আগামী দিনের বাংলাদেশ

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪০
আগামী দিনের রাজনীতি হোক জনগণের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় বড় বুলি থেমে থাকেনি কখনো । মুখে সব রাজনীতিবিদরাই জনগণের মত ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান অবিরাম । কিন্তু আসলে বাস্তবের সাথে এইসব বাহারি প্রতিশ্রুতির কোন মিল জনগণ পায় না। নানান কথা বলে ক্ষমতায় এসে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে যায় সবাই। নিজ দল আর নেতা-কর্মীদেরকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আপামর জনস্বার্থ বিলীন হয়ে যায় প্রায়ই। ফলে প্রিয় বাংলাদেশের ধনী লোকগুলো উত্তরোত্তর আরও ধনী হচ্ছে আর গরীব অসহায় মানুষগুলোর ভাগ্য দিনের পর দিন শূন্যই থেকে যাচ্ছে । আমাদের রাজনীতিবিদদের একবার ভেবে দেখা দরকার বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো ঘুরে-ফিরে তাদের উপরেই বর্তায়। তারা যদি সেই দায়িত্বগুলো বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে পালন না করেন তাহলে বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে কারা ? তারা যদি নিজ দল, নিজ নেতা-কর্মীদের প্রাধান্য না দিয়ে আপামর জনগণকে প্রাধান্য দেন তাহলে তারা বাংলার ষোল কোটি মানুষের জন্য কাজ করার অনন্য গর্বিত দাবিদার হবেন। আমাদের রাজনীতিবিদদের মনে করা দরকার মানুষ তার কর্মের দ্বারা বেঁচে থাকে আজীবন। যদি তারা মানুষের জন্য রাজনীতি করেন তাহলে হয়ত তারা থাকবেন না কিন্তু জনগণ তাদের বাঁচিয়ে রাখবেন নিজ কর্ম স্বীকৃতিতে। আমরা সবাই একসময় চলে যাব কিন্তু টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি, ধন-সম্পদ, সঙ্গে কেউ চাইলেও নিতে পারবে না। তাই আসুন আমরা এমন কাজ করি যার সুফল ষোল কোটি মানুষ পাবে আজীবন। প্রিয় বাংলাদেশের উন্নয়নের গর্বিত একজন অংশীদার হই । ওয়ালীউল্লাহ মিঠু প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, ৪০ তম ব্যাচ, কামালউদ্দীন হল-৩২৫, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় । আমরা যদি সহমত পোষণ করি তাহলেই আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সুখী এবং উন্নত যখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন সমাজ বইতে পড়তাম ১৯৭১ সালে এদেশের সর্বস্তরের মানুষ একত্রে মিলিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন ও অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৪১ বছর পর সর্বত্র অহরহ প্রশ্ন উত্থিত হয় আমরা কি আমাদের সঠিক অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছি্। নৈরাশ্যবাদীরা সোজা-সাপ্টা বিবৃতি দেন এদেশে কিছুই হবে না। আমি নৈরাশ্যবাদীদের শিবিরে অবস্থান না নিলেও আশাবাদীদের দলেও আস্থা নিয়ে থাকতে পারছি না। এম.আর আখতার মুকুল স্যারের “আমি বিজয় দেখেছি” বইয়ের বেশ কিছু জায়গায় তিনি উল্লেখ করেছেন। আমরা যুদ্ধের ময়দান, দুঃখ, যন্ত্রণা, কান্নায় এবং মৃত্যুতে বিজয়ের দিন (১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১) পর্যন্ত সবাই একমত ছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার পর আমরা ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ এবং রাজনৈতিক কারণে দ্বিধা-বিভক্ত হয়েছি। সেই দ্বিধা-বিভক্তি ক্রমেই আরো বৃহত্তর হচ্ছে। তাহলে কিভাবে আমি আশাবাদী হতে পারি! রাজনৈতিক বিভক্তির কথা না হয় বাদ দিলাম। আমাদের তরুণদের বৃহত্তর অংশ কোন রাজনৈতিক ছায়াযুক্ত না থেকেও এতো দ্বিধা-বিভক্ত। যুদ্ধাপরাধের বিচার, ৩ নভেম্বর জেলহত্যা, ১৫ আগষ্টের হত্যাকাণ্ড, ৩০ মে হত্যাকাণ্ড— এ সমস্ত বিষয়ে কি আমরা একমত? অবশ্যই না। আমি আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যে এই বিষয়গুলোর পক্ষে/বিপক্ষে অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত যুক্তি প্রদর্শন করতে দেখেছি আর হতাশ হয়েছি। এইতো গত ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলীয় জোটের কর্মসূচির দিন বিশ্বজিত্ দাস নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করল। আমরা তরুণরা এর বিপরীতে সমস্বরে ঘৃণা প্রকাশ করতে পারিনি। এই হত্যার জন্য দায়ী কে? এই প্রশ্নের পক্ষে/বিপক্ষে আমাদের তরুণদের কত উদ্ভট যুক্তি শুনি। তখন আমি ব্যথিত হই, হতাশ হই। আমাদের তরুণরা কত উপমতে বিভক্ত, আমাদের সুশীল সমাজ কত উপ-শিবিরে বিভক্ত। আমরা এতো বিভক্ত কেন? আমরা কি বিভক্ত জাতি? প্রশ্নগুলো আমাকে নিরাশ করে তবু নৈরাশ্যবাদী হতে পারি না। বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হূদয়ে ধারণ করে সত্য শুভ্র ইস্যুতে একমত হই। হাজার শহীদের অবিভক্ত অভিন্ন স্বপ্ন পূরণে ব্রত হই। আমরা যদি সহমত পোষণ করতে পারি তাহলেই আগামীদিনে বাংলাদেশ সুখী, সুন্দর হবে, না হলে মুদ্রার উল্টো পিঠ—অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলা। যা আমরা কেউ প্রত্যাশা করি না। ধৈর্য ইংরেজি বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ, সরকারি সা’দত কলেজ, করটিয়া, টাঙ্গাইল। আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে হলে নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে হবে ব্যক্তির পরিবর্তনের মাধ্যমে আগামীদিন বাংলাদেশের পরিবর্তন সম্ভব:বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা যদি আমাদের দেশ, জাতি ও সমাজের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে স্পষ্ট বলা যায় যে, যারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে উঁচু গলায় বক্তৃতা করে, যারা জনগণকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা মূলত সেই প্রতিশ্রুতিকে দেশের জন্য নয়, জনগণের জন্য নয়, নিজের জীবনে তার বাস্তবতা ঘটায়। তারা জনগণের জন্য যতটুকু চিন্তা করে তারচেয়ে অধিকহারে চিন্তা করে নিজেকে নিয়ে। তাই আমি বলব- আমরা যদি সত্যিই সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই তাহলে আমরা নিজেদেরকে পরিবর্তনের মাধ্যমেই জাতির পরিবর্তন করতে সম্ভব হব। ইনশাল্লাহ। মো. শাহাদ হোসাইন ভর্তিচ্ছুক অনার্স ১ম বর্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন প্রজন্ম একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ দেখতে চায় বাংলাদেশে সাধু মানুষের অভাব নেই। যারা শুধু মুখে বড় বড় কথা বলে। কাজে প্রমাণ রাখতে পারে না। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য কত ধরনের কৌশল রয়েছে তা বাংলাদেশের কালো রাজনীতির চিত্র দেখলে বুঝা যায়। অর্থ এবং ক্ষমতার অপশক্তির কারণে প্রকৃত মেধাবী লোকেরা যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে পারে না। মুখে গণতন্ত্র বললেও আসলে গণতন্ত্রের চর্চা থেকে আমরা অনেক দূরে। কেউ স্বাধীনতার ঘোষক, কেউ স্বাধীনতার জনক— এনিয়েই চলছে রেষারেষি। গণতন্ত্র এবং পরিবারতন্ত্র থেকে বের না হলে কখনই দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। বর্তমান রাজনীতি ছাত্রসমাজকে ধ্বংস করছে। শিক্ষার্থীদের ধারণা- ভবিষ্যতে চাকরি পেতে হলে বড় দু’দলের যে কোনটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ফলে পড়াশুনা বাদ দিয়ে তারা রাজনীতির কালো ছায়ায় প্রবেশ করে। এমনকি শিক্ষকরাও এ বৃত্তের বাইরে নয়। প্রকৃত দেশপ্রেমিক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বড় দু’টি দলই জনগণের কল্যাণের কথা বলে। ক্ষমতায় গেলে নিজেদের কল্যাণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এরা কখনও শুনতে চায় না জনগণ তাদেরকে কতটা ঘৃণা করে। দেশের সরকারি বেসরকারি প্রত্যেকটা বিভাগ যেন দুর্নীতির আখড়া। নতুন প্রজন্ম একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ দেখতে চায়। পরিবর্তন চায়। বিশ্বের অন্য দেশগুলো যখন উন্নয়নে ব্যস্ত বাংলাদেশ তখন দুর্নীতির রেকর্ডে শীর্ষে। জনগণের দুর্ভোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, বেকারত্ব বেড়েই চলছে। আমার মতে- সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে দল মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক দলগুলো যদি একই মঞ্চে উপবিষ্ট হয় তাহলে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর হবে। একটি উন্নত শান্তিময় দেশ হিসাবে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে। মো. জসিমউদ্দিন বাদল এমবিএ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন