সততা ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলবো আগামী দিনের বাংলাদেশ
আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে তো ভাবনার শেষ নেই। কিন্তু ভাবতে ভাবতে তো ক্লান্ত হয়ে গেলাম। কোন আশার দিক এই দেশে দেখছি না। কেবলই হতাশা। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করেও দিনের পর দিন শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ আর জীবন বৃত্তান্তের দুই পাতা কাগজ সাথে চারিত্রিক সনদ আর সত্যায়িত করা কয়েক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে অফিসে অফিসে ঘোরাঘোরি করতেই জীবনের সিংহভাগ কেটে যায় এই দেশে। অনিয়ম, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর নৈরাজ্য, এসব তো এখন আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। একজন শিক্ষার্থীর হাতে কলমের বদলে অস্ত্র তুলে দেয়া কেবল এই দেশেই সাজে। যার সর্বশেষ ফলাফল বিশ্বজিত্-এর বলি। ভেবে আর কি লাভ? তাই ভাবনার দিন এখন শেষ। এখন সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেয়ার। আর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমাদের মত তরুণ সমাজকে। এই দেশকে আমরা কারো খেলার পুতুল হতে দিব না। আমাদের দেশ আমরাই গড়বো। কারণ এই দেশ আমাদের পূর্ব-পুরুষদের ৯ মাস অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল, যার একমাত্র উত্তরাধিকারী আমরাই। এদেশের জন্য আমাদের হাজারও বোন হারিয়েছে তার সম্ভ্রম, মা হারিয়েছে তার সন্তান। তাই আমাদের এই দেশ কেবলই আমাদের। আমরা যারা ছাত্রসমাজ, তারা আর কখনই কোন তথাকথিত রাজনৈতিক নেতার হাতিয়ার হব না। এদেশকে সমৃদ্ধশীল দেশ তৈরি করার জন্য আমরা নিজেদের সততা ও দক্ষতা দিয়ে গড়ে তুলবো। এই হোক আগামীর প্রত্যয়।
মো. বেলায়েত হোসাইন
বিএ (সম্মান) ৩য় বর্ষ,
বিষয়:ইংরেজি, সরকারি বাঙলা কলেজ, মিরপুর, ঢাকা।
----------------
এ দেশকে সত্যিকার সোনার বাংলায় পরিণত করতে হলে প্রয়োজন সত্ ও যোগ্য নেতৃত্ব
সবুজ শ্যামলা শস্য সুফলা আমাদের এই বাংলাদেশ। এ দেশের সর্বত্র লুকিয়ে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। কিন্তু আমাদের বড় দুর্ভাগ্য যে এ সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপায়িত করার মত কোন দক্ষ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্ব আমরা আজও খুঁজে পাইনি। যখন যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা নিজেদের আখের গোছানো নিয়েই ব্যস্ত ছিল। নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য তারা দেশের সব সম্ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে গেছে। দেশের সার্বিক মঙ্গল ও উন্নতির জন্য কোন সরকারই তেমন উল্লেখযোগ্য কাজ করেনি। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এসব কিছুই বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো দেশের কল্যাণের কথা চিন্তা করার পরিবর্তে সবসময় নিজেরা দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত থাকে। দলীয় লেজুড়বৃত্তি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর লুটপাট যেন তাদের নিত্যদিনের কাজ। দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবার সময় তাদের নেই। তবে দেশপ্রেমিক জনগণ ঠিকই দেশের কল্যাণে প্রতিনিয়ত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এ দেশের গরীব কৃষক তার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সোনালি ফসল ফলায়। দেশের মানুষের দুবেলা আহার যোগায়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের অনেক বড় সাফল্য মায়ানমারের সাথে সমুদ্র বিজয়। কাজেই সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ ও দেশের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারলে এ দেশকে বিশ্বের দরবারে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। আমাদের সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুনিশ্চিত করা। ঘুষ, দুর্নীতি ও দলীয় লেজুড়বৃত্তি পরিহার করে সত্যিকার অর্থে দেশের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করা। একটি স্বাধীন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা। তবেই আমাদের দেশকে সত্যিকার সোনার বাংলায় পরিণত করা সম্ভব হবে বলে আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি।
মো. ওমর ফারুক
দর্শন বিভাগ,
৪র্থ বর্ষ ৮ম সেমিস্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
---------------
গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে
তালবেতাল হরতাল করলে দেশ পেছনের দিকে যাবে
আমাদের দেশের প্রধান দুই দল সম্পূর্ণভাবে ভুলে গেছে যে, তাদের দেশ পরিচালনা, রাজনৈতিক কার্যকলাপ দেখে মনে হয় ‘হরতাল’ দেয়া তাদের কাছে গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু তারা এটুকু খেয়াল কখনো করে না যে হরতাল মানুষের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে বা করছে। হরতালের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন চলাচল ও সকল মেডিসিন দোকান কার্যত বন্ধ থাকে। ফলে ডাক্তার হসপিটালে যেতে পারে না, রোগীর চিকিত্সা হয় না আর এমনিভাবে মুমূর্ষু রাগীরা অকালে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। অপরদিকে যারা সাধারণ শ্রমিক-মজুর দিনে পরিশ্রম করে টাকা রোজগাড় করে সংসার চালায় তাদের জীবন হয়ে ওঠে খুবই দুর্বিসহ ও করুণ। জীবিকার তাগিতে যারা জীবনের সকল পুঁজি ও ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনে, হরতালে তাদের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়, নিঃস্ব হয়ে যায় তারা। অনেক সময় শ্রমিকদের উপর হামলা করা হয়, যার ফলে অনেকের মৃত্যু হয় ও অনেকে বেঁচে থেকেও পঙ্গুত্ববরণ করে। তাদের কেউ কোন দিন খোঁজ নেয় না, তাদের নিয়ে কেউ ভাবে না। অথচ তার উপর নির্ভরশীল ছিল একটি পরিবার। তাই এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় হরতাল জনগণের মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল হরতালকে সমর্থন করে এবং প্রতিটি দলই হরতাল করে। আপনারা যারা রাজনীতি করেন তাদের বলছি আপনাদের গাড়ি, বাড়ি এবং ব্যাংক-ব্যালেন্স সবই আছে। আপনাদের সারা বছর হরতাল থাকলে কিছুই হবে না। রাজনীতিবিদরা বলেন হরতাল দেয়া গণতান্ত্রিক অধিকার আর এই গণতান্ত্রিক অধিকারের দোহাই দিয়েই হরতাল করেন, রাজপথ বন্ধ করেন, তাদের বলছি রাজপথ কোন দলের নয়, , রাজপথ হল জনগণের। তাই রাজপথ বন্ধ করার অধিকার আপনাদের নেই, জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার ক্ষমতা আপনাদের নেই। এতটুকু আপনাদের জ্ঞান হল না হরতাল মানুষের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে?
শরীফুল ইসলাম
করটিয়া সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,
গণিত বিভাগ (১ম বর্ষ)।
--------
সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য
চাই স্ব-উদ্যোগী ও
স্বচালিত মানিসকতা
‘কবিতায় কি লিখব যখন বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ’। বঙ্গোপসাগরের বেলাভূমিতে পলি-মাটির নরম আস্তরণের উপর গড়ে ওঠা সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যমলা উর্বর বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভূ-ভাগ ও রাষ্ট্রসত্তার বিকাশ ঘটেছে এ এলাকার জনগণের শত শত বছরের অব্যাহত সংগ্রাম ও সাধনার মাধ্যমে। বাংলার শত বর্ষব্যাপী মুসলিম সংস্কৃতির জাগরণ ও দীর্ঘ সংগ্রামের গতিধারা থেকেই আজকের বাংলাদেশ। বিশ্বের মানচিত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। একে উন্নত রাষ্ট্রে রূপ দেয়ার দায়িত্ব আমাদের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের। আর আমরা আমাদের প্রজন্মকে নিয়ে ঐ স্বপ্নগুলোকে সে আঙ্গিকেই সাজাতে চাই। আমরা তো সেই দেশের নাগরিক হিসেবে গর্ববোধ করি যে দেশের একজন ট্যাক্সি ড্রাইভারের সততা বিশ্ব মিডিয়ায় ঝড় তোলে। আমাদের অহংকার আমাদের নাগরিকত্বে, যে দেশের নাগরিকরা কখনোই পরাভবের নিগড়ে বন্দি হতে শেখেনি। তাই আমাদের প্রজন্মের সততার ব্যাপারে অনেক বেশি আশাবাদী। এখন প্রয়োজন একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে স্ব-উদ্যোগী ও স্বচালিত মানসিকতার। আমাদের দেশেও যদি বিভাজনের রেখাটি না থাকতো তাহলে আমরাও নিজেদের দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য একেকটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হতাম। তাই জাতিসত্তার প্রয়োজনে আমাদের বিভাজনের মনোভাবকে পরিহার করা উচিত। একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য এটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে।
মো. নজরুল ইসলাম রনি
মাস্টার্স অধ্যয়নরত, মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা কলেজ।
