আগামী দিনের বাংলাদেশ

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৭
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না প্রতিহিংসা ও হানাহানিবিহীন রাজনীতিই বয়ে আনতে পারে উন্নত সমাজ সুজলা সুফলা সৌন্দর্যের ঐতিহ্যভূমি আমার প্রিয় মাতৃভূমি। কিন্তু বড় হয়ে এখন দেখছি শুধু প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি, হাঙ্গামা-হানাহানিতে লিপ্ত আমাদের রাজনীতি। দুর্নীতিতে কয়েকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমার প্রিয় মাতৃভূমি। যে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করে আত্মসাত্ করে বসে আছে সমাজের রাঘব-বোয়ালরা। আবার সেই দেশের শহরের প্রতিটি অলি-গলিতে যখন এই তীব্র শীতে শুয়ে থাকা আপনার, আমার মত মানুষ দেখি তখন অজস্র ধারায় অশ্রু ঝরে। লেপের ভিতর হতে গা শিউরে ওঠে যখন নিরীহ পথচারী বিশ্বজিত্-এর কথা মনে পড়ে। তাও আবার শুনেছি যারা হত্যা করেছে তা নাকি ছাত্রনামধারী। পত্রিকার কলামে পড়েছি- এক ছাত্রের বাবার মৃত্যুর করুণ কাহিনী। ছাত্ররা দেশের কর্ণধার। তারাই একটি দেশের বড় শক্তি। তারাই জাতিকে নেতৃত্ব দিবে, দেশকে ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা করবে। তাই তরুণ ছাত্রদের প্রতি আমার আহবান—তারা যেন এই হানাহানির রাজনীতি বন্ধ করে তাদের মূল লক্ষ্যের প্রতি অগ্রসর হয়। তাহলেই ফিরে পাবো আমার মায়ের মুখে শোনা সুজলা-সুফলা সৌন্দর্যের ঐতিহ্যভূমি আমার প্রিয় মাতৃভূমি। এস. এম জামালউদ্দীন সরকার (তুষার) প্রথম বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১০০০। ব্যক্তিস্বার্থ ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ গড়ার স্বার্থে যোগ্য ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর যখন কোন চাকরির জন্য পরীক্ষা দেয়, পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার আগে শোনা যায় প্রশ্ন ফাঁস। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক এর কোন সুষ্ঠু তদন্ত নেই। কারণ মোটা অংকের ভ্যাট হয়ত সরকারের ফান্ডে জমা হয়। দলীয়করণ আর স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হল তারা তো বেঁচে গেল আর অন্যরা চাকরি না পেয়ে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারছে না। ফলে নিজেদেরকে সমাজের অভিশাপ মনে করছে, আসলে এরা কি সমাজের অভিশাপ? এজন্য যারা নীতিনির্ধারক তাদেরকে অবশ্যই প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে বের করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু তাই নয়, দেশের সংবাদ মাধ্যমের চাই স্বাধীনতা, প্রশাসনে থাকবে সচ্ছতা, ধ্বংসাত্মক রাজনীতি পরিহার, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি পরিহারসহ যারা মেধাবী ও যোগ্য তাদেরকে দেশের স্বার্থে প্রাধান্য দিতে হবে। সেইসাথে দুদককে ব্যক্তিস্বার্থে ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দেশ গড়ার স্বার্থে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এরফলে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সোনার বাংলা হিসাবে শির উঁচু করে দাঁড়াবে। মো. আরিফ হাসান (ওসমানী) বিএসসি (অনার্স) শেষবর্ষ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, শহীদ হবিবুর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সংঘাতময় রাজনীতি আগামীদিনের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অন্তরায় যদি সত্যিকার অর্থে সুস্থ কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করতে হয় তাহলে দুই নারী স্বৈরশাসকদের রাজনীতি থেকে বিদায়সহ দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কখনো পরিবারতান্ত্রিক অপ-রাজনীতি চলতে পারে না সেই মর্মে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নতুন ধারার রাজনীতি এবং কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দুই নেত্রীকে এখনই রাজনীতি থেকে অবসর নিতে হবে। নতুন ধারার রাজনীতি দেশকে আধুনিক সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবে। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। তাইতো কবির ভাষায় বলতে হয়: “মেঘ দেখে আর কেউ করিস নে ভয় আড়ালে যার সূর্য হাসে।’’ মো. ইয়ামিন খান শিক্ষার্থী, ইংরেজী বিভাগ, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর। একদিন না একদিন জনগণ তার মূল্যবান হাতিয়ার সঠিকভাবে ব্যবহার করবে সময়ের কালক্রমে, সময়ের ব্যবধানে, সময়ের বিবর্তনে আজ হোক, কাল হোক, দশ বছর পরে হোক কিংবা পঞ্চাশ বছর পর একদিন না একদিন জনগণ তার মূল্যবান হাতিয়ার সঠিকভাবে ব্যবহার করবে, নিয়ে আসবে মওলানা ভাসানী কিংবা মহাত্মা গান্ধীর মত নতুন নেতৃত্ব, হবে নতুন ভোর, নতুন সকাল, পূর্বাকাশে রক্তিম রবির আগমনের সাথে সাথে জন্ম নেবে এক নতুন সোনার বাংলা, যার জন্য আমাদের এত অপেক্ষা। সেইদিন নতুন প্রজন্মের কাছে রেকর্ড করা বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে, ওরা এই পরিস্থিতিকে চিহ্নিত করবে রাজনীতির এক কালো অধ্যায় হিসেবে, ওরা চিহ্নিত করবে বিভীষিকাময় রাজনীতি সৃষ্টিকারীদের। ওরা রাজপথে নামবে, করবে আন্দোলন, চাইবে বিচার, সেদিন কিন্তু পালাবার পথ থাকবে না। তাই এখনই সময় শুধরে নেবার, নইলে সময় গেলে সাধন হবে না। মোহাম্মদ হালিম ব্যাচেলর সায়েন্স অব ডেন্টাল, স্টেট কলেজ অব হেলথ সায়েন্স, ঢাকা। রাজনৈতিক সুষ্ঠু ধারা ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে চাই একটা কথা আছে— সর্বাঙ্গে ব্যথা ওষুধ দিব কোন জায়গায়? বাংলাদেশের অবস্থা হচ্ছে অনেকটা সেরকম। বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা নেই যে জায়গায় সুষ্ঠুভাবে যার যার কাজগুলো করতে পারছে। সব জায়গায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ইত্যাদি চলছেই। যে কেউ ক্ষমতার মসনদে বসে নিজের ইচ্ছামত কাজ করছেন। গণতন্ত্র বলে যে একটা কথা আছে, মানবতা বলে যে একটা জিনিস আছে, দেশকে ভালবাসার যে একটা বিষয় আছে এগুলো সবাই বেমালুম ভুলে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ হচ্ছে অপার সম্ভাবনাময় চিরসবুজের দেশ। এ দেশে জনসংখ্যা বেশি হলেও তাদের যদি কাজে লাগানো যায় তাহলে তারা মানবসম্পদে পরিণত হবে। মানবসম্পদ হচ্ছে একটি দেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ। মানবসম্পদের পাশাপাশি খনিজ সম্পদের পরিমাণও কম না। আছে কৃষি সম্পদ। এছাড়াও আছে শিল্প সম্পদ। বাংলাদেশের অনেক ধরনের শিল্পই এখন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে চিংড়ি শিল্প, মত্স্য শিল্প, জাহাজ শিল্প ইত্যাদি হরেক রকমের শিল্প পণ্য গড়ে উঠছে। এক কথায় বললে এ দেশটাকে যদি কেউ স্বনির্ভর করার ইচ্ছা পোষণ করে তাহলে যে কোন সময় তার প্রতিফলন ঘটাতে পারে। সংঘাতময় রাজনৈতিক দর্শন পরিবর্তন করে দেশ এবং জাতির কল্যাণে কাজ করলেই কেবলমাত্র স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে পারে। তাহলে দেশে কোন বেকার থাকবে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ নৌকায় বিদেশে গমন করবে না। ব্ল্যাকের মাল আনার জন্য বিএসএফ-এর গুলিতে কেউ মরবে না। সন্ত্রাসের মত ক্যান্সার জাতির মাথায় আসন পেতে বসবে না। যুবকরাও রাজপথে নামতে চাইবে না। কামরুল হাছান মাসুক হিসাববিজ্ঞান চতুর্থ বর্ষ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন