অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় পাক-হানাদারবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত ১৩ জনের বধ্যভূমিটি। স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪১ বছর পার হয়ে গেলেও পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে একসাথে নিহত ১৩ জনের পরিবার-পরিজনদের কেমন কাটছে দিন তার খোঁজখবর রাখার প্রয়োজন মনে করেনি ইতিপূর্বেকার কোন সরকার। ১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল হানাদারবাহিনীর সেনারা তত্কালীন পটিয়া থানার দোহাজারীর জামিজুরী গ্রামে এ অমানবিক হত্যাকাণ্ড চালায়। আর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একই সাথে নিহত হন ওই গ্রামের ডা. বগলা প্রসাদ ভট্টাচার্য, মাস্টার প্রফুল্ল রঞ্জন ভট্টাচার্য, তারা চরন ভট্টাচার্য, মিলন কান্তি, বিমল দাশ, বিশ্বেসর ভট্টাচার্য, করুনা চৌধুরী, অমর দাশ, হরি রঞ্জন মজুমদার, রেনুবালা ভট্টাচার্য, নগেন্দ্র রানী, মনিন্দ্র দাশ ও রমনী দাশ নামের ১৩ জন। পরে পাশের গ্রামের লোকজন এসে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ১৩ জনের লাশ একত্রিত করে একসাথে একটি গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৩ জনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য স্থানীয় ক’জন প্রগতিশীল তরুণের অক্লান্ত পরিশ্রমে মাটিচাপা দেয়া ওই স্থানে একটি বেদী নির্মাণ করে গড়ে তোলা হয় একটি বধ্যভূমি। বধ্যভূমি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত অযত্ন-অবহেলা ও অরক্ষিত অবস্থায় এটি পড়ে আছে। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাফর আলী হিরু বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহত্ বধ্যভূমিটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা সত্যই দুঃখজনক। বর্তমান সরকারের গঠিত বধ্যভূমি চিহ্নিতকরণ কমিটি থেকে এ ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা হয়েছে।
