অর্থনীতি

প্রয়োজন আমদানি বিকল্প ভাবনা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৪
২০১০-২০১১ অর্থ বছরের জুলাই-ফেবু্রয়ারি সময়কালে মোট আমদানি ব্যয় পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের আমদানি ব্যয়ের তুলনায় ৪১.৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। উল্লেখিত অর্থ বছরের ঐ সময়ে চাল আমদানি বাবদ ৪৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, গম, তেলবীজ, অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম ও তুলা আমদানি বাবদ যথাক্রমে ৫৯৭,৬৫,৫৪৫ ও ১৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। প্রধান শিল্পজাত পণ্য (ভোজ্য তৈল, পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য, সার, ক্লিংকার, স্টেপল ফাইবার ও সূতা) আমদানি বাবদ একই সময়ে বিদেশকে প্রদান করতে হয়েছে ৪৫২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বাবদ ব্যয় করতে হয়েছে ৪০৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য পণ্য বাবদ আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ৮৮৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উল্লেখিত বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের আমদানি ব্যয়ে চলে যাচ্ছে। বাস্তবিকভাবেই আমদানি খরচের বিষয়টি সামষ্টিক অর্থনীতির জন্যে ভাবার বিষয়। জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থেই আমদানি বিকল্প ভাবনা জোরদার করে আমদানি বিকল্প অর্থনীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা প্রয়োজন। প্রথমত, এক্ষেত্রে আমরা যে সমস্ত কৃষিপণ্য আমদানি করছি সেগুলোর দেশজ উত্পাদন বাড়ানো যেতে পারে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়নও সম্ভব। আমাদের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বিশাল চরভূমি। শুধুমাত্র সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায়ই রয়েছে ১৭২১৯৫ হেক্টর নতুন চরভূমি। উল্লেখিত চরভূমিতে আউশ, আমনধান, গম, ডাল, তৈলবীজ, আলু, মরিচসহ নানান জাতের কৃষিপণ্য উত্পাদন হচ্ছে। প্রয়োজন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত চাষাবাদ। চরভূমির অবস্থান ও উর্বরাশক্তি ভেদে মৌসুমভিত্তিক চাষাবাদের ব্যবস্থা করলে কৃষিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। শুধু তাই নয়, এ সমস্ত চরভূমিতে গরু, ছাগল ও মহিষ লালন-পালনের মাধ্যমে মাংস ও দুধের চাহিদাও মেটানো সম্ভব। দেশের যে সমস্ত এলাকায় চাষাবাদী জমি এক ফসলী জমি হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে সে সমস্ত জমিতে দুই ফসল, তিন ফসল ফলানো বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে। এখানে একথা বলা প্রয়োজন যে, দেশে শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রপ্তানি শিল্পের কথাই যদি ভাবা হয় তাহলে জাতীয় অর্থনীতির কাঠামো মজবুত করার ক্ষেত্রে বিষয়টি বাস্তবসম্মত হবে না। কারণ, একদিকে আমদানিনির্ভরতা বাড়তে থাকবে আর রপ্তানিমুখী শিল্পও প্রতিষ্ঠিত হবে। এরকম অর্থনীতি আমাদের কাম্য নয়। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য হচ্ছে এই যে সমস্ত শিল্পজাতপণ্য আমরা আমদানি করি তার মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থায় থেকে যে ধরনের পণ্য উত্পাদন করা সহজ সে সমস্ত পণ্যের জন্যে বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠা করা। সাথে সাথে বিশ্বায়নের নামে, ভোগবাদের নামে, ভোক্তার স্বাধীনতার নামে বিলাসজাত দ্রব্যসামগ্রী আমদানি করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপসহ অধিকতর কর আরোপ প্রয়োজন। এককথায় আমদানিনির্ভর অর্থনীতির বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রয়োজন। লেখক: চেয়ারম্যান, ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ, অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বনানী, ঢাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন