০০০
এদেশ আমাদের মা,
মাকে বাঁচাতেই হবে
আমরা জানি, ২৬৬ দিনে মায়ের পেটের বাচ্চাও জন্ম হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ২৬৬ দিনে। যদি প্রশ্ন করি এ কি করে সম্ভব হয়েছে? তাহলে আমি বলবো, সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণেই সম্ভব হয়েছে। কারণ ‘একতাই বল’। তাছাড়া এদেশ আমাদের মা, মাকে বাঁচানোর জন্য ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশের জন্য, দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য অস্ত্র হাতে নিয়ে রক্তে রঞ্জিত হয়েছেন, শত্রুদের হাত থেকে এ দেশকে মুক্ত করেছেন মায়ের মতো ভালোবেসে। স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ আমাদের উপহার দিয়েছেন। তাদের ত্যাগ চির অম্লান, চিরভাস্বর, চিরঞ্জীব। আমরা তাদের কাছে চিরঋণী। ৩০ লক্ষ শহীদের আর ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এবং একতার কারণে এদেশ পেয়েছি। এ করুণ ইতিহাস বাঙালি জাতিকে ভুলে গেছে চলবে না। আমরা যুদ্ধের ময়দান, দুঃখ, যন্ত্রণা, কান্নায় এবং মৃত্যুতে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সবাই একমত ছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার পর আমরা ব্যক্তিস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ এবং রাজনৈতিক কারণে আজ বিভক্ত হয়েছি। আর দিন দিন এ বিভক্ত মহাপর্বত হিমালয়কে ছাড়িয়ে গেছে। আর এ কারণে কিছুদিন আগে বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মিছিল থেকে ককটেল ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, বেশ কিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। হরতাল, অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের উন্মত্ততা, উগ্রতা, গাড়ি ভাংচুর, আগুন জ্বালানোর ঘটনা এবং লাঠিপেটার কারণে কয়েকজনের তাজা প্রাণ, কয়েকশ’ আহত, সারাদেশে অসংখ্য গাড়ি, দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের কর্মস্থলে যাওয়া-আসা নিয়ে প্রচুর ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ঠেলে গন্তব্যে গেছেন। তাছাড়া সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকের গাড়ি ও যন্ত্রপাতির অনেক ক্ষতি হয়েছে। এমনকি ৩৩তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা আরও আগেই সংঘটিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের এবং ১৮ ডিসেম্বর হরতাল থাকার কারণে ঐদিনের পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। রাজনৈতিক দলের স্বার্থ ভুলে গিয়ে, দেশের স্বার্থে, দেশের কল্যাণে, দেশের মানুষের কথা মাথায় রেখে দয়া করে আপনারা রাজনীতি করুন। হরতাল, অবরোধ দিয়ে দেশের বুক, মায়ের বুক ক্ষতি করে প্লিজ রাজনীতি করবেন না। কারণ দেশটা আমাদের মা, মায়ের চোখে এ দেশটাকে দেখা উচিত। তবেই এ দেশ আগামীতে এগিয়ে যাবে।
খাজা মাহদী
ফটোগ্রাফি কোর্স,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০
আগামীতে বাংলাদেশে দেখতে
চাই সুস্থধারার রাজনীতি
যুদ্ধাপরাধী। একাত্তরের সেই মানুষরূপী বর্বররা, যারা নিঃসংকোচে চালিয়েছিল নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, লুটতরাজ এবং কেড়ে নিয়েছিল নারীদের সম্ভ্রম। এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করাটা এখন সকলের প্রাণের দাবি। স্বাধীনতার পর থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের চেষ্টা চলছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সে সময় ট্রাইব্যুনালও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বিচার করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। সাঈদ আহমেদের ‘সেই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী’ লেখনী থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য তত্পর হয়েছিল তখন পাকিস্তান সরকার এ বিচার বাধাগ্রস্ত করার জন্য নানা তত্পরতা চালাতে শুরু করেছিল। পাকিস্তানে আটকেপড়া বাঙালিদের তারা জিম্মি করে, এমনকি কিছু বাঙালিকে ক্যাম্পেও আটকে রাখে এবং পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দেয় পলায়নরত বাঙালিদের ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেয়া হবে। তখন কিছু পাকিস্তানি বাঙালিকে ঘর থেকে ডেকে ধরিয়ে দিত পুরস্কারের লোভে। পাকিস্তান সরকারের এ ধরনের আচরণের প্রেক্ষিতে তখন বঙ্গবন্ধু বারবার বিবৃতি দেন, “এ বিচার কোন প্রতিহিংসাপরায়ণমূলক নয়, এটির উদ্দেশ্য ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা।’ কিন্তু তারপর তাদের কাছ থেকে কোন সাড়া মিলছিল না। বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের পথে এগুনোর জন্য সব সময় সাহস, শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তাই জানা যায়। দেশ আমাদের, মা আমাদের। তাই দেশে মর্যাদা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য হলেও আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে এই বিচার সকলের কাছে যেন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে এই স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বিচার ব্যবস্থার জন্য চাই সকলের একাত্মতা। এক্ষেত্রে সকল স্বার্থকে ঊর্ধ্বে রেখে, স্বাধীনতার ডাকে আমরা যেমন একত্রিত হয়েছিলাম, তেমনিভাবে আবার একত্রিত হয়ে মাতৃভূমিকে কলঙ্কমুক্ত করব, এই স্বপ্ন নিয়েই পথ চলা।
নিরন্তর জিতু
১ম বর্ষ, নাট্যকলা বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০
দুর্দিনে দেশকে সামাল দিতে বদ্ধপরিকর
প্রত্যেক দেশের মানুষই চায় তাদের দেশকে উন্নতির পথে ধাবিত করতে। দেশের জন্য ভালোবাসা আছে বলেই দেশমাতৃকার টানে মানুষ এগিয়ে আসে। এই ভাবনা ব্যক্তিগতভাবে আমারও যে নেই, তা নয়। কিন্তু ভবিষ্যত্ বাংলাদেশকে দেখার চেয়ে বর্তমান বাংলাদেশকে দেখার মধ্যে অনেকেই বেশি ভাবেন। যুগ যুগ ধরে এদেশের মানুষ শোষণ ও বঞ্চনা থেকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছে। তাদের সংগ্রাম এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়ায় যে, যে কোন অপশক্তি তাদের কাছে মাথানত করতে বাধ্য। বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তাবিদ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দেন। অথচ বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তাদের চিন্তাকে তো কোন গুরুত্ব না দিয়ে বিদ্রূপ আকারে ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হবে, যে দেশে কখনো সন্ত্রাসনীতি কায়েম হবে না, মানুষ পাবে সঠিক বিচার, মানুষ পাবে জীবনের অধিকার, মানুষ পাবে নিরাপত্তা, মানুষ পাবে চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সম্মানজনক জীবিকা। তাই প্রকৃত মনোভাব দিয়েই দেশের হাল ধরতে হবে। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছি।
আকাশ আহমেদ (জারসা)
সমাজবিজ্ঞান ১ম বর্ষ,
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া।
০০০
হিংসাত্মক ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে তরুণদের ফিরিয়ে আনতে হবে
গণিত অলিম্পিয়াড, বিশ্ব উদ্যোক্তা এবং ক্রিকেটে যখন আমাদের তরুণরা দেশের প্রতিনিধি করে এবং বিজয়ীবেশে ফিরে আসে। অন্য দেশের প্রতিযোগিরা ভেবে পায় না একটি দরিদ্র, দুর্নীতিপরায়ণ ও অশিক্ষিত দেশের তরুণরা কিভাবে তাদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে বিশ্ব দরবারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। এসব অর্জনের খবরগুলো যখন পড়ি, তখন আপনা-আপনি নিজেকে গর্বিত মানুষ মনে হয়। আনন্দে গেয়ে উঠি “মাগো, জন্মেছি এই বংগে, তোমায় ভালবেসে।” তখন দেশের জন্য নিজের সেরা কাজটা উজাড় করে দিতে চাই। আবার এসব অর্জনকে স্তম্ভিত করে দেয় সেসব তরুণরা, যারা রাজপথে প্রকাশ্যে চাপাতি, রড দিয়ে আঘাত করে মানুষ হত্যা করে। সেসব তরুণ আবার বিশৃংখলা করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেয়, বিশ্ববিদ্যালয় হলের ছাদ থেকে ছুঁড়ে ফেরে দেয়। তাদের পিছনের শক্তি কি বা তাদের কি আমরা শুধু হিংসাত্মক ও সংঘাতের রাজনীতিতে বছরের পর বছর ব্যবহার করব? তাদের লেলিয়ে দেব অন্য দলের কর্মীদের কুপিয়ে জখম করতে? আমরা কি পারি না তাদের এই হিংসাত্মক ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে ফিরিয়ে আনতে? তাদের দেশের সম্পদ ও শিক্ষিত মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে? আমি মনে করি, এক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং সুস্থ রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শই আমাদের তরুণদের এই হিংসাত্মক ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
নাহিদ নাজমুস
হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,
রংপুর।
