গঠনমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ উন্নত হবে
উন্নত দেশে ছাত্র-ছাত্রীরা যে বিষয়ের উপর লেখাপড়া করে তাদের সেই বিষয়ের উপর চাকরির সুযোগ থাকে। তাই তারা উন্নতির চরম শিখরে উঠে যাচ্ছে। আর আমরা মার্কেটিং-এর উপর লেখাপড়া করে শিক্ষক হচ্ছি। কোন একটা কারিগরি বিষয়ে পড়াশোনা করে অফিসিয়াল কাজ করছি। যার ফলে প্রকৃত মেধা বিকাশ করতে পারছি না এবং দিন দিন সবক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছি। তাই আমাদের দেশে কর্মমুখী শিক্ষা-ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে পারলে এবং পাঠ্য বইয়ে নতুন নতুন তথ্য সংযোজন করতে পারলে ছাত্র-ছাত্রীরা আধুনিক তথ্য পেয়ে উপকৃত হবে। অপরদিকে তারা যে বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করে সেই বিষয়ের ভিত্তিতে চাকরির ব্যবস্থা করতে পারলে নতুন নতুন তথ্য-প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হবে এবং কাজের মান উন্নত হবে। আর এইভাবে আমাদের দেশ সাফল্যের দিকে অগ্রসর হবে।
মো. শাহজালাল হোসেন
১ম বর্ষ,
টাংগাইল কমার্স কলেজ।
জাতির উন্নয়নের জন্য
সমন্বিত প্রচেষ্টা
একান্ত প্রয়োজন
বাংলাদেশ আধুনিক বিশ্বে দরিদ্র ও জনবহুল দেশ হিসেবে পরিচিত। এদেশ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে দিন দিন অনগ্রসরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর এদেশের অনগ্রসরতার প্রধান কারণ, অস্থিতিশীল রাজনীতি। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি এদেশের জনজীবনে বয়ে এনেছে অশান্তির কালোছায়া। ক্ষমতাসীন সরকার যখন ঘুষ, দুর্নীতি, আইন-শৃঙ্খলা অবনতি ও দলীয় প্রভাব দেশের উন্নয়ন পদ্মার জলে ভাসিয়ে দিচ্ছে ঠিক সেই সময়ে সঠিক পথ দেখানোর জন্য বিরোধী দলের ভূমিকা মুখ্য। আর সরকারি দলকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য ধর্মঘট, গণসংযোগ, অবরোধ বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার কিন্তু ধর্মঘটের নামে গাড়ি ভাংচুর অগ্নিসংযোগ, হত্যা, নৈরাজ্য সৃষ্টি করা কোন্ ধরনের অধিকার? বেড়েই চলছে হত্যা, রাহাজানি, সন্ত্রাসবাদ, ছিনতাই এর কি কোন নিরসন নেই? দেশের অরাজকতা সৃষ্টির স্রষ্টা ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধীদলই নয় এবং এর জন্য দায়ী আমরাও। দেশটা শুধু তাদের নয় আমাদেরও, এই দেশের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা একান্ত প্রয়োজন ও দেশের উন্নয়নকল্পে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটাতে হবে। দেশের সংকটময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়ন করার লক্ষ্যে দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করে তাদের বিদেশে প্রেরণ করে জনসংখ্যা হ্রাস করতে হবে ও সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। আর দেশের উন্নয়নকল্পে ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে বৃহত্ স্বার্থে নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। আর এ সকল সমস্যা নিরসনে সমন্বিত প্রচেষ্টা একান্ত প্রয়োজন। আসুন আমরা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জাতিকে কলুষমুক্ত করে জাতির উন্নয়নের দ্বার উন্মোচন করি।
এমদাদুল হক আরিফ
২য় বর্ষ
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
সরকারি সাদত কলেজ,
করটিয়া, টাংগাইল।
আগামীদিনের উন্নত
বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ
প্রয়াস প্রয়োজন
বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এই দেশে সম্পদের কোনও অভাব নেই। যদিও জনসংখ্যার তুলানায় আবাদি জমির পরিমাণ অনেক কম। আমাদের যে পরিমাণ আবাদি জমি আছে তা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নতি সাধন করা সম্ভব। দেশের জনসংখ্যাকে বড় সমস্যা মনে না করে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে, দেশের উন্নতি সাধন করতে হলে আমাদেরকে তিনটি নিয়ম ব্যবহার করতে হবে, প্রথম নিয়ম পরিকল্পনা নিয়ম, দ্বিতীয় নিয়ম প্রশিক্ষণ, তৃতীয় নিয়ম পুঁজি— এই তিনটি নিয়ম একে অন্যের সাথে সম্পৃক্ত। এর সাথে আরো তিনটি ব্যবহার করতে হবে, প্রথম হলো শিক্ষা, দ্বিতীয় হলো শান্তি, তৃতীয় হলো শৃঙ্খলা—এই তিনটি ‘শ’ একে অন্যের পরিপূরক, আমাদেরকে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে মনোনিবেশ করতে হবে। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি আমাদের দেশকে অনেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যার সুফল আমরা পেতে শুরু করেছি। বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি দ্বারা পৃথিবী এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে। ঘরে বসে পৃথিবীর সকল উন্নত দেশের সাফল্যের কথা জানতে পারি। যা বাংলাদেশের উন্নতির ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। যেমন আত্মশক্তিতে বলিয়ান ব্যক্তি ও জাতি কখনো দরিদ্র থাকতে পারে না। তেমনি ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাতকে কর্মীর হাতিয়ার হিসাবে রূপান্তরিত করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে পারি। যা ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য সুফল বয়ে আনবে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন সাধন করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাসহ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। তাছাড়া দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং-এর কারণে দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ জনগণের উপর। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী ও কর্মীদের আরো সহনশীল ও ধৈর্যশীল হয়ে রাজনীতি করতে হবে। এছাড়া হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিহার করে দেশ ও জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে বিশ্ব মানচিত্রে একটি উন্নত দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। আসুন আমাদের অভ্যন্তরীণ সকল সমস্যার সমাধানকল্পে ব্যক্তিস্বার্থকে বাদ দিয়ে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করি। পরিশেষে এটাই হোক আমাদের ব্রত ও ভবিষ্যত্ প্রত্যাশা।
মোনতাছির আহমেদ
ডিএইচ এমএস, ৪র্থ বর্ষ
বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা-১০০০।
দেশকে শক্তিশালী,শান্তিপূর্ণ এবং বিশ্বের দরবারে মডেল হিসেবে উপস্থাপনে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই
আমাদের দেশে যদিও মুসলিম সংখ্যা বেশি, সেই হিসেবে আমাদের যে ধর্মীয় জ্ঞান থাকা দরকার সঠিক ভাবে তা নেই। একজন মানুষ তখনই দেশ ও দশের কল্যাণের জন্য কাজ করেন যখন তার মধ্যে সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান থাকে। কেননা প্রত্যেক ধর্মে দেশ, জাতি ও দেশের কল্যাণের বর্ণনা সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে রয়েছে। আর একজন মানুষ মার্জিত ও সুশিক্ষিত হয় ধর্মীয় জ্ঞানের দ্বারা। এর দ্বারাই একমাত্র চিহ্নিত করা সম্ভব ন্যায় ও অন্যায়। আর একটা জিনিস বা বিষয় বিশ্বাস করার ব্যাপারে কি কি শর্ত দরকার, তা ধর্মীয় শাস্ত্রে বা ধর্মের মধ্যে রয়েছে। আর বাংলাদেশকে আগামী এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি শক্তিশালী, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বের দরবারে মডেল হিসাবে উপস্থাপনের জন্য ধর্মীয় জ্ঞানের বিকল্প নেই। আর আমরা যদি এভাবে ধর্মীয় সনদপত্র নিয়ে ঘুরি, কিন্তু ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অন্বেষণ না করে, প্রথমে পাশ্চাত্য শিক্ষায় ধাবিত হই, তাহলে আমাদের অবস্থান কোথায় যাবে। আর কি হবে যার নমুনা এখনই প্রস্ফুটিত হতে শুরু করেছে। দ্রুত অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা একমাত্র সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব। কোন এক মনিষী বলেছিলেন-যে জাতি তার মূল ঠিক রাখে না। তার ধ্বংস অনিবার্য। আর ধর্মীয় অনুভূতি দেশ, জাতি, পৃথিবী ও পরকালীন শান্তি ও মুক্তিদান করে।
মো. আমিনুল ইসলাম
অনার্স, প্রাণীবিদ্যা বিভাগ।
সরকারি তিতুমীর কলেজ,
ঢাকা।
