গণতন্ত্র

সুবিচারে সুশাসন উত্তরণ

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৬
টমাস রো বলেছেন, গণতন্ত্র হলো স্বাধীনতা, সাম্যের এবং ব্যক্তি মূল্য ও সমাজের চাহিদার সমন্বয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকাশ ও কার্যকারিতা অর্থবহ হবার সুযোগ সমন্বয়তার অভাবেই ফলপ্রসূ বা কার্যকর হওয়া কঠিন পর্যায়ে রয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেক ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপের ফলে দ্বিমুখী সমস্যার বেড়াজালে আটকিয়ে পড়ে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তখনই সুফল বয়ে আনবে যখন এই বিভাগে প্রশাসনিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, সততা ও স্বচ্ছতার সাথে কার্য পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হবে। অনেক সময় দেখা যায় উল্লেখিত অবস্থার সুযোগ থাকলেও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহারে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা হয় নিগৃহীত, অবহেলিত। সূর্যের আলো যেমন সকলকে সমান উত্তাপ দেয়, ন্যায় বিচারেও তেমনিভাবে প্রশাসনিক বিভাগে ন্যায়বান প্রশাসক রয়েছেন। কিন্তু তাদের কার্যকারিতা প্রস্ফুটিত হয় না মার খাওয়া মধ্যমনিদের জন্য। রবি ঠাকুর বলেছেন, যারা মারে তারা ভোলে, যারা মার খায় তারা সহজে ভুলতে পারে না। ন্যায় অন্যায় তাদের কাছে অর্থহীন। কিন্তু সাফল্যের সাথে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সাবধানতা অবলম্বনের মাধ্যমে পৃথিবীর অনেক দেশে জন প্রশাসনিক ন্যায়বান কর্মকর্তাগণ মধ্যমনিদের প্রহসনিক কার্যক্রম প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছেন। ভূমি প্রশাসন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তথ্য অনুযায়ী দেশের ভূমি সংক্রান্ত মামলা বাবদ প্রতিবছর আনুষঙ্গিক ব্যয় হয় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। এই বড় অংকের টাকা জনগণের। বিশেষজ্ঞগণ এই পরিস্থিতির কারণ বিশ্লেষণে দুটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা পৃথক তিনটি কর্তৃপক্ষ যথা ভূমি প্রশাসন, ভূমি রেজিষ্ট্রি ও জরিপ অধিদপ্তরের কাজের সমন্বয়হীনতা এবং ভূমি সংক্রান্ত আইনী ও ব্যবস্থাপনাগত কাজকে চিহ্নিত করেছেন। তবে এই প্রতিবেদন মাঠ পর্যায়ে সেবাদানকারী তহশীল অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস ও সেটেলম্যান্ট অফিসের অনিয়মকে দায়ী করা উদ্দেশ্য নয়। ভূমি বিষয়ক মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসন এর সমন্বয়কারী এজিপির ভূমিকা মুখ্য বৈ গৌণ নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জেলা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান না করে পূর্বে উল্লেখিত মার খাওয়া মধ্যমনি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বর্ণনা প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য। কথায় আছে, বিবেকহীন মানুষকে বিবেকের দংশনে দংশিত করে না। তবে বিবেকের তাড়নার প্রেক্ষিতেই এই উপস্থাপনা। কারণ দার্শনিক লেন্ডারকে সমর্থ করে বলতে হয়, বিচারে দেরি হলে অনর্থক অবিচারে জড়িয়ে পড়তে হয়। ভূমি ব্যবস্থাপনার উপর প্রণীত আইন, নীতিমালা, বিধিবিধান সঠিকভাবে প্রয়োগ না হলে ভূমি সংক্রান্ত বিষয় সহজবোধ্য ও সহজলভ্য হবে না। ভূমি অফিস ও তদসংক্রান্ত বিষয়াদি জনগণের অতি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বলে স্বীকৃত। যার ভূমি আছে তাকে কখনো ভূমি অফিসে যেতে হয়- তা সে যে পর্যায়েই হোক। তাই এটা সুবিবেচনা প্রসূত যে, ভূমি প্রশাসন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানের সেবার মান বাড়াতে করণীয় শুধু জনগণের সুবিবেচনা, সদিচ্ছা ও মতামতের আলোকে স্থানীয় ভিত্তিতে নয়, জাতীয় ভিত্তিতে প্রণয়ন করা। পরিশেষে উইলবার এল, ক্রসের বাণী উল্লেখ করা যায়, স্বাধীন দেশের সরকারের একটি মাত্র উদ্দেশ্য থাকা উচিত-তা হচ্ছে ন্যায় বিচারের মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ করা। লেখক :গবেষক ও গ্রন্থপ্রণেতা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন