পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্রদের পাস করিয়ে দেবার দাবিতে ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে গতকাল রবিবার ব্যাপক ভাংচুর ও তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। তাদের হামলায় আহত হয়েছেন তিন শিক্ষক ও সাধারণ কর্মচারীসহ ১০ জন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্ট কালের জন্য তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বন্ধ করে দিয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। আহত তিন শিক্ষক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন। এরা হচ্ছেন মেকানিক্যাল বিভাগের সিদ্দিকুর রহমান, ইলেক্ট্রিক বিভাগের মোক্তার আহমেদ ও সিভিল বিভাগের সাইফুল ইসলাম।
সূত্র জানায়, ঢাকা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগের ৫০৩ জন ফেল করে। এর মধ্যে কেউ এক বিষয় কেউ দুই বিষয় রেফার্ড পায়। কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের নিয়ম অনুসারে ৪০ দিন পর এসব ছাত্রদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় (গত নভেম্বরের শেষ দিকে)। গত ৩ জানুয়ারী রেফার্ড পরীক্ষা রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ফেল করে ৫৫ জন। ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় এদের অধিকাংশের নম্বর ০ থেকে ১০ এর নীচে। তার মধ্যে সিভিল বিভাগের নাজমুল হোসেন পেয়েছেন ৬ ও সাকিলা ইয়াসমিন পেয়েছেন ৪ নম্বর। কিন্তু নাজমুল ও ইয়াসমিনকে পাস করিয়ে দেবার জন্য ছাত্রলীগ নেতারা প্রিন্সিপালকে চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের এ দাবি মানতে নারাজ।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল রবিবার দুপুরে তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগ সভাপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক ছাত্র মিছিল বের করে। তারা বিভিন্ন বিভাগের দফতরের আসবাবপত্র ও জালানার গ্লাস ভাংচুর করে। এক পর্যায় তারা প্রিন্সিপালের কক্ষ ভাংচুরের চেষ্টা করে। এসময় শিক্ষক ও ইনস্টিটিউটের সাধারণ কর্মচারীরা তাদের বাধা দেবার চেষ্টা করে। এতে তারা আরো মারমুখী হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় তিন শিক্ষকসহ ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল ড. রফিকুল ইসলাম মীর বলেন, এ ঘটনার পর জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। সবার মতামতের ভিত্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইনস্টিটিউট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আগামীকাল (আজ) সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভাংচুরের ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হবে।
তিনি বলেন, ঘটনা ইলেক্ট্রিক বিভাগের চীফ ইনস্ট্রাক্টর আবুল কাশেমকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় এমপি আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পিন্সিপাল তাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপর একটি সূত্র জানায়, দেশের সকল পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষকরা তাদের ৫ দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। হরতালের দিনে এ ধরনের ঘটনার পেছনে কারো হাত থাকতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।
