ব্যর্থ মানুষ ও সফল মানুষ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি মূল্যবান কথা বলিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন, ব্যর্থ মানুষ দিয়া কখনই কোন সাফল্য অর্জিত হয় না। কথাটি তিনি যে প্রসঙ্গেই বলিয়া থাকুন না কেন বাক্যটির যে বিশেষ তাত্পর্য আছে ইহাতে কিন্তু কোনই সন্দেহ নাই। মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রেই এই কথাটি সমধিক প্রযোজ্য। মানুষের জীবনে সাফল্য আসে অধ্যবসায়, নিষ্ঠা, একাগ্রতা এবং সততার বদৌলতে। এই সমাজে যাহারা সত্যিকার অর্থে সফল বলিয়া পরিচিত তাহারা সন্দেহাতীতভাবে অধ্যবসায়ী, একাগ্রচিত্ত এবং পরিশ্রমী। অবশ্য ‘সাফল্য’ শব্দটি অনেকের জন্য আবার ভিন্ন ভিন্ন ধারণা রূপে চিহ্নিত হয়। অর্থাত্ ব্যক্তিজীবনে নানান অসাধুতা, কূট-কৌশল ইত্যাদির আশ্রয় লইয়া কেহ কেহ বিপুল বিত্তবৈভবের অধিকারী হয় এবং তাহারাও এই সমাজে অনেকের নিকট সফল ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত হয়। কিন্তু নিষ্ঠা, শ্রম, সুপরিকল্পনা আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে যাহারা জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন তাহারা যে সমাজে ঐ বিত্তবৈভবের মালিকদের চাইতে অনেক বেশি শ্রদ্ধাভাজন হইয়া থাকেন এই ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ আছে কি? সুতরাং সাফল্য যদি অপরকে প্রতারিত করিয়া বা অপরকে ঠকাইয়া অর্জিত হয় তাহা হইলে উহাকে আদৌ সাফল্য বলা যাইবে কি? ইহা একটি মৌলিক প্রশ্নই বটে। মনুষ্যজীবনে সাফল্যের অতীব প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে। যে যে পেশাতেই বা যে কর্মস্থলেই নিযুক্ত থাকুক না কেন উহা যদি স্বীয় কর্তব্য এবং একান্ত পালনীয় দায়িত্বরূপে নিষ্ঠার সহিত পালন করে তাহা হইলে জীবনে সাফল্য আসিবেই। সেই সাফল্যের মধ্যে গৌরব রহিয়াছে। কেননা, উহার পশ্চাতে থাকে ব্যক্তির অধ্যবসায়, শ্রম আর দৃঢ় সংকল্প। ফলে সেই সাফল্য ব্যক্তিজীবনে তৃপ্তি বহিয়া আনে নিশ্চয়ই। আমাদের সমাজের চারিপাশে আমরা অনেক সফল মানুষ দেখিতে পাই, যাহারা পরিশ্রম ও নিষ্ঠার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করিয়া আদর্শস্থানীয় হইয়া রহিয়াছেন। যে কৃষক দিবারাত্র ও বত্সরের বলিতে গেলে সবকয়টি মাসেই অক্লান্ত পরিশ্রম করিয়া ফসল ফলায় তাহাকে খাটো করিয়া দেখিবার কোন উপায় আছে কি? তৃণমূলে বিভিন্ন ধরনের কাজের ক্ষেত্রেও আপাতদৃষ্টিতে যেসব কাজ খুব গুরুত্বপূর্ণ বলিয়া মনে হয় না, প্রকৃত প্রস্তাবে সেইসব কাজও কম গুরুত্বপূর্ণ নহে। ফলে সেইসব ক্ষেত্রেও বহু সফল মানুষের সাক্ষাত্ আমরা পাই। এইভাবে কৃষক শ্রমিক সামান্য চাকুরিজীবীও গুরুত্বপূর্ণ হইয়া উঠেন স্বীয় কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করিয়া। সমাজের যাহারা অগ্রবর্তী শ্রেণীর মানুষ তাহারা মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক কাজেই বেশি নিয়োজিত থাকেন। আর সেই কাজের মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে পরিচালিত করেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করিতে হইলে শুধু কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট নহে, দেশ ও জাতির প্রতি সহমর্মিতাবোধও অধিক প্রয়োজন। সফল মানুষেরাই পারেন জাতিকে দিকনির্দেশনা দিতে বা সঠিক পথে পরিচালিত করিতে। বর্তমানে আমাদের সমাজে এই শ্রেণীর সফল বা কৃতী ব্যক্তির সংখ্যা সম্ভবত দিনকে দিন হ্রাস পাইতেছে। তাই সমাজ অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ্যা রূপ ধারণ করিতেছে বৈ কি। ব্যর্থ মানুষ দিয়া আর যাহাই হউক কোন প্রকার কল্যাণ যে হইতে পারে না ইহা সার সত্য কথা। সাফল্যের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগ-প্রয়াস-প্রচেষ্টা আন্তরিকতা অপরিহার্য। সততা, নিষ্ঠা, মমত্ববোধ এইগুলির ভূমিকাও এই ক্ষেত্রে কম নহে। সফল মানুষ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় বিধায় তাহাদেরকে অনুসরণ করিয়া অন্যরাও আগাইয়া যাইবার প্রেরণা লাভ করে। সমাজে সফল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাইলে দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত হয় আর ব্যর্থ মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি সকলের জন্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। সুতরাং সমাজে যাহাতে সত্যিকারের সফল মানুষ তৈরি হইতে পারে তজ্জন্য সকল মহলেরই উদ্যোগী হওয়া বিধেয়। কেননা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যদি ব্যর্থতার ঝাঁপি মেলিয়া ধরে তাহা হইলে ভবিষ্যত্ অন্ধকারাচ্ছন্ন হইবে বৈ নহে!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন