আগামী দিনের বাংলাদেশ

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫১
০০০ গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা ও রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহমর্মিতাই পারে সোনার বাংলা গড়তে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কথায় কথায় হরতাল, ভাংচুর, হত্যা, বাসে অগ্নিসংযোগের মত অসুস্থ রাজনীতির চর্চায় মগ্ন। বর্তমানে বাংলাদেশে ছোট থেকে বড় এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে দুর্নীতি হয় না। একটি স্বাধীন দেশের সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত, অর্থনৈতিক মুক্তি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ গড়া। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় স্বাধীনতার ৪১ বছর পরেও আমরা যেন আগের অবস্থাতেই পড়ে রয়েছি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যেন ভোগ্যপণ্যকে হাতের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। অমিত সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ, তা সত্ত্বেও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে নিরুত্সাহিত হচ্ছে, রপ্তানি বাজার দিন দিন সংকোচিত হচ্ছে। গুণগতমানের রপ্তানি পণ্যের অভাবে হরতালের মত রাজনৈতিক কর্মসূচি সরকার ও দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষকে বিপাকে ফেলছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা ও রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সুমন দেবনাথ বিবিএ ৩য় বর্ষ, ৬ষ্ঠ সেমিস্টার, ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা। ০০০ সম্ভাবনার এই বাংলাদেশকে উন্নত দেশ থেকে শিক্ষা নিতে হবে ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে দীর্ঘ নয়মাস যুদ্ধের পর আমরা বিজয় অর্জন করি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। কিন্তু যারা এ দিনের জন্য তাজা রক্তের বিনিময়ে প্রাণ দিয়েছেন তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন সম্পূর্ণরূপে ঘটাতে পারিনি, কারণ আমরা সবাই একসঙ্গে দেশের স্বার্থের জন্য কাজ করিনি। তবে আমাদের দেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। যদি আমরা দেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলোকে কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমরা বিশ্বের জন্য মডেল হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। বাংলাদেশ একটি জনবহুল উন্নয়নশীল দেশ। এর জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করে বাংলাদেশ একদিন উন্নত দেশের কাতারে উঠতে পারে ইনশাল্লাহ। বাংলাদেশের মানুষের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন অবদানের কারণে বোঝা যায় যে বাংলাদেশ একদিন উন্নত দেশের সামিল হবে। আমরা দেখতে পারছি যে, বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, দরিদ্রতা কমেছে, মাথাপিছু আয় কিছুটা বেড়েছে এবং সকল ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নত হচ্ছে। দুর্নীতি, হানাহানি, রাহাজানি সকলকিছুই কমাতে হবে। কম্পিউটারসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে, কারিগরি শিক্ষায় জ্ঞান অর্জন বাড়াতে হবে। সকলের মনে সত্ ইচ্ছা, দেশপ্রেম বাড়াতে হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে সকল দলের রাজনীতিবিদদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে ও সাথে সাথে উন্নত দেশ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। মো. আবদুল্লাহ মাস্টার্স ফাইনাল, ঢাকা কলেজ, ঢাকা। ০০০ মিলেমিশে জাতীয় স্বার্থে কাজ করলে আগামীর বাংলাদেশ হবে উন্নত ১৯৭১ সালে নরপশু পাকিস্তানি সৈন্যরা বাংলাদেশে যে গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালিয়েছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আর এই ত্রিশলক্ষ মানুষের রক্ত এবং দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। আর স্বাধীনতা বলতে বুঝায় যে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ও এমন পরিবেশ যেখানে কেউ কারো ক্ষতি না করে নিজের অধিকার ভোগ করতে পারে। কিন্তু আজ আমরা নিজের অধিকার ভোগ করতে পারছি না। একজন মানুষ বাসা থেকে যে কোন জায়গায় যেতে তার ভয় হচ্ছে। কারণ হরতাল, ডাকাতি, মারামারি, ছিনতাই, রাহাজানি, খুন ও ধর্ষণ ইত্যাদি সমস্যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ জন্যই কি লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিল এই নরপশুদের শাসনের জন্য। আরেকদিকে বিশ্বজিেক নির্মমভাবে যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমরা দেখতে চাই না হত্যাকারীরা জামায়াত শিবির, না ছাত্রলীগ না যুবলীগ। কিন্তু আমরা সবাই মানুষ, সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তাই এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে সার্বিক উন্নতি ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য উভয়দলকে মিলেমিশে জাতীয় স্বার্থে কাজ করার আহ্বান আশা করছি। মো. আমানউল্লাহ আমান ১ম বর্ষ, আলহাজ্ব সফিউদ্দিন আহম্মেদ কারিগরি মহাবিদ্যালয়, আটোয়ারী, পঞ্চগড়। ০০০ বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলাই হবে বর্তমান ও আগামীর অঙ্গীকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা পরচর্চার রাজনীতি চর্চা করে। যার ফলে দেশ আজ অন্ধকারে নিপতিত হচ্ছে। কোন দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা থাকলে সে দেশ উন্নতি করতে পারে না- বরং কালের স্রোতে হারিয়ে যায়, সেটা আমাদের অত্যন্ত জানা। তারপরেও আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পরচর্চায় ব্যস্ত থাকে। বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে অন্যতম দেশ হিসেবে তুলে ধরার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। একটি ঘনবসতির দেশে উন্নয়ন দুরূহ ব্যাপার। এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে দারিদ্র্য হচ্ছে বড় সমস্যা। দারিদ্র্য দূর করার জন্য দেশি-বিদেশি, সরকারি, বেসরকারি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি একটি বড় সমস্যা তাই ১৭ ডিসেম্বর, ২০১২-এর গৃহীত জনসংখ্যা নীতি বাস্তব কার্যকর করে জনসংখ্যা হ্রাস করতে হবে। জনসংখ্যা নীতি-২০১২ বাস্তব কার্যকর হলে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের হার ৭২ শতাংশতে উন্নীত করে বার্ষিক প্রজননের হার ২.৩ শতাংশ থেকে ২.১ শতাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব ও ২০১৫ সালের মধ্যে নিট প্রজননের হার ১ অর্জন করা সম্ভব হবে। এবং দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি হ্রাস পাবে। তাহলে দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। তাই সরকার থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ পর্যন্ত সবাইকে একান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে প্রিয় দেশকে আলোকিত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এম. ইলিয়াছ আলী একাদশ বাণিজ্য, সরকারি বরিশাল কলেজ, বরগুনা, তালতলী, বরিশাল। ০০০ আগামীর বাংলাদেশ হোক সকল অসঙ্গতি আর অনাচারমুক্ত বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার একটি দেশ। যে দেশের দামাল ছেলেরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটশক্তি ওয়েস্ট-ইন্ডিজকে নাকানি-চুবানি খাইয়ে ওয়ান ডে সিরিজ জিতে ক্রিকেটবিশ্বকে জানান দিচ্ছে, “আমরা প্রস্তুত হচ্ছি, ভবিষ্যতের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অভ্যর্থনা পেতে।” যে দেশের অকুতোভয় সৈনিকেরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যায় অংশ নিয়ে বিশ্বকে এই বার্তা পৌঁছায় “আমরা যুদ্ধজয়ী জাতি, তাই রণাঙ্গনে আমরাই সেরা।” আবার একইসাথে বাংলাদেশ সীমাহীন সমস্যার রাহুগ্রাসে আবদ্ধ এক মৃত্যুপুরী। যে দেশের পিতা-মাতারা তাদের রক্ত পানি করা অর্থ দিয়ে আদরের ছেলেটিকে সেরা বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায় আর সেই নিরীহ ছেলেটিই হয়ে যায় সেরা চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনী। এত এত অসঙ্গতিতে পরিপূর্ণ বাংলাদেশ আমরা চাই না, চাননি তারাও, যাদের রক্তের মূল্যে বাঙালি স্বাধীনতা কিনেছে। আমরা সেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যে বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যা জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। যে দেশ দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে বের হয়ে আসার মডেল হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে। আমরা স্বপ্ন দেখি সেই বাংলাদেশের যে বাংলাদেশ উন্নত গবেষণার মাধ্যমে কৃষি-প্রযুক্তিতে প্রতিনিয়ত এগিয়ে গিয়ে একদিন খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণ হবে। যে দেশ, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকশিল্পে ব্যাপক সফলতা অর্জন করবে। যে বাংলাদেশে চাকরি পেতে বেকারকে ভিটামাটি বিক্রি করতে হবে না, যে বাংলাদেশে ক্ষমতার দাপটে অপরাধী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারবে না। যে বাংলাদেশের নাগরিক ভিন্ দেশিদের সামনে বুক ফুলিয়ে বলতে পারবে, "I am Bangladeshi"। মো. শামীম রেজা সয়েল সায়েন্স, ৩য় বর্ষ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন