সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তাকে আমাদের দেশের মাটিতে অহেতুক জীবন দিতে হয়েছে। মরহুম খালাফ আল আলী সৌদি দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। ঢাকার গুলশান ১২০ নম্বর রাস্তায় ৫ মার্চ, ২০১২ রাতে হাঁটা-চলা অবস্থায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। এ নিহতের ঘটনা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত কলঙ্কজনক যা ভাষায় বলার মত নয়। একটু দেরি হলেও এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচারের রায় গত ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সঠিক বিচারের রায়ে সে দেশের রাষ্ট্রদূত এবং নিহত খালাফের বড় ভাই খালাফ আল খালেদ সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তারা এ রায় যথাসময়ে কার্যকর করার আশা ব্যক্ত করেন এবং তা হওয়াও বাঞ্ছনীয়।
দ্বিতীয়ত, বর্তমান সরকারের প্রতি এ দেশবাসী এবং সর্বস্তরের সাংবাদিক ভাই ও বোনদের একান্ত দাবি এবং কামনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক সীমাহীন, মর্মান্তিক আরও যে দুটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুতগতিতে দেখতে অপেক্ষা করছে তা হল সাগর-রুনির হত্যার সঠিক ও সত্য বিচার। আর সেই দম্পতির হত্যাকাণ্ডে যে সব হত্যাকারী জড়িত তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে, এদেশের মানুষকে বিচার নামের প্রহসন থেকে এটুকু প্রমাণ করা হোক যে, বাংলাদেশেও ন্যায় বিচার রয়েছে।
তৃতীয়ত, আর সেই করুণ চিত্র এদেশের মানুষ যে ভাবে ৯ ডিসেম্বর, ২০১২ সালে এদেশের সর্বস্তরের লোক হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ধর্ম-বর্ণ নিবিশেষে সকল টি.ভি চ্যানেল এবং মিডিয়ায় দেখেছে, সে আর কেউ নয় ঐ বিশ্বজিত্। যার আকুতি-মিনতি করে বাঁচার চেষ্টা সারাবিশ্বকে বিস্মিত করে দিয়েছে। ভাবতে এতই অবাক লাগে যে, universityতে শিক্ষা অবস্থায়, এ ধরনের মানুষ নামের পশুত্বের পরিচয় প্রকাশ করল এদেশের ছাত্র নামের ছাত্রলীগকর্মীরা। অবশ্যই যা এ যুগের ছাত্রসমাজের কলঙ্ক।
যেহেতু এ দেশের চৌকস পুলিশ বাহিনীর পুলিশ কর্মকর্তারা হত্যাকারীদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে তাই দেশবাসী বিশ্বজিতের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার আশা করছে যা নাকি বিশ্ব দরবারে তার করুণ মৃত্যুর বিচারটিও প্রকাশ পায়।
শেষবারের মত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে বলব,বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর, যিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান, বিশেষ জ্ঞানে জ্ঞানী, তিনি অনেক মন্ত্রীদের বয়োজ্যেষ্ঠও বটে। ন্যায় বিচারের সপক্ষে তিনি দ্রুতগতিতে এ দুটি হত্যাকাণ্ডের অগ্রগামী ভূমিকা রেখে তার সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবেন এবং এটাই সকলের কাম্য। দেশবাসী এবং নিহতদের পরিবারের কাছে আপনি একজন উত্তম নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ হিসাবে রাজনীতিতে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থকবেন।
এবার গার্মেন্টস শিল্পের কথায় আসি। এদেশের গার্মেন্টস শিল্প বিগত বিশ বছর আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে ব্যাপক অগ্রগামী। দেশ ও জাতির কল্যাণে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সকল দিক বিবেচনায় আজ দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে তৈরি গার্মেন্টস নিয়ে বাংলাদেশের পরিচিতির সাথে সাথে দেশের সুনাম বয়ে আনছে সেটাও সত্য। এই তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে হাজার-হাজার মালিক আজ তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন করেছেন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে যে আজ এ বিরাট বিপ্লব ঘটেছে তার মূল চালিকাশক্তি বলতে এ দেশের লাখ লাখ নারী শ্রমিকের কঠোর শ্রম আর তার বিনিময়ে মিঠাপুকুরে যখন ১৯ জনের লাশ ট্রাকযোগে পাঠানো হয়েছে অত্র এলাকার গরীব মানুষের আহাজারিতে আকাশ-বাতাশ স্তব্ধ হয়ে বাতাস ভারি হয়ে উঠে।
মিঠাপুকুরবাসী স্বজনদের লাশ পেয়েছে। কিন্তু অনেক লাশের পরিচয় মিলেনি। সরকারিভাবে সকল পোশাক কারখানা প্রতিষ্ঠান বিধি মোতাবেক হওয়া একান্ত দরকার। এখন থেকেই ভবিষ্যত্-এর জন্য এ আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রত্যেক শিল্প-কারখানার জন্য বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। তাজরীন ফ্যাশনের মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে সে জন্যে গার্মেন্টস মালিকদের হোক এই প্রতিজ্ঞা।
লেখক! বীর মুক্তিযোদ্ধা
