বাঙালি জাতি তার সহস্র বছরের সাধনা শেষে ১৯৭১ সালে নিজস্ব স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের আইনগত গোড়াপত্তন করেছিল এবং আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে তা করেছিল। ৪১ বছর আগে একাত্তরের ১০ এপ্রিল বাঙালি তার রাষ্ট্র গঠন শুধু নয়, সে রাষ্ট্রের স্বাধীনতার সনদপত্র ঘোষণা এবং বাঙালির প্রথম সরকার গঠন করেছিল এই দিনে। বাংলার ইতিহাসে একাত্তর সালের এই দিনটি এক গুরুত্বপূর্ণ দিবস হিসেবে বাঙালির মনে গেঁথে আছে। যদিও আজ তা উপেক্ষিত। পাক হানাদার বাহিনীর ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরুর ১৫ দিনের মাথায় বাংলাদেশ সরকার গঠন শুধু নয়, দেশের নামকরণও করা হয়েছিল ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১০ এপ্রিলকে মূল্যায়ন করা হলে দেখা যাবে, ইতিহাসের দিক থেকে ১৭ এপ্রিলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। ১০ এপ্রিল গঠিত সরকার ১৭ এপ্রিল শপথ নিয়েছিল। বাঙালির কাছে এই দু’টি দিনই গুরুত্ববহ ছিল সেই একাত্তরে।
সত্তরের নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যরা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল কুষ্টিয়া সীমান্তের মুক্তাঞ্চলে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে মিলিত হন। এই অধিবেশনে স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের অনুসমর্থন দান করা হয়। রাষ্ট্রের নাম নির্ধারণ করা হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে গঠন করা হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এর সাতদিন পর ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে নবগঠিত সরকার শপথ গ্রহণ করে। গণপরিষদের অধিবেশনে ১৯২ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা সনদ ঘোষণার পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী ও অপর ৩ জনকে মন্ত্রী করে সরকার গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপতিকে একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে উপ-রাষ্ট্রপতি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সরকার গঠনের পরপরই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের প্রথম কেবিনেট সচিব ছিলেন হোসেন তওফিক ইমাম (এইচ টি ইমাম)। যুদ্ধপূর্ব সময়ে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ছিলেন। তিনিই প্রথম রামগড় সীমান্তে প্রতিরোধদুর্গ গড়ে তুলেছিলেন। ১০ এপ্রিলকে মূল্যায়ন করে লিখেছেন, ‘তাজউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের এমএনএ এবং এমপিএদের কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তে অধিবেশন আহ্বান করেন। অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মুক্তিযুদ্ধের সরকার পরিচালনার জন্য মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হয়। এই মন্ত্রী পরিষদ এবং এমএনএ ও এমপিএগণ ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেন।’ ১০ এপ্রিল ঘোষিত ও অনুমোদিত স্বাধীনতার সনদপত্রে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা রক্ষা, অসামপ্রদায়িকতা, মানবিক মর্যাদাবোধ সমুন্নত রাখার জন্য সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার করা হয়। এই সনদপত্রের ভিত্তিতেই পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। সংবিধানে এই সনদপত্রও সন্নিবেশিত করা হয়। সনদপত্রে বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জন ও আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থাত্ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম গণপরিষদের সভায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে বাংলার মাটি থেকে নির্মূল ও উচ্ছেদ করার বিষয়ে সদস্যরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। সেদিন স্বাধীন- সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, পাকিস্তানি শাসন ও অত্যাচারের অবসান, শোষণমুক্তি এবং জনগণের রায় বাস্তবায়নের শপথ নেয়া হয়। এই সরকারের পরিচালনায়ই দীর্ঘ নয় মাস বীরত্বপূর্ণ সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ত্রিশ লাখ মানুষের আত্মদান ও অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় লাল- সবুজের পতাকা শোভিত বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের প্রথম সরকার ইতিহাসের এক সফল সরকার হিসেবে নির্দিষ্ট হয়ে আছে। একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠিত বিপুল অস্ত্রসম্ভারে সজ্জিত দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দান, অস্ত্র সংগ্রহ, যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ, কূটনৈতিক তত্পরতা পরিচালনা, প্রশাসন গঠন করে একটি স্বাধীন দেশ বিশ্ব মানচিত্রে উপহার দিয়েছিল।
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ থেকে এই ঘোষণাপত্র কার্যকর হবে। এই ঘোষণাপত্রের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরদিনই ১১ জানুয়ারি অস্থায়ী সংবিধান ঘোষণা করেন। যার ভিত্তিতে বাহাত্তরের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ঘোষিত ও গৃহীত স্বাধীনতার ঘোষণা বা সনদপত্র ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ গণপরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবের পক্ষে বক্তৃতাকালে বলেন: “তারা (পাক হানাদাররা) অতর্কিতে ২৫ মার্চ তারিখে আমাদের আক্রমণ করলো। তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, আমাদের শেষ সংগ্রাম শুরু হয়ে গেছে। আমি ওয়ারলেসে চট্টগ্রামে জানালাম, বাংলাদেশ আজ থেকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এই খবর প্রত্যেককে পৌঁছিয়ে দেওয়া হোক, যাতে প্রতিটি থানায়, মহকুমায়, জেলায় প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে উঠতে পারে। সেইজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছিলাম।....দেশবাসী জানেন একই তারিখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এটা হাওয়ার উপর থেকে হয় নাই। যদি কোন নির্দেশ না থাকতো তবে কেমন করে একই সময়ে, একই মুহূর্তে সব জায়গায় সংগ্রাম শুরু হলো?” যথারীতি আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার যে ঘোষণা মুজিবনগর থেকে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বীকৃত ও সমর্থিত হয়েছিল, এই সঙ্গে এই গণপরিষদ তাতে একাত্মতা প্রকাশ করছে।” ইতিহাসের সত্য এই যে, নিয়মতান্ত্রিক সুনিয়মিত ধারাবাহিক বিকাশের মধ্যে অভ্যুদয় হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের, যা একটি সাংবিধানিক উত্স। এই উত্সস্থল হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন, তার সরকার গঠন এবং স্বাধীনতা সনদ ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে একটি নতুন বৈধ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়েছিল। সারা বিশ্ববাসী জেনেছিল বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত সরকার তার দেশকে হানাদারমুক্ত করতে চায়। চায় গণহত্যা বন্ধ করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে। স্বাধীনতার ঘোষণা, সরকার গঠনের খবর ১০ এপ্রিল বিকালে প্রথম প্রচারিত হয় আকাশবাণীর কার্সিয়ং ও শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে। তারপর কলকাতা ও দিল্লী কেন্দ্র হয়ে বিবিসিসহ বিশ্বের অন্যান্য গণমাধ্যম এই খবর প্রচার করে। এই খবর অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এবং যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সাহস, আশা, আস্থা, ভরসা ও বিজয়ের মনোভাব তৈরি করে। সারা বাংলাদেশের মানুষ শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। কানে তাদের বেজে ওঠে ৭ মার্চের ভাষণের নির্দেশনাবলী। কণ্ঠে ধ্বনিত হতে থাকে ‘জয়বাংলা’। বীর বাঙালি সেদিন অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাঙালি জাতির জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। বাঙালির দীর্ঘ সাধনার রাষ্ট্রটির গোড়াপত্তন, তার স্বাধীনতার সনদ, দেশের নাম, মনোগ্রাম এবং প্রথম সরকারও গঠিত হয়েছিল এই দিনে। আর এই দিনের পথ ধরেই ১৭ এপ্রিল সরকার শপথ নিয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষণায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ‘আইনের ধারাবাহিকতা প্রয়োগ আদেশ-১৯৭১’ জারি করেছিলেন। “আমি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের উপ-রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলে অনুমোদিত স্বাধীনতার ঘোষণায় আমাকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই মর্মে আদেশ প্রদান করছি যে, বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হওয়ায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে যেসব আইন ও বিধি- বিধান কার্যকর ছিল সে সমস্তই প্রয়োজনীয় অবস্থাগত পরিবর্তনসহ পূর্বোক্ত ঘোষণা সাপেক্ষে বলবত্ থাকবে এবং সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেসামরিক, সামরিক, বিচার বিভাগীয়, কূটনৈতিক যারা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করবেন তারা সকলেই তাঁদের স্ব স্ব পদে চাকুরীবিধির শর্তানুযায়ী যেভাবে কর্মরত ছিলেন তাঁরা সেভাবেই কর্মরত থাকবেন এবং বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডের সকল জেলা জজ ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যত্র কর্মরত কূটনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দ তাঁদের আওতাধীন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মাচারীদের আনুগত্যের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার ব্যবস্থা করবেন। এই আদেশ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।” বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধান ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি শুধু নয়, বাঙালির স্বাধীন সত্তা, স্বাধীনতার সুফল—সবই লুণ্ঠন করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্মৃতি, স্থাপনা। কিন্তু সাংবিধানিক ভিত্তিকে এড়িয়ে এই বিতর্ক চালানো হচ্ছে ৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে। তারা এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল্যবোধকে নস্যাত্ই করছে। ঐতিহাসিক সত্য যে, স্বাধীন বাংলাদেশের আইনগত ভিত্তি ১০ এপ্রিল, ১৯৭১-এর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। প্রথম সরকারের কেবিনেট সচিব এইচ টি ইমাম উল্লেখ করেছেন, ‘আইনের ধারাবাহিকতা প্রয়োগ আদেশ-১৯৭১’ সকল বিতর্ক অবসানে এক অকাট্য দলিল। এ সত্যকে ইতিহাসের পাতা থেকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। মুখের কথায় বা টেবিল চাপড়িয়ে সত্যকে উত্খাত করা যায় না, যাবে না। নতুন প্রজন্মকেও এই সত্য অনুধাবন করেই বাংলাদেশের অভ্যুদয় সম্বন্ধে ইতিহাসের পাঠ মেনে নিতে হবে। স্বীয় বা বিশেষ একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করতে সত্যকে বিকৃত করে ছোট হওয়া অপেক্ষা সত্যকে প্রতিষ্ঠা করাই শ্রেয়। এতেই জাতির মঙ্গল ও কল্যাণ হবে।
ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে বিশ্বের মানচিত্রে দু’টি দেশ। দু’টি ঘোষণারই মৌল বিষয় স্বাধীনতা, শৃঙ্খলমুক্তি, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদাবোধ ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার। অবশ্য কিছুটা ভিন্নতা আছে। বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণার পর দখলদার বাহিনীকে সশস্ত্র যুদ্ধে পরাজিত করে বিজয় রক্ষা করতে হয়েছে। আর ১৭৭৬ সালে ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ, ত্রাসন, নিপীড়ন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সনদ ঘোষণা করেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি অঙ্গরাজ্য এবং উপস্থিত ৩৪ জন কংগ্রেস সদস্য স্বাধীনতা সনদ গ্রহণ ও অনুমোদন করেছিলেন। এর প্রায় দু’শ বছর পর ১৯৭১ সালে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙ্গা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়। ২০১২’র বিজয় দিবসে স্মরণে আসে এই ইতিহাস।
লেখক:কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক।
