[ রা জ নী তি]

জাতীয়তাবাদী ‘জজবা’ নাকি জামায়াত-জুজু!

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৭
১৯৮৪ সালের নির্বাচনে যখন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি মাত্র দুটো আসন পেয়েছে, পরিচিত ভারতীয় মানুষজন তখনো মাথা নেড়ে নেড়ে তাদের উপস্থিতি ভাগিয়ে দিয়েছে। ‘কিছুই হয়নি’ ‘এরা কিছুই করতে পারবে না’—এসব অভিব্যক্তিকেই মাথা-নাড়া বলছি। নির্বাচনী তথাকথিত গণতন্ত্রের ভোজবাজি এসব বন্ধুদের তুলনায় বিজেপি নিশ্চয়ই ভাল জানত। এর বারো বছর পরের নির্বাচনেই দলটি প্রাত্যহিক এসব বিশ্লেষককে হতভম্ব করে দিয়ে সরকার গঠনের মুখ্য দল ছিল। যদিও খুব লম্বা সময় তারা টেকেনি, কিন্তু নানান টানাপোড়েনের মধ্য থেকে এবং ভারতবাসীদের রেখে ১৯৯৯ সালে বিজেপি যখন আবার ক্ষমতায় এলো, তখন শুধু লম্বা সময় শাসনই করেনি কেবল, ভারতের শাসন পদ্ধতি ও রাষ্ট্রনীতিতে প্রায় অনড় সব বদল এনে ফেলেছে। নয়া ভারত প্রায় বিজেপির কল্পনা করা ভারত। এটাও চমকপ্রদ যে ’৮৪’র বিজেপি অনায়াসেই উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী নয়, বরং কংগ্রেসের একাধিক বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের ঘোরতর সমালোচক। ’৯২’র বিজেপি গভীরভাবে মুসলিম-বিদ্বেষী এক হিন্দু জোশওয়ালা বিজেপি। শেষোক্ত বিজেপিই ভারত শাসন করল বা করছে। মাথায় এসব কথা নড়াচড়া করছে একেবারে প্রাসঙ্গিকভাবে। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া, সরকারের মহা-উদ্যম ও প্রচারণা, আর জামায়াতে ইসলামীর মরিয়া লড়াই ইত্যাদি বিষয়েই ভারতের প্রসঙ্গটি আবার নতুন করে মাথায় এলো। এমন নয় যে, আমি এমনিতেই নানান কিছু নিয়ে পেরেশান এবং দুর্বলচিত্ত শিক্ষিত-ভদ্রলোকদের নতুন করে কোনো ভয় দেখাতে চাইছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর ক্ষমতা দখলের লড়াই নিয়ে কিছু স্পষ্ট বোঝাবুঝি থাকাও আমার লক্ষ্য। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত নাগরিকরা ক্রমশই মর্যাল/নৈতিক অবস্থান নিয়ে ফেলছেন বলে আমার আশঙ্কা। এই অবস্থানটি খোদ সরকার তরফে লাগাতার প্রচেষ্টারই ফলাফল বলেও আমি ঠাহর করতে পারি। রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নৈতিকতায় পর্যবসিত হবার বিপদ খুবই মারাত্মক বলে বিবেচনা করি আমি। ফলে এ সংক্রান্ত ভাবনা-চিন্তা খুবই জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষত, সরকারি দল এবং প্রধান বিরোধী দলের মধ্যকার পরিসর দখলের যে সংঘাত চলছে তাতে আরও মনোযোগ দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গটি দেখার এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তিমত্তা নিরিখ করার প্রয়োজন আছে। ৯ ডিসেম্বর ২০১২-তে অবরোধের পর কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল খোদ সরকারি দলই। ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের জের হিসেবে এবং বিশ্বজিতের জীবনের দামে হলেও সরকারি দল নিজেদের ইমেজ নিয়ে বিরাট এক ধাক্কা খেয়েছিল। এর সঙ্গে অবশ্যই মিডিয়ার নাছোড়বান্দা ভূমিকাকে বিবেচনায় আনতে হবে। সরকার যে আরও একজন লাঠিয়াল স্বরাষ্টমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে সেটা নিশ্চয়ই তার কর্মপদ্ধতিরই অংশ, দৈবাত্ কোনো দুর্ঘটনা নয়। এসব পরিস্থিতিতে বিএনপির সামনে দুর্দান্ত এক সুযোগ ছিল সেই অভিযোগটা থেকে পরিত্রাণ পাবার যেটা সরকারি দল নিবিড় কৌশলে গত দু’তিন মাস ধরে করে আসছিল। সরকার বলে আসছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিঘ্নিত করবার জন্যই বিএনপির এই হরতাল। বিএনপি খুব সঙ্গত স্বরেই বলবার চেষ্টা করে আসছে যে এর রাজনৈতিক কর্মসূচি মুখ্যত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে, কারণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কোনো নির্বাচনকে তারা ন্যায্য হবে বলে মনে করে না। মুশকিল হচ্ছে, বিএনপি দীর্ঘকাল যেভাবে ঝিমিয়ে পড়েছিল, অন্তত রাজপথের কর্মসূচিতে, তাতে সরকারের পক্ষে অভিযোগ করাটা সহজ হয়েছে। বিএনপির নবোত্থান একেবারেই জামায়াতে ইসলামীর উদ্যমী কর্মসূচির সময়কালের সঙ্গে মিলে গেছে। অভিযোগটা তাই সরকারের পক্ষে খুবই কৌশলী আবিষ্কার ছিল। সরকারি দলের কৌশলেই হোক, আর দমন-পীড়নের ভয়েই হোক, আগের মাসগুলো বিএনপিসমেত সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলই এক দীর্ঘ নিরুত্তাপ অবস্থায় ছিল। অন্তত বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা মাথায় রাখলে। গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে যে হরতালটি হয়েছে বিভিন্ন ‘সমমনা’ ইসলামী দলগুলোর, সেটার উছিলাও এক বহির্বিশ্বের ঘটনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বানানো কথিত একটা চলচ্চিত্র যার বিরুদ্ধে খোদ মার্কিন শাসকই যথেষ্ট তত্পর হয়ে উঠেছিল, যে কারণেই হোক না কেন। তো, এরকম একটা পরিস্থিতিতে বিএনপি, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে যে প্রচেষ্ট নয়, তাদের যে খোদ নিজেদেরই কিছু রাজনৈতিক তাগিদ এবং কারণ রয়েছে সেটা প্রমাণের বিরাট সুযোগ সামনে ছিল। বিএনপি সেই সুযোগ খুব ভালভাবে ব্যবহার করেছে তা বলা মুশকিল। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে যে হরতালটি দেয়া হলো গত ৬ জানুয়ারি, সামপ্রতিক বিএনপির জনসংশ্লিষ্ট ভূমিকার আকালের মধ্যে সেটি বিরাট একটা চমক বটে। কিন্তু বাস্তবেই হরতালের প্রাক্কালে, হরতাল চলাকালীন সময়ে এবং হরতাল-উত্তর তাদের আলাপচারিতায় সেই জনস্বার্থ খুব বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে হাজির হলো না। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অপরাপর হরতালের মতো এমনকি তাদের শরীরভাষাও বিশেষ কোনো মাত্রা প্রদান করেনি একটা জনস্বার্থীয় প্রসঙ্গকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আনার ক্ষেত্রে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নাকি আরও বিশেষ অর্থবহ। ঝটিকা পিকেটিং এবং পুলিশ প্রশাসনকে বিমূঢ় করে দিয়ে কিছু সহিংস তত্পরতা চালানো—জামায়াত-শিবিরের কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে গত কয়েক মাসের তত্পরতায়। পর্যবেক্ষক কিংবা সাংবাদিকরা বলছেন, ৬ জানুয়ারির হরতালে তাদের উপস্থিতিই ছিল নগণ্য। জামায়াতের এই অনুপস্থিতি অবোধগম্য নয়। বিএনপির সঙ্গে বিরোধীদলীয় মর্যাদায় এই হরতাল ডাকা কিংবা সমর্থন করা তাদের জন্য জরুরি। কিন্তু নিজেদের এজেন্ডার বাইরে এক কদমও না-নড়া বহুদিন ধরে গড়ে-তোলা এক রাজনৈতিক অনুশীলন তাদের। এটা নিশ্চয় কোনো অপরাধ নয় তাদের, কিন্তু জামায়াতের শত্রু বা মিত্র যে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির পক্ষে এই মোটিভ না-বুঝে থাকা পরিষ্কার বিপজ্জনক। সরকারের দমন-পীড়নের যে অভিযোগ বিএনপি করছে, সেটার গ্রাহক হবার জন্য কারোর বিএনপির অনুসারী হবার দরবার নেই। সরকারি দল হিসেবে যখন বিএনপি রাষ্ট্রশাসন করেছে তখন কী দমন-পীড়ন তারা করেছে কিংবা আগামীতে কী করতে পারে সেসব খতিয়ানও খুব অপ্রাসঙ্গিক। আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন একদম নিরীহ পথচারী থেকে শুরু করে, ছাপোষা চাকরিজীবী পর্যন্ত অনুভব করতে পারছেন। এই দমন-পীড়নের মধ্যে জামায়াত-শিবির রাজপথে যেভাবে হাজির হয়েছে সেটা লক্ষণীয় একটা বিষয়। সহিংসতা যখন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তখন তাদের এই পদ্ধতি নজর না-কাড়ার কোনো কারণ নেই। বিএনপির পরম মিত্রেরও খেয়াল করতে পারার কথা যে সরকার ও পুলিশকে রাজপথের চ্যালেঞ্জটুকু ছুঁড়ে দেবার কৌশল ও বাস্তবায়নের রাস্তা জামায়াতে ইসলামীই তৈরি করেছে। বিএনপিকে বড়জোর জামায়াতের সাথী মনে হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা তারা করুক বা নাই করুক। এরকম পরিস্থিতিতে সরকার একটা সাফল্য কব্জা করতে চেয়েছে। বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে একটা জাতীয় ‘মর্যাল’-এ রূপদান করার চেষ্টা করছে। মধ্যবিত্ত শিক্ষিতদের যে পাবলিক-জবান চলমান হয়েছে, তাতে মনে হয় সরকার অনেকদূর পর্যন্ত সফলও হয়েছে। সরকারের এই সাফল্যকে দেখতে হবে এর ঢালাও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের রক্ষাকবচ হিসেবে। সরকারের সহিংস ও অগণতান্ত্রিক আচরণ নিয়ে শহুরে রাজনৈতিক উপলব্ধির দাবিদার মানুষজন একটু-আধটু সমালোচনার কথা ভাবলেও নিজেদের সংযত করেন এই ভেবে যে ‘তবু তো এই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে।’ সরকারও কিছু একটার আলামত পেলেই ধামকি দিতে ভোলে না যে এর বিচার কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করবার জন্যই ‘বিরোধী’রা তত্পর। এটা প্রায় বুশের ‘আমার সঙ্গে নয়তো, সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে’ পদ্ধতির মতোই একটা কৌশল। মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে জাতীয়তাবাদের একটা জজবা আওয়ামী লীগ তৈরি করতে চাইছে এবং অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে পত্রিকা-পড়ুয়া ও মিডিয়াভোক্তা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত জনগণের মধ্যে খানিক সফলভাবে পারছে। কৌশলটা ওই পর্যন্ত কাজ করছে বটে, কেবল ওই পর্যন্তই। বিএনপি, একটু আগেই যেমন বলেছি, সরকারের অভিযোগের দায়মোচন করবার মতো যথেষ্ট কিছু করে উঠতে পারেনি। এটা অনুমান করা কঠিন নয় যে বিএনপির মধ্যে একাধিক পক্ষ রয়েছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষাবলম্বন হয় এমন কিছু করতে অনেকেরই সেখানে আপত্তি। আওয়ামী লীগ যতই ঢালাওভাবে বিএনপির চরিত্র চিত্রণ করুক না কেন, এই প্রশ্নগুলোতে এত অনায়াসে বিএনপির নির্বাহীরা একাট্টা হয়ে নেই। কিন্তু প্রধানতম বিরোধী দল হিসেবে এই মুহূর্তে বিএনপির মিশন কী সেটা স্পষ্ট করতে বিএনপি দৃঢ় কোনো অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামীর সুনির্দিষ্ট ও সক্রিয় পদক্ষেপগুলো সেই অর্থে বিএনপিকে খানিক ঊণ বানিয়ে ফেলছে। ধারণা করি, বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহলের কেউ কেউ এটা নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই যেমন অনুমান করেন, জামায়াতে ইসলামীকে মাঠে একলা রেখে যাবার মতো জায়গায় বিএনপি নেই। সমস্যাটা কেবল দীর্ঘদিনের মিত্রকে পরিত্যাগের নয় বরং যেরকম প্রাণশক্তি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে এবং তার প্রয়োগ ঘটাচ্ছে, অচিরেই বিএনপিকে হীনবল বিরোধী মনে হতে পারে। ভাসমান নির্বাচনী সংস্কৃতির অনুসারী ভোটারদের সামনে দল হিসেবে হীনবল হবার মানে বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানেন। তাঁঁরা জ্যান্ত এই উভয় সঙ্কটটির মধ্যে আছেন। আর জামায়াতে ইসলামী ষোলো আনা লাভের মধ্যে আছে বলে মনে হচ্ছে। জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ব্যাপকহারে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে বিচারের সম্মুখীন। বিরোধীদলীয় তত্পরতা চালাতে গিয়ে আরও বিশাল অংশ কারাবন্দী হয়ে আছে। তারপরও তাদের লাভের অঙ্ক বেশি। সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে একটা জাতীয়তাবাদী জজবা দিতে গিয়ে জামায়াতকে একটা জুজু বানিয়ে ফেলছে। এই জুজুর ভয় সরকার দেখাচ্ছে। জামায়াত ঠিক মানানসইভাবে রাজপথের ছোট ছোট দখল নিয়ে পুলিশ প্রশাসন এবং জনগণ উভয়কেই সেই ভয়টাই দেখাতে পেরেছে। জামায়াতের অর্জিত শক্তির একটা মোক্ষম প্রদর্শনী চলছে। শক্তিটা কতটা কায়িক, কতটা আত্মিক সেটা নিয়ে অনেককেই মতবিরোধে ভুগতে দেখি। কিন্তু শক্তিমত্তার বিষয়ে অনেকেই এখন সজাগ, ক’দিন আগেও যাঁরা ছিলেন না। জামায়াত সেই প্রদর্শনীটা করছে। তবে করছে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে, ভীষণ একটা সম্পাদকীয় দক্ষতায়। বাংলাদেশে যেসব মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখতে চান তারা হঠাত্ করে সেটা বর্তমান সরকারের আমলে চাননি। তারা এটা চেয়ে এসেছেন স্বাধীনতার পর থেকেই। সেসব মানুষ বাংলাদেশে অন্যান্য ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার চান, একটা বুর্জোয়া রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যেরকম ন্যায়বিচার আশা করা যায় আর কি। একটা সময় ছিল যখন এই প্রত্যয়টাই ব্যবহার করতে ভুলে গেছিল প্রবল মিডিয়া বা সরকার বা মানুষজন। কখনো ‘ঘাতক-দালাল’, কখনো ‘জামায়াত-শিবির’ ইত্যাদিতে পর্যবসিত হয়েছিল স্বাধীনতাযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি। এটা বেশ একটা পরিহাস যে ‘যুদ্ধাপরাধী’ একটা বাস্তব প্রতিপক্ষীয় বর্গ হিসেবে উদয় হবার পর আবার তা ‘জামায়াত-শিবির’ অর্থেই পরিসীমিত। একদিকে এটাকে জামায়াতের রাজনৈতিক পরাজয় মনে হতে পারে, কিংবা সরকারি দলের বিজয়। কিন্তু কেবলমাত্র জামায়াতের মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের আবিষ্কার করতে গিয়ে সরকার জামায়াতের ‘জুজু’ ইমেজটাই বাজারজাত করেছে। এই ইমেজ বৃহত্তর বিচারে জামায়াতের শক্তিমত্তার পরিচায়ক হবে। দূরপাল্লার একটা রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে এটা শক্ত অর্জন হিসেবেই ব্যবহার করতে পারবে জামাত। তারাও সেটা জানে। জজবা হোক বা জুজু ন্যায়বিচার আকাঙ্ক্ষা করছেন যে মানুষজন তাদের জন্য কোনো আরামদায়ক পরিস্থিতি সেটা নয়। জজবা বিশ্বজিতের খুন কিংবা মার্মা নারী ধর্ষণ-খুনের মতো নৃশংসতাকে লঘুত্ব দিতে প্রচেষ্ট। আর জুজু জামায়াতের শক্তিমত্তার প্রদর্শনীতে সচেষ্ট। কীভাবে আরামে থাকবেন!  লেখক : শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন