‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের জয়গান করা হয়েছে

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:২৭
জীবন-বন্দনা গতকালের পর ২. নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও স্তবক-১ : রৌদ্রে পুড়ে, বৃষ্টিতে সে ভিজে দিবা-রাতি মোদের ক্ষুধার অন্ন যোগায় চায় নাক সে খ্যাতি। স্তবক-২ : দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যারা দুর্জয় করে জয় তাহাদের পরিচয় লিখে রাখে মহাকাল সব যুগে যুগে সবকালে টিকা ভাস্বরে শোভে তাল। ঘ. ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার বিষয়বস্তু অনুযায়ী, স্তবক ২-এর বক্তব্য স্তবক ১-এর উল্লে¬খিতদের জন্যে প্রযোজ্য কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও। ৪ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’-এর উত্তর ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় শ্রমজীবী মানুষের জয়গান করা হয়েছে—যাদের কথা মহাকাল লিখে রাখে। উদ্দীপকে কবি যাদের জয়গান গেয়েছেন মহাকালেও লেখা থাকে তাদের বিজয়গাথা। ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতায় যেসব শ্রমনিষ্ঠ মেহনতি মানুষ রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে পৃথিবী অনুপম সুন্দর, পুষ্পময় ও মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠেছে, কবিতায় কবি তাদের জয়গান গাইছেন। এক্ষেত্রে কৃষকসমাজ সকলের চেয়ে এগিয়ে আছে। উদ্দীপকের স্তবক ২-এর বক্তব্য মতে, যারা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে দুর্জয়কে জয় করে আনে তাদের নাম ও পরিচয় মহাকাল লিখে রাখে। প্রতিটি যুগে তার জন্যে জয়টিকা অপেক্ষা করে। আমিও এ বক্তব্যের সাথে একমত। পৃথিবীর উষালগ্নে অনুর্বর ক্ষেত্রকে কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে কৃষকসমাজ বাধ্য ও পদানত করে উর্বর ক্ষেত্রে পরিণত করেছে। তারা মানবজাতির জন্যে এ কাজ করে গেছে খ্যাতির মোহ ছাড়াই। স্তবক ২-এর বক্তব্য স্তবক ১-এর উল্লিখিতদের জন্যেও প্রযোজ্য। ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতাতেও তা বলা হয়েছে। কারণ অনুর্বর পৃথিবীকে চাষ করে তারাই ফসল ফলিয়ে মানবজাতিকে নীরবে ক্ষুধার অন্ন জুগিয়ে গেছে নিরন্তর। পৃথিবীর দুর্ধর্ষ অভিযাত্রীর চেয়ে তারা কোনো অংশেই কম নয়। তাদের কঠিন শ্রম, ঘাম ও রক্তের সংমিশ্রণ মহাকালে সংরক্ষিত আছে। পৃথিবীর তাবত্ মানুষ কৃষকসমাজের কাছে ঋণী। প্রতিটি যুগে, প্রতিটি অধ্যায়ে তাদের জন্যে অপেক্ষা করে আছে জয়ের উজ্জ্বল টিকা। কারণ তারা প্রাণান্তকর পরিশ্রম করে অন্যের মুখের আহার জোগায়। কৃষকের দৃঢ় কঠিন হাতের কবলে পড়ে পৃথিবীর মাটি, ফুল, ফল ও ফসলের উপঢৌকন দিতে বাধ্য হয়। এজন্যে তারা খ্যাতির আশা করে না, শুধু নিজের দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে যায়। তাই ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার বিষয়বস্তু অনুযায়ী, স্তবক ২-এর বক্তব্য স্তবক ১-এর উলিখিতদের জন্যে প্রযোজ্য।