মো. মিজানুর রহমান
সহকারি শিক্ষক
পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
বর্তমান ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বইটিকে পূর্েবর ইসলাম শিক্ষা বইয়ের ন্যায় পাঁচটি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। অধিকাংশ বিষয়বস্তুই পূর্েবর মতো অক্ষুন্ন রয়েছে। তবে বিষয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের নিকট অনুধাবনে আরো সহজতর ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার জন্য কথাগুলোকে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রাঞ্জল ভাষায় স্তর বিন্যাস করা হয়েছে। আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিকল্পিত কাজ,দলীয় কাজ নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে সর্ম্পকিত বিষয়ের সাথে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার সাদৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।যেমন শিক্ষার্থীরা প্রথম অধ্যায়ে আখিরাত ও ইমানের নৈতিক উপকার জানতে পারবে ।অনুশীলনীতে পূর্বের চেয়ে অনেক নতুনত্ব এসেছে।সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন, রচনামূলক প্রশ্ন, আলাদা করে দেখানো হয়েছে। শূন্যস্থান পূরণ, ডান পাশের সঠিক শব্দগুলো দিয়ে বাম পাশের শব্দগুলোর সাথে মিল করণ অনুশীলনীতে সংযোজন করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে সকল ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া শিরোনামে একটি নতুন বিষয় সংযোজিত হয়েছে।যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের সুমহান নীতিমালার কথা বলা হয়েছে । তৃতীয় অধ্যায়ে মানবাধিকার ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব শিরোনাম আলোচনায় ইসলামে মানবাধিকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে মানবাধিকার সর্ম্পকে ইসলামের একটি আদর্শ কাহিনী উপস্থাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক হিংসাবিদ্বেষ ভুলে সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্যবোধ নিয়ে মানবতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বর্ণগোত্র নির্বিশেষে ভাই ভাই হিসেবে মিলেমিশে বসবাস করার মানসিকতা তৈরীর চেষ্টা করা হয়েছে। ইসলামি জ্ঞানের আলোকে যা শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার ও ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে বসবাস করার প্রেরণা যোগাবে।
এটি বইটির একটি নতুন দিক। পঞ্চম অধ্যায়ে হামদ্ বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু মহানবি (স) এর জীবনাদর্শ আলাদা আলাদা শিরোনামে সাজানো হয়েছে এবং পৃথক পৃথক পৃষ্ঠা নম্বর র্নিদেশিত হয়েছে।সর্বোপরি আধুনিক বাংলা বানানের ক্ষেত্রে বিশেষ খেয়াল রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে বইটি অনেক সুন্দর হয়েছে।
