আগামী দিনের বাংলাদেশ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৯
এভাবে চলতে থাকলে আগামীদিনের বাংলাদেশ ভয়াবহ রূপ লাভ করবে আগামীদিনের বাংলাদেশ আসলে কেমন হবে বুঝতে পারছি না। দিনকাল যে অবস্থা তাতে ভাল থাকা যাবে কিনা আল্লাহ্ই জানেন। কারণ, রাজনৈতির অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে, জ্বালাও পোড়াও, মারো এখন বিরোধী দল করছেন আবার নতুন সরকার এসে বসলে তখন ঐ সরকারও জ্বালাও, পোড়াও, মারোতে লিপ্ত হবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা এই জনগণ তো ভোট দিয়েই নির্বাচনে জয় এনে দিয়েছি, সেই কারণে আপনারা সরকারের আসনে বসেছেন। তাহলে আমরা জনগণ তো সব আপনাদের দিকে তাকিয়ে থাকবোই। দাম কমানো, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বিদ্যুত্ সমস্যা, আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন, প্রশাসনে দুর্নীতি, রাস্তাঘাটে বখাটে ছেলেদের উত্পাত বন্ধ করা, চলাচলের জন্য রাস্তাঘাট মেরামত করা, কিন্তু তা না করে দু’নেত্রী মিলে রেষারেষি করলে তা জনগণের কোন উন্নতি হবে না। কিন্তু এখন দেখা যায় ১৬ বছর বা ১৮ বছর না যেতেই তারা রাজনীতিতে ঝুঁকে পড়েন, ভার্সিটিতে গেলে তো কথাই নেই। বর্তমান তরুণরা পড়াশুনা করতে গিয়ে রাজনীতি নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে বর্তমানের দূরের কথা আগামীদিনের বাংলাদেশ খুবই ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। তাই যে সরকারই আসুক তরুণদের এভাবে পথে নামাবেন না। সে জন্য যে নেত্রীই আসুক একটা অনুরোধ ভার্সিটি লেবেল ছাড়া কোনো তরুণ যেন রাজনীতির দিকে না যায়, সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং যে পথে জনগণ ভাল অবস্থায় খেয়ে দেয়ে বসবাস করতে পারে সে দিকে একটু খেয়াল রাখার অনুরোধ করছি। মো. মোশারফ হোসেন সোহাগ ২য় বর্ষ, রোল-৭৩, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ষোল শহর ফরেস্ট অফিস, চট্টগ্রাম। সকলেই আশাবাদী নতুন প্রজন্মরা সফল হবেই আমরা বাংলার মাটিতে বসবাস করি। এদেশের সকল কাজে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন নতুন প্রজন্মের। আমরা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসাবে দেখতে চাই। যে দেশে থাকবে নারীর সম্ভ্রম রক্ষার অধিকার, শিক্ষাঙ্গনে থাকবে সুশিক্ষা এবং রাজনীতি হবে সম্মানজনক। এদেশে অনেক আইনজীবী, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, রাজনীতিক অর্থাত্ সম্মানিত ব্যক্তি যারা তারা এই দেশকে ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী সফল রাষ্ট্র হিসাবে গড়তে পারেন। আমরা এ দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত, ব্যভিচারমুক্ত করে, আধুনিকতার স্পর্শ এনে একাত্তরের মত সংগ্রাম করে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে চাই, নতুন প্রজন্মের কাছে এটাই চাওয়া। এই দেশকে দরিদ্রমুক্ত, বেকারমুক্ত করার জন্য একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা চাই। যারা গরীবের মুখে, বেকারের মুখে সোনালি হাসি ফুটাতে পারবে। সবশেষে বলতে চাই, সকলের সাহায্যেই বাংলার ভূমি, মানুষ ও প্রকৃতি সোনার বাংলা গড়ার জয়গান গাইতে পারে, নতুন প্রজন্মের কাছে এভাবেই বাংলাদেশকে দেখতে চাই। এ রকম একটি সুযোগ সকলের মাঝে এনে দেয়ার জন্য আমার পক্ষ থেকে দৈনিক ইত্তেফাককে ধন্যবাদ জানাই। মো. নাজমুল হোসাইন বিজ্ঞান বিভাগ, শ্রেণী একাদশ, রোল-৫২, হাজী জামালউদ্দীন ডিগ্রি (অনার্স) কলেজ, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। বাংলাদেশ হোক উন্নয়নশীল এবং দারিদ্র্যমুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি প্রত্যেক রাষ্ট্রই চায় সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক, উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক এবং বিশ্বের মাঝে পরিচিতি লাভ করুক। কিন্তু রাষ্ট্রের কিছু কর্মকাণ্ডের দরুন দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের আজ দুরবস্থা। এদেশে সম্ভাবনাময় যে সব খাত রয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছা সম্ভব বলে মনে হয়। যেমন প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটানো, কৃষিখাতকে সমৃদ্ধকরণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ইত্যাদি। তাছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে অতুলনীয় চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু অতি দুঃখের সাথে বলতে হয় শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এবং অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব, ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, খুন-খারাবি, রগ কাটা ইত্যাদি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। এসব কিছুই বিবেক বর্জিত কর্মকাণ্ডের ন্যায়। আর এইগুলোর জন্য মূলত দায়ী আমাদের স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি ও ক্ষোভ। দেশ ও মানব উন্নয়নের জন্য রাজনীতি ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু আজকাল রাজনীতির যে অবস্থা তা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। আর এ জন্য দরকার গণসচেতনতা বাড়ানো। তাই সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হলো সকলের মধ্যে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদেরকে একটা জনশক্তিতে রূপান্তরিত করলে এ দেশ অপার সম্ভাবনাময় এগিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। মো. আল আমিন বিবিএ, ৪র্থ বর্ষ, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বনানী, ঢাকা ১২১৩। আমরাই গড়বো আগামির বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ আমাদের বাংলাদেশ। মানবসম্পদ আমাদের প্রধানতম হাতিয়ার। দিনে দিনে শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ক্রীড়া, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে উঠছে যারা সুন্দর বাংলাদেশ গড়বেই। উত্সাহ ব্যঞ্জক কর্মকাণ্ড চর্চার মাধ্যমে পলান সরকার থেকে শুরু করে মুসা ইব্রাহীম, সাকিব আল হাসান কিংবা বিশ্ব গণিত অলিম্পিয়াডে বিজয়ী বাংলার মেধাবী সন্তানেরা যেখানেই সুযোগ পাচ্ছে সেখানেই উদাহরণ সৃষ্টি করছে। আমাদের মেয়েরাও এখন আর পিছিয়ে নেই। সর্বোচ্চ রফতানি খাত গার্মেন্টস শিল্প তাদের অংশগ্রহণেই সমৃদ্ধ। বিভিন্ন প্রকার এনজিও এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থার মাধ্যমে ধীরে-ধীরে বিকাশ পাচ্ছে বাংলার নারীদের দক্ষতা এবং ক্ষমতায়নের। তারা এখন আর নির্ভরশীল নয়। প্রাকৃতিক সম্পদে এবং সৌন্দর্যে সত্যিই সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি। পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন ও প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা সামগ্রিক উন্নয়নের প্রধানতম অন্তরায়। এতদ সত্ত্বেও, আমার বিশ্বাস বাঙালি বীরের জাতি এত সহজে হারার নয়। আমাদের বিজয় নিশ্চিত। আমরাই গড়বো আগামির বাংলাদেশকে। মো. ফখরুল ইসলাম (টিপু) বিএ শেষ বর্ষ পরীক্ষার্থী, বাউবি, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন