শিশুদের বাঁচাতে প্রাণ দিলেন শিক্ষিকা

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৭
এক তরুণকে হঠাত্ ক্লাসরুমে ঢুকে বন্দুক তুলতে দেখেই বিপদ আঁঁচ করেছিলেন শিক্ষিকা ভিক্টোরিয়া সটো। পেছনে থাকা সারি সারি শিশুর নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজের শরীর দিয়ে তাদের আড়াল করার চেষ্টা করেন তিনি, বুক পেতে দেন গুলির সামনে। মুহূর্তেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। কিন্তু তার আত্মত্যাগে বেঁচে যায় বহু শিশুর প্রাণ। শুধু শিক্ষিকা ভিক্টোরিয়া সটো নয়, শিশুদের জীবন বাঁচাতে সেদিন আরও দুই শিক্ষিকা প্রায় একইভাবে প্রাণ দিয়েছেন। এদিকে কানেকটিকাটের স্কুলে আততায়ীর গুলিতে নিহত শিশুদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের সকলের বয়স ৬ থেকে ৭ বছরের মধ্যে। তাদের অনেককেই ওই দুর্বৃত্ত মৃত্যু নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকবার গুলি চালিয়েছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও আল জাজিরার। গত শুক্রবারে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট রাজ্যের নিউ টাউন স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে ঘাতক অ্যাডাম লানজারের (২০) বন্দুকের গুলিতে ২০ শিশুসহ ২৬ জন নিহত হয়। এতে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে নেমে আসে শোকের ছায়া। চোখের পানি আটকাতে পারেননি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। কানেটিকাট রাজ্য পুলিশের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট পল ভান্স জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১৮ শিশুর লাশ উদ্ধার করে, যাদের বয়স ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরো দুই শিশুর। সেসঙ্গে হামলাকারীসহ সাতজন বয়স্ক ব্যক্তিরও লাশ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ২৮ জন বলে পল ভান্স জানান। অ্যাডাম লানজা গুলি চালানোর পর আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে সে স্কুলশিশুদের হত্যা করলো, তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ বলছে, অ্যাডাম এই হত্যাযজ্ঞে যে দুটি অগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে, সেগুলো তারই মায়ের। সেমি-অটোমেটিক এসব অস্ত্র খুবই শক্তিশালী। তার মা বন্দুক সংগ্রহ করতেন। বাসায় মাকে হত্যার পরই অ্যাডাম ছুটে যায় স্কুলে। নিহতদের স্মরণে রাতে নিউ টাউনের সেইন্ট রোজ অব লিমা ক্যাথলিক চার্চে সমবেত হয় স্থানীয়রা। মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রিয়জনকে স্মরণ করে স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা। এ সময় ওই গির্জায় দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। কানেটিকাট ছাড়াও নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, রোডআইল্যান্ড, পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসিসহ বিভিন্ন স্থানে শনিবার সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক প্রকাশ করা হয়।