এসি ল্যান্ডের অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৪
মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ হইতেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তথা এসি ল্যাণ্ড। আশির দশকে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তনের সময় হইতে এই পদে প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হইয়া আসিতেছে। ইহার আগে সার্কেল অফিসার (রাজস্ব) নামে থানায় নিয়োজিত কর্মকর্তার দ্বারা একই কাজ সম্পাদন করা হইত। ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজকর্ম সম্পাদন করাই এই কর্মকর্তার মূল কাজ। কিন্তু সেই শুরু হইতে এই পদে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তার সংকট লাগিয়াই আছে। অথচ জনগণের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াও সরকারের রাজস্ব আদায়ে এই কর্মকর্তার ভূমিকা অপরিসীম। জমি কেনাবেচার জন্য খাজনার রশিদ আবশ্যক হয়। খাজনা প্রদানের পূর্বশর্ত হইতেছে ভূমির নামজারী তথা মিউটেশন। এসি ল্যাণ্ডের কাজের মধ্যে ইহা অন্যতম। কিন্তু কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকিবার কারণে এই কাজে কালক্ষেপণ হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। সময়মতো জমির নামজারী না হওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে খাজনা দিতে পারেন না। ফলে জমির রেজিস্ট্রেশনও বিলম্বিত হইয়া থাকে। ভূমি রেজিস্ট্রেশন বাবদ সরকারের রাজস্ব আদায়ও ঝুলিয়া যায়। দেশে বর্তমানে ৪৮৬টি এসি ল্যাণ্ডের পদ রহিয়াছে। তন্মধ্যে ২৬৩টি উপজেলায় এই পদে কোনো কর্মকর্তা নাই। এতবেশি সংখ্যক পদ শূন্য থাকিবার প্রধান কারণ হইতেছে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগকৃত কর্মকর্তার সংখ্যা কম এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা। উল্লেখ্য যে, প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা প্রথমে জেলা প্রশাসকের অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে যোগদান করিয়া থাকেন। এই পদে তিন-চার বত্সরের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করিবার পর তাঁহাদের মধ্য হইতে এসি ল্যাল্ড পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এইখানে বলিয়া রাখা উচিত হইবে যে, এসি ল্যাণ্ড পদে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া সকল কর্মকর্তারই নিয়োগ পাইবার কথা। কিন্তু দেখা গিয়াছে যে, যখন যেই দল ক্ষমতায় আসিয়াছে রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁহারা তাঁহাদের পছন্দমতো কর্মকর্তাকে এই পদে নিয়োগের সুপারিশ করিয়াছে। ফলে অনেক কর্মকর্তাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হইতে এসি ল্যাণ্ড পদে কাজ না করিয়াই অন্যান্য পদে চলিয়া গিয়াছেন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে তিন-চার বত্সর কাজ করিবার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও পদে নিয়োগ পাইবার কথা। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও রহিয়াছে নানা বিবেচনা। সকল এসি ল্যাণ্ডকে আবার ইউএনও করা হয় না। তবে এসি ল্যাণ্ড পদ শূন্য থাকার জন্য মূলত নিয়োগ কম হওয়াকেই দায়ী করা হইয়া থাকে। ইহাছাড়াও রহিয়াছে সরকারি কর্ম কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা। নূতন নিয়োগ সম্পন্ন হইতে যে সময় লাগিতেছে সেই সময়ে আরও পদ শূন্য হইয়া পড়িতেছে। অর্থাত্ চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়া লোক নিয়োগের পরিকল্পনায় ঘাটতি লক্ষ্য করা যাইতেছে। গত ৫ বত্সরের পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, এই সময়ে দুই হইতে তিনশত জনকে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হইয়াছে। অথচ জ্যেষ্ঠতার বিচারে প্রতি বত্সরই এসি ল্যাণ্ডের পদ হইতে কর্মকর্তারা বিদায় লইতেছেন। এখন কী কারণে প্রশাসন ক্যাডারে লোক কম নেওয়া বা চাহিদা কম দেওয়া হইয়া থাকে তাহার কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না। তবে অতীতে প্রশাসন ক্যাডারে সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ শত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার কারণে এখন প্রশাসনে পদোন্নতি হইতে শুরু করিয়া পোস্টিং পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই জটিলতার সৃষ্টি হইয়াছে। সম্ভবত এই জট দূর করিবার লক্ষ্য মাথায় রাখিয়া এখন নিচের পদে ধারাবাহিকভাবে কম নিয়োগ দেওয়া হইতেছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রততর করা গেলে এসি ল্যাণ্ড পদে বিদ্যমান শূন্যতা অনেকটাই দূর করা সম্ভব হইবে বলিয়া আমরা মনে করি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন