বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতি

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৪
সরকারি বা বেসরকারি যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উচিত উন্নত মননের অধিকারী হতে চেষ্টা করা। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচণ্ড প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্যতার ও মেধার পরিচয় দিয়েই তারা ভর্তি হয়। হাজার হাজার ছাত্র যেখানে চান্স পায় না, সেখানে যারা চান্স পেলো তারা অবশ্যই মেধাবী, মুষ্টিমেয় ব্যতিক্রম বাদে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তাদের স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানা উচিত। তারা যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছে, এটি তাদের মনে রাখতে হবে। সেজন্য তাদের উপর নতুন দায়িত্বও এসেছে তাও তাদের বুঝতে হবে। কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স পড়া শিক্ষার্থীদের থেকে তারা অনেক সুবিধা ভোগ করে এটি তাদের অনুধাবন করতে হবে। সেজন্য অধিকতর যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে তারা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করবে-এ প্রতিজ্ঞাও তাদের থাকা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীই সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কিছুটা ব্যতিক্রম আছে। গরীব কৃষক-শ্রমিক বা সাধারণ চাকরিজীবী অভিভাবকদের ছেলে-মেয়ে হিসেবে তাদের পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কারণ অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন বলেই অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে তারা তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পাঠাতে পেরেছেন। তাদের পিতা-মাতার মুখে হাসি ফুটানোর জন্য তাদেরকে সচেতনভাবে জীবন-যাপন করতে হবে। রাজনীতি, বন্ধু-নির্বাচন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। নেশাদ্রব্য ও মূল্যবোধ-নৈতিকতাহীন জীবন থেকে তাদেরকে দূরে থাকতে হবে। প্রেমের বিষয় তাদের জীবনে আসতে পারে, সে ব্যাপারেও তাদেরকে বিবেচক ও যুক্তিশীল হতে হবে। আবেগ ও অন্যায়-অবৈধ আচরণে গা ভাসিয়ে দিলে তাদের তিনটি প্রধান ক্ষতি হবে। একটি তার জীবন ও ভবিষ্যত্, দ্বিতীয়টি তার পিতামাতা ও পরিবার এবং তৃতীয়টি তার দেশ। এমন নৈতিক-সুন্দর প্রেমের সম্পর্ক তারা বজায় রাখতে পারে-যাতে উপরের তিনটি সত্-উদ্দেশ্যই চরিতার্থ হয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হবার কারণে তাদের আচরণ ও ব্যবহারকে আরো সুন্দর করতে হবে। শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে সকল মানুষকে সম্মান করতে শিখতে হবে। তার সুন্দর আচরণ সমাজের মধ্যে তাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। এভাবে সর্বত্র একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পাবে। সমাজের সাংস্কৃতিক পরিবেশে একটি শান্তিপূর্ণ প্রণোদনা সৃষ্টি হবে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আচরণ যদি সাধারণ জনগণ ও তার পরিপার্শ্বকে পীড়িত ও সমস্যাগ্রস্ত করে, তাহলে সে শিক্ষার্থীর জেনে রাখা উচিত তার উচ্চশিক্ষা পরিণামে কোনো শুভ আনন্দময়তার ভিত্তি নির্মাণ করতে পারবে না। উচ্চশিক্ষিত হয়েও তাকে অপ্রতিষ্ঠিত থেকে হীন-দীনভাবে জীবনযাপন করতে হবে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর তার অভিভাবক ও পাড়া-প্রতিবেশীরা তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে আচরণ ভালো করার সাথে সাথে অধ্যয়নেও মনোযোগী হতে হবে। ভালো ফল করে হয়ত সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে অথবা বিসিএস দিয়ে কৃতকার্য হয়ে কোন উচ্চতর সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হবে। অথবা বেসরকারি কোন উন্নতমানের চাকরিতে সে নিযুক্ত হবে। তাই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরন্তরন প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হয়ে সর্বধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করে তাকে উন্নত মানবিক গুণের অধিকারী হতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের আনন্দে বাংলাদেশ জেগে উঠবে। লেখক :অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া