০০০
দেশ হবে সমৃদ্ধ, যদি রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের মাঝে
থাকে ধৈর্যসংঘর্ষ এখন একটি নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। যদি হরতাল ডাকে বিরোধী দল তাহলে তারা গাড়ি পোড়াবে। সরকার সমর্থক তাদের প্রতিহত করবে। বিরোধী রাজনৈতিক দল বার বার কর্মসূচি ঘোষণা করবে এবং সংঘর্ষ ঘটাবে। এগুলোই হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা। বর্তমানে কোন রাজনৈতিক দলকে জনস্বার্থে আন্দোলন করতে দেখা যায় না। তারা আন্দোলন করে তাদের দলের স্বার্থে। বাংলাদেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ধৈর্য, সংঘাতের রাজনীতি বন্ধ, জনস্বার্থে আন্দোলন, সাধারণ মানুষের সচেতনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। আর তাহলেই বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধ। দেশ চলবে উন্নয়নের পথে। আর জনগণ পাবে শান্তি।
মো. সাদিকুল ইসলাম
১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার,
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০
সকল দলকে হরতাল, ধর্মঘটের মত ধ্বংসাত্মক রাজনীতি
প্রত্যাহার করতে হবে
ছোট বেলায় আমরা পড়েছিলাম বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি দরিদ্রতম দেশ। এখন আমরা এটা মানতে রাজি নই। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্ঘ এভারেস্ট বিজয়, বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার নোবেল বিজয়, শিক্ষার হার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রবর্তন, নারী শিক্ষা প্রসার, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি মেধাবী তরুণদের মেধা ও দায়িত্বের স্বীকৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। তা হলো তথাকথিত রাজনীতি। রাজনীতি হলো সকল নীতির রাজা। অর্থাত্ সকল নীতির বড় নীতি হল রাজনীতি। এই নীতি বা রাজনীতি সকল সময় যুগোপযোগী ও সৃষ্টিশীল হওয়া চাই। অর্থাত্ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সৃষ্টিশীল এজেন্ডা থাকা চাই। যার কিছুটা আমরা আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে দেখতে পাই। যেখানে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশের অধিক স্বার্থের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রীর মত সম্মানজক পদ প্রহণ না করা, বার বার প্রস্তাব পাওয়ার পরও মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করা, কোন দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে মন্ত্রী বা যে পদেই থাকুন না কেন তা থেকে সরে দাঁড়ানো, ইত্যাদি রাজনৈতিক দূরদর্শীতার পরিচয়। কিন্তু আমরা কবে দেখতে পাবো এসব গুণগত রাজনীতির উদাহরণ।
একদিন আলাপচারিতায় আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই যিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবনবাজী রেখে যুদ্ধ করেছিলেন সেই বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নূর নবী চৌধুরী খুব দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেই বলেছিলেন, ছাত্ররাজনীতির নামে ছাত্র সংগঠনগুলোর কতিপয় ছাত্র যা ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম করছে তা যে কোন দলের জন্য বিপদ সংকেত। তাই সরকারকে এ ব্যাপারে সতর্ক হওয়া দরকার। একজন মুক্তিযোদ্ধার দীর্ঘ নিঃশ্বাস খুবই দুঃখ দেয়। এজন্য কি তারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। তাই আমরাও বলি হরতাল, ধর্মঘট, জ্বালাও-পোড়াও, রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার জন্য যুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেনি।
তবে আমরা হতাশ হলেও নিরাশ নই— কারণ, সোহেল তাজের মত রাজনীতিবিদদের মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো, তোফায়েল আহমেদ-এর মত বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদের মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করা, হরতাল, ধর্মঘট বিগত বছরের সরকারগুলোর তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত কমে আসা রাজনীতির জন্য সুবাতাস। তবে বিশ্বজিত্ হত্যাকাণ্ডের মত জঘন্য হত্যাকাণ্ড কারো কাম্য ছিল না।
তারপরও আমরা আশাবাদী স্বাধীনতার ৪১ বছর পর আশানুরূপ উন্নয়ন অর্জন করতে না পারলেও শুধুমাত্র হরতাল, ধর্মঘট ও জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি প্রত্যাহার করলে এবং সকল সময় ক্ষমতাসীন সরকারকে সহনশীল হলে অচিরেই আমরা বেশি না হলেও মালয়েশিয়ার মত একটি রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারব বলে আমার মত কোটি মানুষের বিশ্বাস। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
এম. কবির হোসেন সুজন
এলএলবি (১ম বর্ষ),
উত্তরা আইন কলেজ, ঢাকা।
০০০
বাংলাদেশ একটি সোনার দেশ হতো যদি কিনা হরতাল না হতো
জীবনানন্দ দাশ এদেশকে লিখেছেন ‘রূপসী বাংলা’, কাজী নজরুল এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য এদেশকে বলেছেন ‘বাংলাদেশ’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ দেশের নাম লিখেছেন ‘সোনার বাংলা’। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই সোনার বাংলায় আজ অশুভ শক্তির ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। চারদিকে দুর্নীতি, ঘুষ ছাড়া চাকরি নেই, টাকা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে ভর্তি বাণিজ্য, দলীয় প্রশাসন, অদক্ষ রাজনীতি, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের হিংসার মনোভাব। ফলে অচল এ দেশের মানুষগুলো, অসহায় সরকার। যেমন ১. শিক্ষাখাতের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার, ২. বিচার বিভাগীয় সচিবালয় হচ্ছে না, ৩. পদ্মা সেতু হচ্ছে না, ৪. শেয়ারবাজার গরম, ৫. সর্বত্র নষ্ট রাজনৈতিক দাপট। হায়রে সোনার বাংলা এ কেমন অবস্থা তোমার? আমাদের প্রাজ্ঞ নীলকান্ত বড়ালের ভাষায় ‘মাইনাস জিরো’। অতএব, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক উচ্চ মহলকে বলতে চাই আসুন রাজনৈতিক হানাহানি ভুলে যাই; সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ দেশের বুকে চিরশান্তি আসুক নেমে; দূর হয়ে যাক রাজনৈতিক অশুভ শক্তির ছায়া। সকলের প্রতি এই প্রত্যাশায়।
স্বরূপ কুমার রায়
প্রথম বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ,
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল।
০০০
সহিংসতার পথ পরিহার
করে সহমর্মিতার পথ
বেছে নিতে হবে
‘আগামীদিনের বাংলাদেশ’ শিরোনামে লিখতে বসে মনে হল, আগামীদিনের বাংলাদেশ গড়বে কারা? রাজনীতিবিদরাই দেশের নীতিনির্ধারক— সুতরাং তারাই সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে পারে। কিন্তু রাজনীতির মধ্যে গণতন্ত্রের নামে পরিবারতন্ত্র চালুর ফলে যোগ্য নেতা-নেত্রী পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্র নামক শব্দ শুনতে শুনতে জনগণের কাছে গণতন্ত্রের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা অস্পষ্ট। পাঠ্যপুস্তকের বই থেকে আমরা পড়ে জেনেছি। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য, জনগণের দ্বারা পরিচালিত, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থাও, কিন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেখা যায় না। যে সরকারই ক্ষমতায় যায় গণতন্ত্র, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে। বাস্তবিক দেশের কল্যাণ কিভাবে হবে, কিভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে সেদিক নিয়ে কোন ভাবনা নেই। আমি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে বলতে পারি, আগামীদিনে সমৃদ্ধিশীল বাংলাদেশ গড়তে হলে, দেশের জনগণ এবং জনগণের প্রতিনিধিদের সকল ঝগড়া-বিবাদ ভুলে গিয়ে দেশের উন্নয়ন সাধিত হয় এমন কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে এবং বিশেষ করে বলা যায়, রাজনীতিবিদদের সহিংসতার রাজনীতি ছেড়ে সহমর্মিতার পথ বেছে নিতে হবে। তাহলে বাংলাদেশ স্বল্প উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের খাতা থেকে নাম কাটিয়ে একদিন উন্নত দেশ হিসেবে উপনীত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
মো. শরিফুল ইসলাম
২য় বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
