ফিলিপাইনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৩
সম্প্রতি ফিলিপাইনে আঘাত হানে শক্তিশালী টাইফুন বোপা। ফিলিপাইন সরকারের হিসাব অনুযায়ী ও সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইহাতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াইয়াছে নয় শতাধিক। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়িবার আশংকা করা হইতেছে। কেননা এখন পর্যন্ত বোপায় সৃষ্ট আবস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ রহিয়াছেন ছয় শতাধিক। চলতি মাসের চার তারিখে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানিলেও উদ্ধার তত্পরতা তেমন গতিশীল ছিল না। জানা যায়, ফিলিপাইনের বহুল পরিচিত অঞ্চল মিন্দানাওয়েই নিহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বাধিক। তাহাছাড়া টাইফুনে দেশটির দেড় লক্ষ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হইয়াছে। ৮০ হাজার মানুষ সরকারি আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়াছেন। জাতিসংঘ টাইফুন বোপায় ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিপাইনের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিকট ছয় কোটি ৫০ লক্ষ ডলারের অর্থসহায়তার আহ্বান জানাইয়াছে। উল্লেখ্য, গত এক দশকের মধ্যে মিন্দানাওয়ে আঘাত হানা সবচাইতে শক্তিশালী টাইফুন এই বোপা। স্থানীয়ভাবে যার নাম পাবলো। অবশ্য গত বত্সর এরকম এক ঘূর্ণিঝড়ে নিহত হয় ১২ শত মানুষ। তবে এবার নিহতের সংখ্যা তাহাকে ছাড়াইয়া না গেলেও আর্থিক যে ক্ষতি হইয়াছে তাহা বিপুল। কোন কোন অঞ্চলের ৯০ ভাগ বাড়িঘর ধ্বংস বা বিলীন হইয়া গিয়াছে। কারণ এবার সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ৫২ ফুট। তাই অনেকেই কিছু বুঝিয়া উঠার আগেই জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়েন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সম্প্রতি কয়েক মাসে ফিলিপাইনে আরও ক্ষয়ক্ষতি হইয়াছে। গত আগস্টে ৮০ ও অক্টোবরে মারা যান ২৭ জন। এই উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত ফিলিপাইনের পার্শ্বে সকলের দাঁড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্য দেশগুলির যথাসম্ভব সাহায্যের হাত বাড়াইয়া দেওয়া উচিত। ফিলিপাইন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশ যেমন বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত, তেমনি ফিলিপাইন অবস্থিত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের নিকট। সাধারণত এতদঞ্চলে মে মাস হইতে নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালকে বলা হয় প্যাসিফিক টাইফুন মৌসুম। এসময় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর স্বাভাবিক কারণেই উত্তাল থাকে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক সাংবাত্সরিক লাগিয়াই থাকে। কখনও তাহার মাত্রা থাকে বেশি, কখনও বা কম। সাগরের পার্শ্বে বসবাস করিতে হইলে এরূপ সংকট থাকিবেই। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে যাহারা বসবাস করেন, তাহারা এরকম শত দুর্যোগ দেখিয়াই জন্ম নিতেছেন ও বাড়িয়া উঠিতেছেন। প্রকৃতির সহিত পাল্লা দিয়া কেহ কখনও জিতিতে পারে নাই। তাই যথাসম্ভব আত্মরক্ষার ব্যবস্থা অবলম্বনই শ্রেয়। আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ ও উন্নতি বিধানের মাধ্যমেই বাঁচিয়া থাকার চেষ্টা করিতে হইবে। ফিলিপাইনের মিন্দানাও একটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল। ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়া আরবদের সহিত তাহাদের সাদৃশ্য আছে। তাহারাই এবার টাইফুনে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হইয়া মানবেতর জীবন যাপন করিতেছেন। অতএব, আমরা ফিলিপাইনে টাইফুন বোপায় হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং সাহায্য-সহযোগিতার আহ্বান জানাই।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন