আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত জাতি
প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক দেশেই একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ায় এখানেও নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেটাই সকলের প্রত্যাশা। কিন্তু দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলে দেয় বাংলাদেশ ভবিষ্যতে নির্বাচনের পরিবর্তে হানাহানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান জোট সরকার তার ক্ষমতার ৪ বছর প্রায় শেষ করেছে। সে হিসেবে ২০১৪ সালের আগেই এ সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এ সরকারের মেয়াদেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান বিরোধী দল যেভাবে এগুচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে তারা কোনভাবেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। এমনকি বিগত কয়েকটি উপ-নির্বাচনেও দলটি কোন প্রার্থী দেয়নি। আবার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে হরতালও পালন করেছে দলটি। এসব থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে তারা ছাড় দিতে রাজি নয়। অন্যদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগও দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তাদের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে। তবে শেষ মুহূর্তে দলটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে রাজি হতে পারে বলে অনেকেই আশা পোষণ করছেন। তবে এখানেও বিপত্তি রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মডেল কি হবে এবং কারা সেখানে প্রতিনিধিত্ব করবে সেটা নিয়ে প্রধান দুই দলের মধ্যে বিরোধ বাধা অযৌক্তিক কিছু নয়। সেক্ষেত্রে দেশ সংকটের মধ্যে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দুই দলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি। নইলে আবার অগণতান্ত্রিক সরকার রাজনীতি শুদ্ধিকরণের নামে ক্ষমতায় যেতে ইচ্ছুক হবে, যেটা দেশ, জাতি, সরকার, বিরোধী দল কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।
মো. মেফতাউল ইসলাম
চতুর্থ বর্ষ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
-------
নির্বাচনের পথ সহজ-সরল হিসাবে যে আসছে না তা বর্তমান সৃষ্ট রাজনৈতিক আচরণেই বোঝা যায়
বর্তমানে রাজনীতির যে অস্থির সময় চলছে তার জন্য নিঃসন্দেহে বর্তমান রাজনীতিবিদরাই দায়ী। তাদের ভুল নীতি নির্ধারণে মাসুল প্রতিনিয়ত আমাদেরকেই দিতে হচ্ছে। সামাজিক রাজনৈতিক পরিবেশ ভালো থাকার পিছনে মূলত কাজ করছে আইনের শাসন। তার জন্য প্রয়োজন আইনের নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রয়োগ। বর্তমানে অনেকটাই অনুপস্থিত । যার কারণে চলছে গুম, হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, আত্মহত্যা ও ধর্ষণসহ আরও অসংখ্য অনৈতিক কার্যকলাপ। সরকারের উচিত অগণতান্ত্রিক পথ পরিহার করে গণতান্ত্রিক পথ সৃষ্টি করা। তাতে অন্তত এ সংঘাত রাজনীতি থেকে আমরা মুক্তি পাবো। বর্তমানে সরকারের অধিনে কিছু নির্বাচন আমরা দেখেছি, সেখানেও দলীয়করণের মহোত্সব লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচন যতটা সুষ্ঠু হয়েছে তা মিডিয়ার কল্যাণে। এসব নির্বাচনের সাথে জাতীয় নির্বাচনের তুলনা করা যায় না। বর্তমানে নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে কোন বিকল্প নেই তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অমিতাভ কুমার বিশ্বাস
ডিএইচএমএস, ৪র্থ বর্ষ
ফেডারেল হোমিও প্যাথিক
মেডিক্যাল কলেজ. ঢাকা-১২১৫।
---
সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই জাতির প্রত্যাশা
গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে নির্বাচন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় দুই দলের প্রতিহিংসা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বি এন পি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করবে না, অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে বর্তমান সরকারের ঘোষণা। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে বিরোধী দলের বারবার হরতাল দেশকে অচল করে মানুষের মধ্যে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। হরতালবিরোধীরা বিক্ষোভের নামে বিশ্বজিতের মতো নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। এভাবে দেশকে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর করা সম্ভব নয়। দুই বড় রাজনৈতিক দলের হানাহানি, মারামারি, মামলা, হামলা সবকিছু পরিহার করে একটি শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমঝোতায় আসতে হবে। এর জন্য প্রথমে প্রয়োজন দুই নেত্রীর একসাথে বৈঠক। একটি নিরপেক্ষ ও সঠিক নির্বাচন দেশে অনুষ্ঠিত হবে এটাই জাতির প্রত্যাশা। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্ভুল ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে একটি সু্ষ্ঠু নির্বাচন জাতিকে উপহার দিবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংসদীয় পদ্ধতির মাধ্যমে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়; কিন্তু আমাদের দেশে যে দলই বিরোধী দলে থাকে তারা সংসদে না গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক জনসভায় যেসব বক্তব্য দেয় তা জনগণের কাছে হাস্যকর ও অগ্রহণযোগ্য। নির্বাচন যে পদ্ধতিতেই হোক দেশের জনগণ চায় একটি সুষ্ঠু, সঠিক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা।
এমএ কাইয়ূম
তৃতীয় বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
----
সত্ ও দক্ষ রাজনীতিবিদরাই গড়ে তুলতে পারে একটি সোনার বাংলাদেশ
বর্তমানে আমাদের দেশের যে অবস্থা তাতে মনে হয় না যে, এ দেশ ভালোভাবে চলবে। এ দেশের রাজনীতিবিদরা নিজেদের ঘর গোছানো নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এ দেশের ১৫ কোটি মানুষের সমস্যা যে আছে তা নিয়ে তারা ভাবে না। এ দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একদল ক্ষমতায় গেলে বিরোধী দল সরকারি দলকে সহযোগিতা করে না। বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আমাদের দেশের রাজনীতি যদি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো হতো তাহলে আমাদের দেশ সোনার বাংলাদেশ হয়ে উঠতো। আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো অর্ধাহারে-অনাহারে রয়েছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে অশান্ত রাজনীতি ও সম্পদের অসম বণ্টন। সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান দুই মেরুতে। আর এ সুযোগ গ্রহণ করে এক ধরনের স্বার্থনীতি মহল গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর তেমন কোন উন্নতি হচ্ছে না। অথচ রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা আর অর্থনৈতিক সুসম বণ্টন থাকলে এ দেশে কোন অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ কখনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারতো না। আর ভাগ্যের চাকা ঘুরতো নিম্ন আয়ের মানুষের। গড়ে উঠতো দারিদ্র্যমুক্ত আগামীদিনের বাংলাদেশ।
মো. মোক্তার হোসেন
বি এ সম্মান ৪র্থ বর্ষ,
বেলকুচি ডিগ্রি কলেজ,
বেলকুচি , সিরাজগঞ্জ।
