সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রস্তাবিত একটি শান্তি উদ্যোগ নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রস্তাবকে তারা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য আসাদের আরেকটি চেষ্টা হিসাবে উল্লেখ করেছে। এদিকে পদত্যাগের বিষয়ে বিশ্ববাসীর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন আসাদ। এছাড়া বিরোধী সকল পক্ষের সাথে আলোচনার কোন ইঙ্গিত দেননি তিনি। বরং তাঁর ভাষায়, পশ্চিমাদের হাতের পুতুলদের সাথে কোন আলোচনা তিনি করবেন না। গত রবিবার টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ওদিকে এদিনই প্রেসিডেন্ট আসাদের ভাষণের আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এরই মধ্যে সিরিয়ার প্রধান বিরোধীগোষ্ঠী, সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল তার সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড আসাদ প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনাকে “বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কহীন” ও “স্বৈরাচারী সরকারের ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার আরেকটি উদ্যোগ” বলে অভিহিত করেন। এর ফলে সিরিয়ার জনগণের রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যের কোন অগ্রগতি হবে না। তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার সব ধরনের বৈধতা হারিয়েছে এবং তাঁর ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। এর আগে দামেস্কের অপেরা হাউজে উল্লসিত সমর্থকদের সামনে মি. আসাদ সঙ্কট নিরসনে তার শান্তি উদ্যোগের নানা দিক তুলে ধরেন। গত বছরের জুন মাসের পর এই প্রথম ভাষণে বাশার আল আসাদ বলেছেন, তার শান্তি উদ্যোগের মধ্যে থাকবে, একটি জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন একটি সংবিধান রচনা করা। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সিরিয়ার প্রতিবেশি রাষ্ট্র তুরস্ক, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার এ বক্তব্যের সমালোচনা করে আবারো তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর আসাদের এ বক্তব্যকে গভীরভাবে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে।
এদিকে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে আসাদ বলেন, “সিরীয় শত্রুরা জাহান্নামে যাবে। যে সংকট চলছে তা খুনি ও অপরাধীদের সাথে জনগণের সংকট।” সিরিয়ার সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেনি তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার ঘোষণা দেন আসাদ। একে ‘শান্তি প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা’বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রথম পদক্ষেপের জন্য আঞ্চলিক শক্তিধর দেশগুলোকে সিরিয়ায় অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। জঙ্গি তত্পরতা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণও বন্ধ করতে হবে। পশ্চিমাদের হাতের পুতুলদের সঙ্গে কোন আলোচনায় বসবো না আমি। বিরোধীরা ‘আল্লাহর শত্রু এবং পশ্চিমাদের হয়ে কাজ করছে ’ বলেও সমালোচনা করেন তিনি। ভাষণে জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে একটি সম্মেলন আহ্বান এবং জাতীয় সনদের ব্যাপারে একটি গণভোট করার পরিকল্পনার কথাও জানান আসাদ। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০১১ সালের মার্চে সংকট শুরু হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত সিরিয়ায় ষাট হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
