অন্তহীন সমস্যা নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ময়মনসিংহ রেলওয়ে । লোকবল সংকট, রেললাইনের দু’পাশে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ ও ময়লা আবর্জনা রেখে যথেচ্ছ ব্যবহার , লাইনের পাশে পুকুর ডোবা নির্মাণ, রেল কলোনির ঘরবাড়ি বেদখল, রেললাইনের উপর মানুষজন ও গাবাদিপশুর অবাধ বিচরণসহ নানাবিধ কারণে ব্যাহত হচ্ছে রেলের স্বাভাবিক কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ শহরের ছায়াবানীর গেইট থেকে সানকিপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত রেললাইনের দু’পাশে আবর্জনার স্তূপ । আবার এই লাইনের দু’পাশে নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধ হাটবাজার। তাছাড়া ঐ লাইনের পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা। ময়মনসিংহ-জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ,ময়মনসিংহ-গৌরীপুর-শ্যামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ-জারিয়া ঝঞ্জাইল লাইন পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় জিওবি’র অর্থায়নে রেললাইন নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পাদনের পথে । কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে ভারতের কালিন্দি এবং বাংলাদেশের করলা কর্পোরেশন জয়েন্টভেঞ্চারে মাধ্যমে। ঐ প্রকল্পের আওতায় ব্রিজ,লাইট ও স্টেশন বিল্ডিং নির্মাণ প্রকল্পের কাজও বাস্তবায়িত হচ্ছে। সূত্র মতে, একটি প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে ১শ’৭৪ কোটি টাকা । উপরোক্ত লাইনগুলোর দু’পাশে দেখা গেছে লাইনের পাশে মাছ চাষের লক্ষ্যে স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য পুকুর ডোবা। রেললাইনের উপর দিয়ে চলাচল করছে মানুষ , গরু-ছাগল । রেললাইনের উপর শুকানো হচ্ছে গোবর । রেল বিশেষজ্ঞদের মতে , রেললাইন সংরক্ষণের জন্য লাইনের উপর সর্বদা ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও কেউ এ নিয়ম মানেন না। উল্লেখিত কারণে রেল-এর ফিটিংস এলাইনমেন্ট প্যাকিং খারাপ হয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। লাইনের পাশে পুকুর ডোবার কারণে রেললাইনের মাটি সরে যায়। অপরদিকে লাইনের পাথর নানা কারণে যথেচ্ছ অপব্যবহার হয়। রাজনৈতিক কারণে প্রতিপক্ষরা ঢিল হিসাবে পাথর ছোঁড়ে। লাইনের পাশে কুলসহ নানাবিধ ফল পাড়তে ঢিল হিসাবে ব্যবহার করা হয় পাথর। সমপ্রতি গফরগাঁও থানার ওসিসহ এক ডজন পুলিশ এই পাথরের ঢিলে আহত হন। রেলের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ-আঠারবাড়ি লাইনের অনেকাংশে লাইনের স্লীপার পুরানো হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে । এগুলো পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে , ময়মনসিংহ রেলওয়ের আওতাধীন মালগুদাম, নিউ কলোনি, স্টেশন কলোনি, পাওয়ার হাউজ কলোনি, কেওয়াটখালী কলোনির অসংখ্য ঘর প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর ধরে বেদখল করে রেখেছে। রেলবিভাগ এর প্রতিবাদ করলে হামলা লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। এই ঘর এবং সম্পত্তি দেখভালের জন্য রেলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের একজন কানুনগো এবং একজন আমিন দায়িত্বে থাকলেও খোদ রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণই তাদের কখনও দেখেননি বা চেনেন না। সমপ্রতি যোগাযোগ মন্ত্রী ময়মনসিংহের রেলবিভাগের কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে উল্লেখিতদের ঘটনাস্থলে না পেয়ে ভর্ত্সনা করেন। রেলের সম্পত্তিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের জন্য ঢাকা বিভাগে রয়েছেন মাত্র ১ জন ম্যাজিস্ট্রেট। সময় স্বল্পতার কারণ অথবা অন্য কারণে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয় কালেভদ্রে।এ ক্ষেত্রে রেলবিভাগের সমন্বয় হীনতাকেও অনেকে দায়ী করছেন। এত বড় জনসংখ্যার কলোনিতে নেই গ্যাস সরবরাহ । এতে যারপরনাই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কলোনিবাসীকে । রেলবিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সেবার জন্য কলোনিতে রেলওয়ে চিকিত্সালয় থাকলেও অধিকাংশ সময়ই এটি বন্ধ থাকে। জানা যায়, এই চিকিত্সালয় দেখভালের জন্য রয়েছেন মাত্র ১ জন ডাক্তার। তাও তিনি আসেন ঢাকা থেকে। ময়মনসিংহ জংশনে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, দেশের ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ জংশনের প্লাটফর্ম সম্প্রসারিত হওয়া একান্ত প্রয়োজন। ময়মনসিংহ রেলের সূত্র জানায়, প্রকৌশল বিভাগে (স্থায়ী পদ )৩৫টি পদের বিপরীতে মঞ্জুরীকৃত লোকবল ৪৩৪ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১৯৯ জন । রেল পরিচালনার স্বার্থে সাময়িক সমস্যার সমাধান করা হয় অস্থায়ী লোক নিয়োগ করে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে।
ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, ২০১১ সালে আগস্টে তিনি যোগদান করেছেন। রেল দেশের সম্পদ। এ লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তিনি যোগদানের পর বাংলো সংস্কার ও এক ডজন কলোনির ঘর সংস্কার করেছেন। তিনি রেলের অবৈধ দখলদারদের উত্খাতে ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ময়মনসিংহ সদর আসনের এমপি ও রেল মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ইত্তেফাককে জানান, রেলের গুণগতমান উন্নয়নে লোকবল নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।
