৈশাচিকতাকেও হার মানায়। প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় এই হত্যাকাণ্ডটি কি তবে রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড? লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত বিজয়ের এই মাসে, তাজাপ্রাণ কেড়ে নিয়ে কারা শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে? হত্যাকারীদের নাম-ধাম-পরিচয় সুস্পষ্ট হওয়ার পরেও কেন পুলিশের কাছে অজ্ঞাত, তা দেশবাসীর কাছে বোধগম্য নয়। রাজনীতিক মানে কি চোখ থাকতে অন্ধ হওয়া? মন্ত্রী বলেন, আট জন গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ বলে না। কী চমত্কার নাটক। আমরা দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর। আমি মনে করি সবচেয়ে বড় জ্ঞান হলো বা সঠিক জ্ঞান হলো কাণ্ডজ্ঞান। প্রত্যেকে চলন-বলন, আচার-আচরণ, শব্দচয়ন ও বাক্যবিন্যাস এবং সর্বোপরি মূল্যবোধ ও বিবেকবোধ ন্যূনতম পর্যায়ে বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করলে এ রকম জঘন্যতম এবং নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার ব্যতিক্রমীভাবে দৃষ্টান্তমূলক হওয়া উচিত। নাছিরউদ্দিন সিদ্দিকী ৩৬১, খন্দকার রোড, শ্যামপুর, ঢাকা। কার কী ক্ষতি করেছিল বিশ্বজিত্ রাস্তায় প্রকাশ্যে মানুষ কুপিয়ে মারা, আগুনে পুড়িয়ে মারা- এদেশে কি কোন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নেই? আসলে দলীয় পরিচয়ে পার পেয়ে যাবে এরা। বিচার হবে না এই জঘন্য সন্ত্রাসীদের। তাহমিনা আক্তার মিনু, পিরোজপুর হাউজ, ঢাকা। কার প্ররোচনায় উত্সাহিত হয়ে খুনিরা বিশ্বজিেক হত্যা করলো তদন্ত সাপেক্ষে বের করে আইনের কাঠগড়ায় উপস্থাপন করা জাতির জন্য জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এদের ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেয়া। এ হত্যাকাণ্ড যেন জজমিয়ার কাল্পনিক গল্প কাহিনীর মতো রূপ না নেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চায় জনগণ। পথিক চৌধুরী, গাইবান্ধা। আমার মতো যারা হূদরোগ বা হাইপার টেনেশনে অসুস্থ তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড বিশ্বজিত্-এর সহ্য করতে পারবে না। সুতরাং আমি মনে করি এই দৃশ্য আর যেন আমাদের দেখতে না হয়। ডা. গুলশান আরা নাজিমুদ্দিন রোড, ঢাকা-১১০০। পুলিশের উপস্থিতি এবং তাদের অবহেলা ও উদাসীনতার জন্য নিরীহ বিশ্বজিেক ছাত্রলীগের ক্যাডাররা নিমর্মভাবে হত্যা করেছে। ভেবে অবাক হই আমরা কত বর্বর দেশে বসবাস করছি। সরকার প্রধান এ ব্যাপারে নীরব। এ বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা থাকবে না। দুর্বৃত্ত ও সরকারি দলের ক্যাডাররা যখন বিশ্বজিেক কুপিয়ে মারছিল তখন অতি নিকটে দাঁড়িয়ে পুলিশ এ দৃশ্য দেখছিল যা বেদনাদায়ক। বিশ্বজিত্-এর মৃত্যু তাই আমাদের সমষ্টিক নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের প্রতীক। মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী ১৭ গেন্ডারিয়া, ফরিদাবাদ, ঢাকা ১২০৪। হওয়া উচিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। একজন নিরীহ সাধারণ মানুষকে কীভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। লোমহর্ষক ঘটনা বটে। এটাকে যদি ছাড় দেয়া হয় তবে এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে। নাহিদা, মতিঝিল, ঢাকা। বিশ্বজিত্ হত্যায় আমরা শংকিত। এই হত্যার বিচার হওয়া উচিত। কোন দল কি করলো তা বড় বিষয়। আমরা শান্তি চাই। দেশের মঙ্গল চাই। এজন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে প্রাধান্য দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। সেলিম ফরাজি, মাদারীপুর। বিশ্বজিেক যখন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করছিল তখন মাত্র ১০ থেকে ১৫ গজ দূরে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখছিলেন পুলিশ সদস্যরা। সে সময় আশপাশে জনতা, সাংবাদিক ছিল। সবাই সেদিন যেন অক্ষম-অবশ হয়ে গিয়েছিল। মনে হয়েছে বিশ্বজিেক আমরা সবাই মিলে হত্যা করেছি। এতো সাক্ষী থাকার পরেও খুনীরা এখনো অধরা। তবে যারা এই বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের শাস্তি ও বিচারের মুখোমুখি করা গেলে জনগণের কিছুটা স্বস্তি মিলবে। বর্তমানে আইন-শৃংখলার যে অবস্থা তা থেকে ধরে নেয়া যায় বিশ্বজিতের হত্যার বিচার আমরা পাবো না। বড় জোর পুলিশ চিহ্নিত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করবে। তারপর কী হবে তা আমরা জানি। বিশ্বজিতের হত্যা দৃশ্য আমরা দেখেছি। ইতোমধ্যে এদের পরিচয় জানা গেছে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এরা কেউ ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত নয়। মাহবুবুল হক হানিফ বলেছেন, এ মৃত্যুর দায়-দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নয়। অন্যদিকে আইন প্রতিমন্ত্রী এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেছেন। এগুলো আমাদের কাছে হাস্যকর মনে হয়েছে। ক্ষমতা কি মানুষের বোধশক্তি লোপ করে দেয়? দেশের মানুষ যখন এ হত্যাকারীদের নাম-পরিচয় জেনে গেছে তখন পুলিশ আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের। সামষ্টিকভাবে সরকার দেশবাসীর অনুভূতির প্রতি পরিহাস করছে। যাহোক, এতো কিছুর পরেও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিশ্বজিতের খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন নাক্চী, সারিয়াকান্দী, বগুড়া। বিশ্বজিতের হত্যাকাণ্ডের মতো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে তা বাংলাদেশের পত্রিকায় ভিডিও ফুটেজ এসেছে। দলমত নির্বিশেষে গণতন্ত্রের স্বার্থে বিশ্বজিত্ হত্যার বিচার দ্রুত বিচার আইনে করা উচিত। মোহাম্মদ আবু তাহের ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিপোর্টার, গাজীপুর। খুব তাড়াতাড়ি আইন পাস করা উচিত হাইকোর্ট থেকে। যার হাত থেকে এ ধরনের অস্ত্র পাওয়া যাবে সাথে সাথে তার ব্যাপারে অ্যাকশান নেয়া হবে। এটা যে দলেরই হোক না কেন, তার খুব তাড়াতাড়ি বিচার হওয়া উচিত। আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে শংকিত। মাত্র কয়েকটি লোকের জন্য কেন ১৬ কোটি মানুষ ভুগবে? নাসির খান, লালমাটিয়া, ঢাকা। বিশ্বজিত্-এর হত্যাকারীদের নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কার কথা ঠিক মন্ত্রী না পুলিশের? তবে যে দলেরই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া ঠিক হবে না। মো. শওকত আলী শাহীন ডিওএইচএস, মহাখালী। বিশ্বজিত্ এর হত্যাকাণ্ড দেখে যুদ্ধাপরাধীদের উপর থেকে ঘৃণা কমে যাচ্ছে। এ এস এম এনায়েত উল্লাহ, ঢাকা। আমি ধিক্কার জানাই ঐ সকল রাজনীতিবিদ ও ছাত্র নামধারী খুনিদেরকে। যারা লাশের রাজনীতি করে ক্ষমতায় যেতে বা টিকে থাকতে চায়। ছাত্রলীগের পেটোয়া বাহিনী যেভাবে বিশ্বজিেক পিটিয়ে হত্যা করেছে তা ২০০৬ সালে লগি বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করার ঘটনাটি আমাদেরকে আবার মনে করিয়ে দিল। যা চরম মানবতার লঙ্ঘন। মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতারা যতই বিশ্বজিত্-এর খুনিদেরকে ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী বলে দাবি করেন না কেন, ‘দেশ’ টিভি টক-শোতে স্বয়ং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি অকপটেই স্বীকার করেছেন বিশ্বজিত্ হত্যার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিলটি ছাত্রলীগেরই ছিল। সংবিধান মোতাবেক রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তা-না করে তারা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়ে সারাদেশকে অস্থিতিশীল করছে। কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, মুন্সীগঞ্জ। ১৮ দলীয় অবরোধের দিন সকালে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিশ্বজিত্। এ সময়ে অবরোধ পালনকারীরা। তাকে ধাওয়া করে এক পর্যায়ে জাপটে ধরে ফেলে। এরপর কেউ কেউ রড দিয়ে পেটাতে থাকে, কেউ কোপাতে থাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে। হাসপাতালে নেবার পর কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ রকম অবস্থা চলতে থাকলে দেশের অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠবে। হিংসাত্মক এই রাজনীতি রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণে-অকারণে আমাদের রাজনীতি সহিংস হয়ে ওঠে আর এর দায়ভার বহন করতে হয় দেশের সাধারণ মানুষকে। ফারুক আহমেদ, রাজশাহী। বিশ্বজিত্-এর হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে, তাদের অবশ্যই ভিডিও ফুটেজ দেখে বের করতে হবে। এদের কারণে আমাদের রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে। ওয়াহিদ মুরাদ নেসারাবাদ, পিরোজপুর।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন