নির্বাচন হইতে হইবে সত্ ও যোগ্য সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৮
[টেলিভিশন চ্যানেল আই-এর ‘তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানে ২রা জানুয়ারি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অংশগ্রহণ করেন। টকশোতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন নির্বাচন, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে যে পর্যবেক্ষণ ও মত প্রকাশ করেন এখানে তার সারসংক্ষেপ প্রকাশিত হলো ] জনগণকে নির্বাচনের মাধ্যমে সত্ ও যোগ্য সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিতে হইবে। ইহার নিশ্চয়তা ভিন্ন গণতন্ত্রকে কার্যকর করা যাইবে না। আমাদের দলীয় রাজনীতি অসত্ ও দুর্নীতিবাজদের খপ্পরে আটকা পড়িয়া গিয়াছে। আর এই খপ্পরের হোতারাই নির্বাচনকে জিম্মি করিয়া একটি অসত্ ও অদক্ষ সরকারের স্থলে অনুরূপ আর একটি সরকারকে ক্ষমতাসীন করিতে ভূমিকা রাখিয়া যাইতেছে। নেতৃত্বের পরিবর্তন চাওয়াই গণতান্ত্রিক রাজনীতি। কারণ, অনুগত চাকরিপ্রার্থী হিসাবে কেহ-ই রাজনীতিতে যোগদান করেন না। কিন্তু আমাদের দলীয় রাজনীতিতে কেহ নেতৃত্বের পরিবর্তন চাহিলে তাহাকে অপদস্থ করা হয় এবং সংস্কারবাদী বলিয়া শাস্তি দেওয়া হয়। দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট লইয়া শিক্ষিত কোন ব্যক্তি উদ্বেগ প্রকাশ করিলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেহ কেহ তাহাদিগকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করিয়া থাকেন। গণতন্ত্র হইতেছে শিক্ষা-দীক্ষা ভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা। সুশীল সমাজ ও কিছু শিক্ষিত লোকের সুদৃঢ় ও সক্রিয় ভূমিকা ব্যতীত কোথাও গণতন্ত্র কাজ করিতে পারে না। আমাদের দেশে শিক্ষিতজনেরা ব্যক্তি স্বার্থের কারণে ব্যর্থ সরকারসমূহের দুর্নীতিগ্রস্ত ও অদক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত রাজনীতিকরণ প্রক্রিয়ার সহিত নতজানু হইয়া সম্পৃক্ত থাকিতেছেন। সুশীল সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার অভাবে আমাদের দেশে গণতন্ত্র কাজ করিতেছে না। কিছু শিক্ষিতজনের সহযোগিতা পাইয়াই আমাদের নেতৃবৃন্দ বর্তমান অবস্থানে আসিয়াছেন। সুশীল সমাজের ব্যর্থতার কারণেই দেশ আজিকার সংকটে নিপতিত। ইহা দুঃখজনক। সিন্ডিকেটধর্মী নিয়ন্ত্রণ হইতে নির্বাচনকে অবশ্যই মুক্ত করিতে হইবে। কারণ, নির্বাচনে পালাক্রমে দুইটি প্রধান দলের প্রমাণিত অসত্ ও অদক্ষ নেতৃত্বে ব্যর্থ সরকার ভিন্ন জনগণের পছন্দমত সত্ ও যোগ্য সরকার পাইবার কোন সুযোগ নাই। তাই নির্বাচনের পূর্বেই জনগণকে নিশ্চিত হইতে হইবে যে, তাহারা নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও সত্ সরকার পাইতে যাইতেছেন। যখন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কথা শুনিতে অনিচ্ছুক তখন সংকটের হোতারাই সংকটের যন্ত্রণা ভোগ করুন। পারিলে তাহারা সংকটের সমাধান করুন। কিন্তু আমরা জনগণের সুশাসনের দাবি উপেক্ষা করিয়া তাহাদেরকে খুশী করিতে পারি না।