নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪২
০০০ এক টেবিলে বসেই ফয়সালা করা যায় সারাবিশ্ব যখন হার্মিং বার্ড গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, জড়ো হচ্ছে দিনবদলের মিছিলে আর আমরা ক্রমেই পশ্চাতে পড়ে যাচ্ছি। যার জন্য অনেকাংশেই দায়ী আমাদের রাজনীতি। দিন দিন শুধু ঘোলাটেই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশ। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে তা আরো ঘনীভূত হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। দেশের প্রধান দুই দলই এখন রাজপথে বেশ সরগরম তাদের শরিক দল নিয়ে। এক দল তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে, অন্য দল বিপক্ষে। তোড়জোড়ে চলছে হরতাল, রাজপথ দখল, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ভাংচুর, প্রাণহানির মতো ঘটনা। এসব কাজে সাধারণ মানুষের সমর্থন নেই, থাকতে পারে না। এসব তাদের সব ধরনের স্বার্থের পরিপন্থি। তাহলে কেন সংঘাতের রাজনীতি অনুসরণ? এ সংঘাতের পেছনে দলীয় স্বার্থ, জাতীয় স্বার্থ জড়িত নেই। হরতাল, অবরোধ, গণসংযোগ নিয়ে মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। যখন ঘোষণা শোনে ‘কর্মসূচিতে বাধা দিলে টানা হরতাল’, তখন অন্যদিকে অনুরূপ ঘোষণা ‘আমরা রাজপথে আছি, মাঠে আছি। কোন উপদ্রব-অশান্তি বরদাশত করব না’। মধ্যিখানে মানুষ শাঁখের করাতের নিচে। অথচ মানুষের জন্যই নাকি রাজনীতি! দেশ, মাটি, মানুষের জন্য রাজনীতি করলে ছোট্ট বিষয়টি নিয়ে এত্তো কিছু হতো না। এক টেবিলে বসেই ফয়সালা করা যায় আরো জটিল বিষয়। স্বপন মিয়া সম্মান প্রথম বর্ষ (বাংলা), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। ০০০ নির্বাচন কিভাবে হবে তা সব দলেরই চিন্তা করা উচিত বিশ্বব্যাপী অনেক নেতার জন্ম হয়েছিল, হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে, যাদের জাতি আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এবং ভবিষ্যতেও করবে। নেলসন ম্যান্ডেলা, মাহাথির মোহাম্মাদ, মহাত্মা গান্ধী, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আব্রাহাম লিঙ্কনসহ আরো অনেকেই আছেন, যাদের বিশ্ব কিয়ামত পর্যন্ত হূদয়ে ধারণ করবে। কেন করবে? কারণ তাদের মধ্যে ছিল আদর্শবোধ, বিবেকবোধ, নীতিবোধ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা। কিন্তু পাঠক আপনাদের প্রতি আমার প্রশ্ন, বর্তমান বাংলাদেশে যেসব রাজনীতিবিদ নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের মধ্যে কি এসব গুণ খুঁজে পাচ্ছেন, তাদের কি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও অনুসরণ করছেন, জাতি কি কিয়ামত পর্যন্ত এদের হূদয়ে ধারণ করবে, বিশ্ব ইতিহাসে এদের নাম কি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে? কিংবা যদি জাতি কিয়ামত পর্যন্ত স্মরণ করে তবে কার মতো স্মরণ করবে, মহাত্মা গান্ধী, মওলানা ভাসানীর মতো শ্রদ্ধাভরে, নাকি হিটলার, মুসোলিনী, ইয়াহিয়া খানের মতো ঘৃণা করে? কেমন হবে আগামীর নেতৃত্ব? কেমন হবে আগামীর বাংলাদেশ? এই প্রশ্ন, এই ভাবনা আজ দিনমজুর থেকে শুরু করে সমগ্র জাতির। কিন্তু একবারও কি ভাবছেন আমাদের বর্তমান রাজনীতিবিদরা। তারা একবারও কি ভাবছেন জনগণ তাদের নেতৃত্বকে গ্রহণ করছেন কিনা, মেনে নিচ্ছেন কিনা তাদের কার্যক্রম? যদি ভাবতোই তাহলে জনগণ কি চায়, কিভাবে নির্বাচন করলে ভাল হবে; সে চিন্তা সবদল করে সিদ্ধান্ত নিতো মোহাম্মদ হালিম ব্যাচেলর সায়েন্স অব ডেন্টাল, স্টেট কলেজ অব হেলথ্ সায়েন্স, ঢাকা। ০০০ জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন নির্বাচন পদ্ধতি কী হবে ১৯৭১ সালের প্রবীণ রাজনীতিবিদরা প্রাণ দিয়ে জনগণকে ভালোবাসতেন, মন খুলে জনগণের দাবি তুলে ধরতেন, অযথা জনগণ গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে চিল্লাচিল্লি করে মুখে ফেনা তুলে সময় নষ্ট করতেন না। অর্থাত্ কোনরূপ কৃত্রিমতা, কপটতা, মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বাংলার নিরক্ষর, নিষ্পাপ জনগণকে ধোঁকা দিতেন না। নিরীহ-বঞ্চিত, দুস্থ-অবহেলিত প্রান্তিক জনগণের অধিকার পূরণ করা নিজেদের উপর ফরজ মনে করতেন। গণতন্ত্র বলতে তারা জনগণের আশা-প্রত্যাশাকে বুঝেছেন, পশ্চিমা ডিজিটাল মন্ত্রকে বুঝেন নাই। যার ফলে জনগণের ভোট পেতে নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতার শুরু থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাতে হতো না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তাদেরই উত্তরসূরি সংকীর্ণতার জালে আবদ্ধ হয়ে ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে স্বৈরতন্ত্রের ফর্মুলায় ব্যবহার করছে। আর এই স্বৈরতন্ত্রকে তথাকথিত নির্বাচন শব্দটি দ্বারা জায়েজ করে নিচ্ছে। যদি গণতন্ত্রের ফর্মুলায়ই দেশ চলে, জনগণের দ্বারা সরকার নির্বাচিত হয়, তাহলে জনগণই সিদ্ধান্ত দিবে এবার নির্বাচন পদ্ধতি কী হবে—তত্ত্বাবধায়ক, নির্দলীয় সরকার, নাকি দলীয় সরকারের অধীনে। সরকার বা বিরোধী দলের সিদ্ধান্ত জনগণের বলে চালিয়ে দেয়া কপটতা, হঠকারিতা, মিথ্যাচারিতা, গণতন্ত্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া বৈকি ? জনগণের উপর কাঁঠাল রেখে কাঁঠালের দানা খায় যেসব চিরাচরিত বাণীর আস্ফাালন ঘটিয়ে তা হলো-“দেশের জনগণ এটা মেনে নিবে না, ওটা পছন্দ করে না” ইত্যাদি। এসব উক্তির সাথে তৃণমূল-প্রান্তিক জনগণের কোন সম্পর্ক নেই। অথচ জনগণের পছন্দ-অপছন্দ, নির্বাচন পদ্ধতির সিদ্ধান্ত জানতে হবে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্তৃক জরিপ বা মতামতের মাধ্যমে। কেননা, গণমাধ্যমের কাছে জনগণ মনের কথাটা অনায়সে বলতে পারে। অপরদিকে সরকার দীর্ঘ পাঁচ বছরে জনগণকে চেনে না অথবা কথা বলার সুযোগ পায় না। তাই বলছি, নির্বাচন পদ্ধতিটা কি হবে তা জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। এজন্য নজর রাখুন গণমাধ্যম পরিবেশিত জনমতের উপর, জরিপের উপর। মুছা বিন মোহাম্মদ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ (৩য় বর্ষ), সোহ্রাওয়ার্দী হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ০০০ বোধোদয় হবে কবে! আমি যখন থেকে ‘নির্বাচন’ শব্দটি সম্পর্কে অনুধাবন করতে শিখেছি তখন থেকে এ অবধি তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৯৬ সাল: বিজয়ী আওয়ামী লীগ; ২০০১ সাল: বিজয়ী বিএনপি এবং ২০০৮ সাল: বিজয়ী আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশে প্রথম সংসদ নির্বাচন হয় ৭ মার্চ ১৯৭৩। বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। এরপর ১৯৭৯, ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয় যথাক্রমে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জাতীয় পার্টি। এ সকল নির্বাচনে প্রতিটি দলই ক্ষমতাসীন দল ছিল। পঞ্চম সংসদ নির্বাচন ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলে বিএনপি জয়লাভ করে। বিএনপি আবার ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনে জয়লাভ করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের মাধ্যমে ঐ বছরেরই জুন মাসের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। এই ইতিহাস আনার কয়েকটি উদ্দেশ্য হলো: প্রথমত, নয়টি সংসদ নির্বাচনে কোন দলই দুইবার নির্বাচিত হয়নি। তৃতীয়ত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন দল আবার ক্ষমতায় আসতে পারেনি। এখন আমি ভাবছি, কেন একটি রাজনৈতিক দল একবারের বেশি নির্বাচিত হতে পারে না? ক্ষমতাই কি তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণ? নাকি ক্ষমতায় থাকলে জনপ্রিয়তা ধরে রাখার কোন চেষ্টা করে না? আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশে ক্ষমতাসীনদের দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হতে দেখা যায়। তবে তা গায়ের জোরে নয়, গুণের জোরে। আমি আশা করি, একদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই বোধের উদয় হবে। একই সাথে আগামী নির্বাচনের ফলাফল দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। মো. আব্দুল হালিম মাস্টার্স, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন