সুস্বাস্থ্য যে সকল সুখের চাবিকাঠি, এই কথাটা আমরা সবাই জানি। বিস্ময়কর হলেও সত্য, অসুস্থ হওয়ার আগে কিন্তু খুব কম সংখ্যক মানুষই তা মানি। আমি দীর্ঘদিন ‘গুলশান জগার সোসাইটি’তে নিয়মিত হাঁটা আর ব্যায়াম করতে গিয়ে দেখেছি শতবর্ষ পার হওয়া মানুষ এখনও কী দিব্যি চমত্কার আছেন। কারো সাহায্য ছাড়াই সেসব প্রবীণ চলাফেরা করেন। দেখে পরিতৃপ্তিতে মন ভরে যায়। তাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। বিষণ্নতা নেই। তারা সুস্থতার আনন্দে শরীর এবং মনে দু’ক্ষেত্রেই অনেক বেশি তরুণ। আমি নিজে শুধু দুশ্চিন্তা না করে এবং নিয়মিত হাঁটা ও নিয়ম মাফিক ব্যায়ামে অন্তত বয়সের তুলনায় ২০ বছর পেছনে আছি।
আসলে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন সুস্থ শরীর আর সুস্থ মন। এজন্য চাই নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম করা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে শক্ত থাকা। খাবারের ক্ষেত্রে লোভটা যথাসম্ভব সংবরণ করা। কথায় বলে- মানুষ কম খেলে মরে না। অতিরিক্ত খেয়ে মেদ জমিয়ে ডায়াবেটিস, হূদরোগসহ নানা রোগে মরে দ্রুত। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপ রিপোর্ট দেখে অবাক হলাম। সেখানে বলা হয়েছে- মানুষের মোট মৃত্যুর মধ্যে অপুষ্টিতে বিশ্বে মৃত্যুর হার ২০ ভাগ। আর অতিরিক্ত ভোজনে বাড়তি কোলস্টেরলজনিত মৃত্যুর হার ৮০ ভাগ।
আসলে সুস্থ থাকতে হলে আমাদের ভোজন-রসিক বাঙালি এই প্রবাদের বাইরে যেতে হবে। যাদের দৈনিক ব্যায়াম হয় না, হাঁটা হয় না, বসে বসে কাজ করেন তাদের ক্যালরি মোটেও বার্ন হয় না। ফলে শরীরে ভয়াবহ মেদ জমে। যাদের মেদ জমে না তাদেরও হার্টে ব্লকসহ রক্তসঞ্চালনে নানারকম বাধার সৃষ্টি হয়। সুতরাং পরিমিত খাবার, পরিমিত ঘুম (কমপক্ষে দৈনিক ৬ ঘন্টা) এবং কিছুটা হালকা ব্যায়াম ঘরের মধ্যে বসে হলেও করা দরকার। সুস্থ থাকার জন্যই এসব প্রয়োজন।
হাঁটা তথা ব্যায়ামের মাধ্যমে যেখানে সুস্থ থাকা সম্ভব প্রাকৃতিক উপায়ে সেখানে রোগ বাধিয়ে চিকিত্সা করা আত্মঘাতি বৈকি। যেখানে সামান্য অর্থ ব্যয় করে সুস্থ থাকা যায়, সেখানে রোগ বেধে গেলে লাখ লাখ টাকা গচ্চা দিয়ে জীবনটা অথর্ব হয়ে যায়। অনেকের আবার অর্থাভাবে ব্যয়বহুল চিকিত্সা করা সম্ভব হয় না। যারা ইতিমধ্যে নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত তারা নিয়মিত যদি ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেন, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করেন তারাও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে অনেক সুস্থ থাকতে পারেন বর্তমান অবস্থার তুলনায়।
মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য এই রাজধানীতেই গড়ে উঠেছে বহু পার্কে গঠিত ওয়াকার সোসাইটি, জগার সোসাইটিসহ নানা প্লাটফর্ম। এর বাইরে বহু হেলথ ক্লাব তো আছেই। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় গুলশান ২ নম্বরের ৬৩ নং রোড সংলগ্ন লেকপার্কে গড়া ওঠা জগার সোসাইটির কথা বলতে পারি। এখানে বহু লোক প্রতিদিন হাঁটেন এবং দক্ষ ব্যক্তিদের পরিচর্চায় ব্যায়ামের কৌশল শিখে নিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করছেন। এর জন্য একটি পয়সাও ফি দিতে হয় না। অথচ স্রেফ জানা নেই বলে অনেকে সংলগ্ন এলাকায় বাস করেও এসব সুযোগ গ্রহণ করেন না বা করতে পারেন না।
গুলশান জগার সোসাইটি প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ মর্নিংওয়াকের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আলোচনা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন দিবস পালন করেন। সভা-সেমিনার করে নিজেরা সমৃদ্ধ হচ্ছেন। এখানে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নূর আলী বিনামূল্যে প্রতি শুক্র ও শনিবার যোগব্যায়াম শিখিয়ে থাকেন হাঁটতে আসা মানুষদের। গুলশান জগার সোসাইটির এই সেবা গ্রহণের জন্য সম্ভাব্য সকলের নিজের স্বার্থেই এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
লেখক : ফ্রি-ল্যান্স সাংবাদিক
