অভিবাসী দিবস

নিরাপদ অভিবাসনে সিবিও এবং এর সম্ভাবনা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫০
বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। প্রতিবছর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশই ১৫-৪১ বছরের মধ্যে। যাদের বেশিরভাগই সক্ষম শ্রমজীবী অংশে অন্তর্ভুক্ত। শ্রমঘন এই দেশে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মসংস্থানের প্রচুর অপ্রতুলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষার হার যদিও বৃদ্ধি পাচ্ছে শিক্ষিত বেকারের হারও বাড়ছে। তাই প্রতিনিয়ত শ্রমজীবী নারী-পুরুষ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বাঁচার জন্য যেমন কর্মসংস্থান খুঁজছে তেমনি অভিবাসনের প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য থেকে জানা যায় ১৯৭৬ থেকে ২০১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮৩ লাখ নারী-পুরুষ অভিবাসী হয়েছেন। যার মধ্যে ২.০৬ লাখ নারী অভিবাসী শ্রমিক এবং বেশির ভাগই অভিবাসী হয়েছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মধ্যপ্রাচ্যে। এছাড়াও অসমর্থিত বেসরকারি তথ্যমতে এর সংখ্যা আরও বেশি বলে অনুমান করা হয়। শ্রম অভিবাসন মানবাধিকারের একটি অংশ। জাতিসংঘ সনদ ১৯৯০ সাল অনুযায়ী প্রত্যেক অভিবাসী শ্রমিক ও তার পরিবারের সদস্যদের কল্যাণের কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে। যা বাংলাদেশ সরকারও ২০১১ অনুসমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) শ্রমজীবীদের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে তার পরিচালনা পরিষদ ২০১১ সনে আন্তর্জাতিক শ্রমসভায় গৃহশ্রমিকের অধিকার আন্তর্জাতিক সনদ হিসাবে গৃহীত হয় যা (ILO) ১৮৯তম সনদ হিসেবে স্বীকৃত। আমাদের দেশের শ্রমজীবী মানুষ স্বপ্ন দেখে অভিবাসী হবার যেমনটি তার পূর্বসূরীরা হয়েছেন। কিন্তু তারা জানেন না কিভাবে সঠিক পদ্ধতিতে অভিবাসী হতে হয়, প্রক্রিয়াটাই বা কি? সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে এক্ষেত্রে কি কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। কোথায় যাবেন, কি করবেন, সঠিক তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে ইত্যাদি। যদিও ১৯৮২ সালে একটি অর্ডিন্যান্স-এর আদেশবলে—কিছু কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি এ সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়, যা সরকার এবং সংশ্লি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা হয়। এ থেকে আসলে আমাদের শ্রমজীবী নারী-পুরুষ কতটুকু উপকৃত হয়েছেন তা ভাবার সময় এসেছে। শ্রমজীবী নারী-পুরুষের অজ্ঞতা, কম দক্ষতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, পরনির্ভরশীলতা, সঠিক তথ্য জানার স্পৃহায় অপ্রতুলতা প্রতিনিয়ত অবৈধ পথে অভিবাসী হওয়ার প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করে। অভিবাসী শ্রমিকের বেশিরভাগই গ্রামীণ পর্যায়ে বসবাস করে। যার ফলে শহরে বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারিভাবে এ সম্পর্কিত প্রচার ও প্রদত্ত নিয়মাবলী এবং সুযোগ-সুবিধাগুলো গ্রহণে তারা যেমন সাহস পাচ্ছেন না তেমনি বুঝে উঠতে পারেন না। যার ফলশ্রুতিতে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সুনির্দিষ্ট কিছু দালালের প্রলোভনে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে এবং সর্বস্বান্ত হচ্ছে। যা মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন এবং বেদনাদায়ক। প্রতিটি নারী-পুরুষ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে অভিবাসী হওয়া মানবাধিকারের একটি অংশ। আমাদের দেশের শ্রমজীবী নারী-পুরুষ যেমন নিজ দেশে অবহেলিত, প্রতারিত, ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তেমনি গন্তব্যের দেশে গিয়েও সঠিক কাজ, শ্রমঘন্টা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ইত্যাদি বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত দূতাবাসে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব এবং সক্রিয় সহযোগিতার অভাব আরও অনেক যার চালচিত্র প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও তৃণমূল পর্যায়ে সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমের বাস্তবায়নের সময় জানা যায়। এ সমস্যার সুষ্ঠু ও কার্যকর সমাধান লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে অভিবাসী শ্রমিক তার পরিবারের সদস্যদের অধিকার আদায় ও ক্ষমতায়ন, স্থানীয়ভাবে উন্নয়ন এবং সংশ্লি¬ষ্ট স্টেক হোল্ডার ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্পৃক্তকরণ, জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসন বাস্তবায়ন। আমরা আশাবাদী তৃণমূল পর্যায়ে সমস্ত (CBO) সংগঠন সংগঠিত হয়ে নিরাপদ অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্ত বাধা জটিলতা নিরসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে তৃণমূল পর্যায়ে দারিদ্র্যতা হ্রাস পাবে যা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার একটি অন্যতম লক্ষ্য। লেখক :সমন্বয়কারী, ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন