আগামী দিনের বাংলাদেশ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫২
০০০ আগামীদিনের বাংলাদেশ হবে খুব ভয়াবহ আগামীদিনের বাংলাদেশ কেমন হবে তা ভাবতে পারছি না কারণ বর্তমানে যে দিন-কাল যাচ্ছে তা বলার মত নয়। পৃথিবীতে প্রতারণা বেড়ে গিয়েছে, কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা সবাই ভুলে গিয়েছে। কারণ এখন মানুষের মত বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। একটা কথা না বললেই নয়, আগে দেখতাম ছোটরা যে বড়দের সম্মান করতেন এখন বর্তমানে কেউ কেউ তা মানছেন না। ছোটরা বড়দের গায়ে হাত তুলছেন। বাবা-মা’র মত বয়সীদের অপমান, মারধর আরো কত কি বর্তমানে চলছেই তো চলছে। কিন্তু আগামীদিনে বাংলাদেশে আমার মনে হচ্ছে খুব ভয়াবহ অবস্থা হবে। কারণ বর্তমান সরকার অতীতকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া করছে। আবার নতুন সরকার এসে অতীতকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া চালাবেন। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে আমাদের মত পাবলিক যারা তাদের কি হবে। সেটা কি দু’নেত্রী চিন্তা করে দেখেছেন? একটুও চিন্তা করেননি আমার তা মনে হয়। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ এত গরীব হয়ে থাকতো না। কারণ বাংলাদেশে আমাদের সবই আছে- তাহলে সেগুলো কাজে লাগালে তো আমদের পিছনে থাকতে হয় না। দু’নেত্রীর রেষারেষি বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের মত সাধারণ পাবলিক যারা, তারা জমিনের বুকে ভালমতো খেয়ে-দেয়ে বাঁচতে পারবে। কিন্তু এখন দেখেন যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছে সেটা তো কেউ কমাতে পারবেন না, কিন্তু এই কথাটা চিন্তা করা উচিত যে, যারা গরিব মানুষ তারা কিভাবে জীবনযাপন করছেন, তাদের ছেলে-মেয়ে আছে, লেখা-পড়া করতে কষ্ট হয়, বিয়ে দিতে কষ্ট হয়। তাহলে তাদের বাবা-মা কিভাবে চিন্তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন আর বিশ্বাস ত্যাগ করলে তো ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যত্ শেষ। মো. মোশারফ হোসেন সোহাগ ২য় বর্ষ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। ০০০ দরিদ্রতা কমিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করলে আগামীদিনের দেশ আরো সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যে সমস্যা তা হলো দরিদ্রতা। দরিদ্রতার কষাঘাতে একের পর এক শিশু অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যাচ্ছে। বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার শিশু। আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষ্যত্। অথচ সেই শিশুরাই নিজের অজান্তে চিরচেনা আলোর পথ থেকে অচেনা এক অন্ধকার জগতে চলে যাচ্ছে। শুধুমাত্র দারিদ্র্যের কারণে। বাংলাদেশ বিশ্বের ১১তম গরীব রাষ্ট্র, বর্তমানে বাংলাদেশে ৮১ শতাংশ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে। পরিকল্পনা নিয়ে এই দারিদ্র্যসীমা শূন্যের কোঠায় আনতে হবে। এই দরিদ্রতা দূর করা কোন একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। তার জন্য আমাদের সবাইকে সম্মিলিত হয়ে কাজ করতে হবে। নিজে বাঁচলে বাপের নাম— এই নীতি ত্যাগ করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। শিক্ষার হার ১০০% নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্রতা কমানোর জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি, কোন দেশ উপরে উঠতে পারে না, কখনো পারেনি আর পারবেও না কোনদিন। শিক্ষাই পারে কোন জাতিকে তথা পুরো দেশকে উন্নতির সুুউচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে। সমাজে যারা অবহেলিত তাদের দিকে সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। বৃটিশ কবি উইলিয়াম ক্লেক বলেছেন, পাখি কেবল নিজের ডানায় ভর করেই উড়তে পারে না। সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষ যদি দরিদ্র, অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়,তাহলে আশা করি দরিদ্রতা অনেক কমে যাবে। আমরা পিছিয়ে পড়া জাতি নই, বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি আমরা। সর্বোপরি বাংলাদেশে দরিদ্রতার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে পারলে ও শিক্ষার হার ১০০% নিশ্চিত করেতে পারলে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। কবির খন্দকার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০ দেশকে ভালবাসুন তাহলেই আগামীর বাংলাদেশ উন্নত হবে রাজনীতি দেশসেবার একটি অন্যতম মাধ্যম। কেউ যদি দেশ বা দশের ভাল করতে চায় তাহলে তার একটি অন্যতম পথ রাজনীতি। আমার মতে- রাজনীতি তাদেরই করা উচিত যারা অনেক মেধাবী। কারণ একজন ছাত্র পাস করে বের হয়ে যদি চাকরি পায় তবে সে শুধু সেই জায়গায়ই কাজ করে। যেমন: ব্যাংকার। যিনি শুধু তার অফিসের কাজই পরিচালনা করেন। তাকে শুধু তার অফিস নিয়ে ভাবলেই চলে। কিন্তু একজন ভালমানের রাজনীতিবিদ যিনি কিনা সারাদেশের হাল ধরতে পারেন, তাঁর একটা ছোট-খাটো পরিসর নিয়ে ভাবলে চলে না বা চলবে না। তাই যারা রাজনীতি করবেন তাদের অবশ্যই অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীর চেয়ে বেশি মেধাবী হতে হবে। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা প্রায় সবাই পেছনের সারির ছাত্র। ভাল ছাত্র-ছাত্রীরা একপ্রকার ভয়ই রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছে না। আমি নেতাদের তবু বলবো, আপনারা দেশকে ভালবাসতে শিখুন, দেশের মানুষকে বড় করে দেখেন। তাহলেই দেশ সুন্দর হবে, আগামী হবে কুসুমাস্তীর্ণ। জান্নাতুল ফেরদৌস ২য় বর্ষ,গণিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০ প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি ছেড়ে দেশের কথা ভাবলেই দেশ এগিয়ে যাবে কিছুদিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে গেল। নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী বারাক ওবামা বিজয় লাভ করলে বিজিত প্রার্থী মিট রমনি তা মেনে নেয়। শুধু তাই নয়, তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দনও জানান। তা কি আমাদের দেশে কখনো সম্ভব? আমাদের দেশের ৪১ বছরের ইতিহাসে কখনো কি তা হয়েছে? বর্তমানে আমাদের দেশের রাজনীতি হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। প্রত্যেক দল ছাত্র সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করছে তাদের দলের লেজুড়বৃত্তির কাজে,সন্ত্রাসের কাজে। অদ্ভূত আমাদের দেশের রাজনীতি, রামুর এত বড় একটা ঘটনায় ছারখার করে দিল রামুর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জীবন ও জনপদ। তা নিয়েও চলে আমাদের রাজনীতি। সরকার ও বিরোধীদল নামে তাদের চিরাচরিত কথার খেলায়,তাদের নোংরা কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে। কিন্তু আমরা স্বাধীনতার পরবর্তী প্রজন্ম, চাই না এই প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি। আমরা চাই সুন্দর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। যে দেশের জন্য আমাদের পিতা মুক্তিযুদ্ধ করেছে। নয়ন কান্তি দাশ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন