প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ তোমাদের জন্য অধ্যায়ভিত্তিক (সাহিত্যে খেলা) প্রবন্ধের উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হল। চর্চা করলে নিশ্চয় উপকৃত হবে।
সাহিত্যে খেলা
প্রমথ চৌধুরী
লেখক পরিচিতি: বাংলা চলিত গদ্যরীতির জনক প্রমথ চৌধুরী। তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’। তাঁর সম্পাদিত ‘সবুজ পত্র’ পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র(প্রথম প্রকাশ :১৯১৪)। তিনি ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস পাবনা জেলার হরিপুরে। তিনি ২ সেপ্টেম্বর , ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
শিক্ষাজীবন : কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে এন্ট্রান্স ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে এফএ পাস করেন। পরবর্তীতে দর্শনে বি.এ(অনার্স); ইংরেজিতে এম.এ ডিগ্রি এবং লন্ডন থেকে বার-এট ল পাস করেন।
পেশাগত জীবন: আইন কলেজে অধ্যাপনা, দক্ষিণেশ্বর ও গোপাল লাল এস্টেটের রিসিভার, ঠাকুর এস্টেটের ম্যানেজার পদে দায়িত্ব পালন।
সম্পাদক : মাসিক ‘সবুজপত্র’,‘বিশ্বভারতী’ প্রভৃতি।
সাহিত্যকর্ম : প্রবন্ধ : তেল-নুন-লকড়ি, বীরবলের হালখাতা, নানা কথা, আমাদের শিক্ষা, রায়তের কথা, প্রবন্ধ সংগ্রহ প্রভৃতি।
কাব্যগ্রন্থ : সনেট পঞ্চাশত্, পদচারণা।
গল্পগ্রন্থ : চার ইয়ারী কথা, আহুতি, নীললোহিত, গল্প সংগ্রহ।
স্বীকৃতি : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত ‘ জগত্তারিণী’ পুরস্কার।
উত্স ও পরিচিতি: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি সর্বপ্রথম ১৯১৫ সালে ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে তা ১৯৫২ সালে ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ’-এ সংকলিত হয়। এ প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্য ও আদর্শ সম্পর্কে লেখকের সুচিন্তিত মতামত ও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সুচারুরূপে ফুটে ওঠেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন
নিচের উদ্দীপকটি মনোযোগ দিয়ে পড় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
শ্যামল একজন সংস্কার বিরোধী লেখক। ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞান থাকলেও তাঁর লেখা পাঠক সমাজে তেমন সমাদৃত নয়। এ সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসে জবাব দিয়ে বলেন, “আমি শুধু আমার একান্ত অনুভূতিগুলো সৃষ্টিশীল করে সাহিত্যে প্রকাশ করি।” তাঁর ধারণা সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের উদ্দেশ্যে রচিত সাহিত্য আর যাই হোক মহত্ শিল্প নয়। বাহবা প্রাপ্তির প্রত্যাশায় লেখনী ধারণ করলে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
ক) প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের আদি
কবি কে? ১
খ) শিক্ষা ও সাহিত্য বিপরীতধর্মী হিসেবে বিবেচিত হয় কেন? ২
গ) ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে উদ্দীপকের শ্যামলের শ্রেণি নির্দেশ কর। ৩
ঘ) ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী মহত্ সাহিত্যের যে চিত্র তুলে ধরেছেন,
তা বিশ্লেষণ কর। ৪
ঘ নং প্রশ্নের উত্তর দেয়া হল:
উত্তর: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত একটি অনবদ্য রচনা। তাঁর মতে, সাহিত্য মহত্ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি হয়। আর এ মহত্ উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, সাহিত্য হল আনন্দ লাভের মাধ্যম। যিনি সাহিত্য রচনা করেন তিনি কেবল মনের আনন্দে তা করে থাকেন। আবার যারা তা পাঠ করেন তারাও পান পরম আনন্দ। তাই সাহিত্যের মাধ্যমে লেখক ও পাঠকের আনন্দ একাকার হয়ে যায়। তবে সাহিত্যিক বা কবি যখন স্বার্থোদ্ধারের জন্য লেখনী ধারণ করেন তখন সাহিত্যের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। মূলত কবিগণ কারও তুষ্টির জন্য কলম ধরেন না। তাঁরা নিজের অভিপ্রায়ে কাব্যলোকে প্রবেশ করেন। কিন্তু যারা অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচনায় ব্রতী হন তারা সাহিত্যের মহত্ উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যায়। অন্যদিকে তারা স্বতঃস্ফূর্ত সাহিত্য রচনার আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হয়। তাদের সম্পর্কে প্রাবন্ধিক বলেছেন, সাহিত্য কোন উদ্দেশ্যমূলক শিল্পকৌশল নয়। অর্থাত্ উদ্দেশ্যমূলক সাহিত্য, সাহিত্য হিসেবে যেমন মূল্যহীন তেমনি লেখকও মূল্যহীন। তাই লেখা হওয়া উচিত স্বতঃস্ফূর্ত ও স্বার্থ বিবর্জিত। কারণ মহত্ সাহিত্যকখনও ব্যাক্তিগত প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা করে না। সৃষ্টিকর্তা আপন খেয়ালে এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। এই সৃষ্টির মহা আয়োজনে স্রষ্টার কোনও স্বার্থ নিহিত নেই। ঠিক তেমনি মহত্ সাহিত্য সৃষ্টিতে লেখকের কোন স্বার্থ জড়িত থাকে না। মহত্ সাহিত্যিকগণ নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন ঘটান তাঁদের সৃষ্টিকর্মে। ফলে তাঁদের লেখা পাঠকের হূদয় বীণায় ঝংকার তুলে। সেই সব সাহিত্যিকগণ শিবও গড়তে জানেন,বাদরও গড়তে জানেন। তবে এই দুই কখনোই তাদের হাতে এক হয়ে যায় না। সুতরাং, মহত্ সাহিত্য শুধুমাত্র সাহিত্যিকের হূদয়ের নিংড়ানো অনুরাগ নয় বরং পাঠকের আনন্দ উপভোগের মাধ্যম হিসেবেও গণ্য হয়।
