ডিএনএ টেস্টেই নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক ছয় জনের অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। সরকারি পক্ষের আইনজীবী রাজিব মোহন এ তথ্য জানিয়েছেন। আদালতে ওই তরুণী ও তার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।—খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
দিল্লির সাকেত জেলা আদালতে বৃহস্পতিবার ওই ছয় জনের মধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যার চেষ্টা, গণধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি বন্ধ খামে ডিএনএ টেস্টের ফলাফল ও অন্যান্য প্রমাণ আদালতে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা হচ্ছেন—রাম সিং, তার ভাই মুকেশ এবং তাদের সহযোগী পয়ান গুপ্ত, বিনয় শর্মা ও অক্ষয় ঠাকুর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। আর আটক ষষ্ঠজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই তার বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ দায়ের করা হবে। তবে সে কিশোর কিনা তা যাচাইয়ের জন্য ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষায় তার বয়স নিশ্চিত হলে কিশোর আদালতে তার বিচার করা হবে বলে জানিয়েছে পিটিআই।
ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, আটক ছয়জনই অপরাধে জড়িত ছিল। এক হাজার পৃষ্ঠার বেশি ওই অভিযোগপত্রের ৩৩নং পৃষ্ঠায় ওই কিশোরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া আছে। ভারতের আইন অনুযায়ী, অভিযোগপত্র দাখিলের সময় আটকদের আদালতে সশরীরে হাজির হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও তারা আদালতে ছিলেন না।
নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আদালতে আনা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিদিন শুনানিসহ এ ঘটনার বিচার চলতি সপ্তাহ শেষে শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগপত্রে প্রায় ৩০ জন সাক্ষীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) আলতামাস কবীর দিল্লির সাকেত আদালত ভবনে দ্রুত বিচার আদালত উদ্বোধন করেন। ওই আদালতে প্রথম ২৩ বছর বয়সী চিকিত্সা বিজ্ঞানের ওই ছাত্রীর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। গণধর্ষণের শিকার তরুণীটি গত ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় ভারত জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড চাইছে জনগণ। তাদের সঙ্গে একযোগে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন তরুণীর বাবাও। এছাড়া মেয়ের সম্মানে তার নামে যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি। দ্রুত এ অপরাধের বিচার কার্যকরের জন্য বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীরা কালো দিবস পালন করেছে।
ঘটনাটি স্পর্শকাতর বলে আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা আটকদের বয়কট করে তাদের মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে আদালত আটকদের জন্য আত্মপক্ষ সমর্থনকারী আইনজীবী ঠিক করে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
