বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি এ কেমন আচরণ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২২
মহান বিজয় দিবসে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়ার পথে বাধা দান এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁহার যাত্রা বিলম্বিত করার অভিযোগ উঠিয়াছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানাইয়াছেন যে, বিরোধী দলীয় নেতার ভোর ছয়টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা করার কথা ছিল। কিন্তু তাঁহার প্রটোকলের গাড়ি গুলশান থানায় আটকাইয়া রাখিয়া ৪৫ মিনিট দেরি করানো হয়। ফলে বিলম্বিত হয় বিরোধী দলের নেতার যাত্রা। এমনকী গাবতলী ও আমিনবাজারসহ কয়েকটি স্থানে রাস্তায় এলোপাতাড়িভাবে বাস-ট্রাক রাখিয়া বাধা দেওয়া হইয়াছে বলিয়াও দলটির পক্ষ হইতে অভিযোগ করা হইয়াছে। অভিযোগটি সত্য হইলে ইহাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকই বলিতে হইবে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবশ্য বিলম্বের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করিয়া বলিয়াছেন যে, নিরাপত্তার জন্যই ইহা করা হইয়াছে। নিরাপত্তার জন্যই যদি ইহা করা হইয়া থাকে তাহা হইলে যথানিয়মে আগেই বিরোধী দলীয় নেতাকে বিষয়টি অবহিত করা হইল না কেন— সেই প্রশ্ন তোলা যায়। সর্বোপরি, পথে পথে বাধা দেওয়ার বিষয়টিরই বা ব্যাখ্যা কী? বিষয়টিকে যেইভাবেই ব্যাখ্যা করা হউক না কেন— তাহা যে কাহারও নিকট গ্রহণযোগ্য হইবে না তাহাতে সন্দেহ নাই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা বলিয়াছিলেন যে, বিরোধী দলের নেতার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের কোনো নৈতিক অধিকার নাই। এই বক্তব্যের সাথে উল্লিখিত ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা আমাদের জানা নাই। তবে বক্তব্যটি যে রাজনৈতিক এবং ইহার সাথে বিরোধী দলীয় নেতাকে বাধা দানের কোনো সম্পর্ক থাকিতে পারে না— তাহা সহজেই অনুমেয়। কারণ নৈতিক অধিকার থাকা না থাকা আর কাহাকেও স্মৃতিসৌধে যাওয়া হইতে বিরত রাখা এক জিনিস নহে। বিরোধী দলীয় নেতাকে স্মৃতিসৌধে যাইতে দেওয়া হইবে না— সরকারের এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথাও আমাদের জানা নাই। জাতীয় স্মৃতিসৌধ অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান এবং ইহা সকলের জন্যই উন্মুক্ত। মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি সকলেই অবাধে শ্রদ্ধা নিবেদন করিবে— ইহাই স্বাভাবিক। ইহাই চলিয়া আসিতেছে। তবে রীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরেই বিরোধী দলীয় নেতার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করিবার কথা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলীয় নেতার অবস্থান ও গুরুত্ব কাহারও অজানা থাকিবার কথা নহে। অতএব, বিরোধী দলীয় নেতাকে যদি কোনোভাবে বাধা দেওয়া বা বিব্রত করা হইয়া থাকে তাহা নিন্দনীয় শুধু নহে, উদার গণতান্ত্রিক চেতনারও পরিপন্থি বলিয়া আমরা মনে করি। সামপ্রতিক নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এমনিতেই উত্তপ্ত। আমাদের কষ্টার্জিত গণতন্ত্রের পথও পুরোপুরি নিষ্কণ্টক নহে। এমতাবস্থায় এ ধরনের অসহিষ্ণুতা ও হঠকারিতা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে যে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করিয়া তুলিবে— তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না। অতএব, সংশ্লিষ্ট সকলেরই এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন