০০০
নির্বাচনের মাধ্যমে এমন
সরকার চাই যে জনগণের সরকার হবে
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক, যে দল নির্বাচনে জয়লাভ করবে তাদের ভাষ্য হবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ এবং যারা পরাজিত হবে তাদের কথা সবসময়ই বিরোধী। সবসময়ই তারা বিরোধিতা করে যাবে। আর বিদ্যমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জয়ী দল তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ সন্দেহভাজন লোকদের প্রতিও প্রতিবাদ জানাবেন কুপিয়ে বা পিটিয়ে। এভাবে চলতে থাকবে দেশ। আসুন একবার ভাবি- আমি প্রতিবাদ করছি, হরতাল করছি আর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছি তার আড়ালে রয়েছে একটি সাংসারিক প্রাণ। হয়ত যেদিন আপনার কর্মসূচি সেদিনই আপনার ছোটভাই কিংবা পুত্র/কন্যা মৃত্যুশয্যায় কাতরাচ্ছে আপনারই কোন কর্মীর হাতে আহত হয়ে। হয়তবা তাকে বাসায় গিয়ে নাও দেখতে পারেন। আর এমন যদি হয় মানুষ সুখে বাস করছে। একদিন রোজগার করছে তা দিয়ে কষ্ট করে দিনাতিপাত করছে। তাদের কোন কষ্ট নেই। তাদের কাজে যেতে কোন মৃত্যুভয় নেই। তারা জীবন হাতে করে নিয়ে কাজে যায় না। তাদের বাসায় যারা অবস্থান করে তাদের নিয়ে চিন্তা করে না। স্কুলে মেয়েকে পাঠিয়ে কোন পিতা চিন্তা করে না যে তার মেয়েকে তাড়াচ্ছে কোন ধর্ষণ নামক অস্ত্র। চলমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সবকিছুরই সামঞ্জস্য প্রয়োজন। কিন্তু তাই বলে সামঞ্জস্যের জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তা কাজের মাধ্যমে উপার্জিত করতে হয়। আপনার আমার মতে হয়ত অধিকাংশেরই সে সামর্থ্য নেই যে পাঁচ হাজার টাকা আয় করে সাত হাজার টাকা খরচ করবে। আমরা সে সরকার চাই যে সরকার আমাদের সবকিছু দেখবে জনগণের সরকার হিসেবে- সরকারের জনগণ নয়। যারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না।
মো. শহীদুল্লাহ
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ
বি.এস.এস (১ম বর্ষ), ঢাকা
০০০
সরকারি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা সামাজিক উন্নয়ন বৃদ্ধি করবে
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলো এমন নিম্ন ও শোচনীয় অবস্থায় এসে পৌঁচেছে যে, সরকারি এই সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলো যে উদ্দ্যেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, সেই উদ্দ্যেশ্যগুলো আর পূরণ করতে পারছে না । সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সঠিক মূল্যায়ন ও প্রচারবিমুখতা এবং সচেতনতার অভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে ওষুধ থাকলে ডাক্তার থাকে না। অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবার ডাক্তারও আসেন মাঝে-মাঝে। সহকারি ডাক্তার সব চিকিত্সা করেন। এর সাথে আছে আসন সংকট ও অব্যবস্থাপনা। সরকারি ওষুধ কিনতে হয় দোকান থেকে। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সাধারণ মানুষের কাছে অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরো শোচনীয়। সেখানেও অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিতে ভরপুর। তাছাড়া সেখানে প্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের কোন ছোঁয়াই নেই বললেই চলে। সেই পুরাতন পদ্ধতিতেই চলে সবকিছু। পরিবহন ব্যবস্থায় কিছু অসাধু ও লোভী ব্যক্তির কারণে ব্যাহত হচ্ছে এর আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতা। যোগাযোগের সবচেয়ে নিরাপদ ও সহজলভ্য মাধ্যম হচ্ছে রেলপথ। কিন্তু এর আধুনিকায়ন এবং তা পরিবর্তনে কোন নীতিগত পরিকল্পনা আসছে না। যোগাযোগের আরো একটি মাধ্যম হচ্ছে টেলিযোগাযোগের খাত। যেটা বছরের পর বছর অবহেলিত হচ্ছে। এখানে সব ধরনের প্রযুক্তির আধুনিকায়ন করা হলেও সেটা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়নি। সহজলভ্যতা ও প্রচারের অভাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ সেই অনিয়ম, দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাবের করাল গ্রাসের মধ্যে পড়েছে। এসব সেবাধর্মী ও পবিত্র প্রতিষ্ঠানগুলোকে সকল ধরনের নিয়োগ ব্যণিজ্য, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও সংঘাতের রাজনীতি থেকে বাঁচাতে হবে। এজন্য নিরপেক্ষ, শক্তিশালী সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়ন অপরিহার্য। সরকারি এসব সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকে জনগণের কাছে বিশ্বস্ত, জনপ্রিয় ও সহজলভ্য এবং জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এসব প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চয়তার প্রয়োজন। এসব কাজ করতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে প্রয়োজন জনগণের সরকার। যে কিনা এসব সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারবে।
নাহিদ নাজমুস
হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
০০০
আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য
সম্প্রতি দুদকের চেয়ারম্যান দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের ভোট না দেয়ার পাশাপাশি এ ধরনের রাজনীতিবিদদের পরিত্যাগ ও প্রতিহত করার আহবান জানিয়েছেন। বর্তমান প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি এই আহবানের পক্ষে সমর্থন জানাই। আমি আগামী নির্বাচনের পূর্বেই নির্বাচন কমিশন ও দুদকের কিছু যৌথ গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করছি। প্রথমত, যেসব রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না, আর যেসব রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিচারাধীন আছে (সর্বোচ্চ একবছরের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে) তারা প্রার্থী হতে পারবেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অপসারণ করা হবে। দ্বিতীয়ত, যেসব রাজনীতিকের নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী রয়েছে তারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনুরূপ ক্যাডার বাহিনী রয়েছে যা গণতন্ত্রের জন্য চরম অস্বস্তিকর। এখানে নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসকল প্রার্থীকে সনাক্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার অনুরোধ করছি।
শফিক আরমান
এমএসসি (অর্থনীতি)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
০০০
রাজনৈতিক দলগুলোর
সমঝোতা আবশ্যক
আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, "Democracy is government of the people, by the people and for the people." অর্থাত্ গণতন্ত্র হল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের শাসন। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে দেশের সার্বিক দিক বিবেচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সমঝোতা প্রয়োজন। নির্বাচন ছাড়া কোন দেশ সুষ্ঠুভাবে এগোতে পারে না। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে নির্বাচন হওয়াটা বর্তমান সরকার যেভাবে দেখছে অন্য রাজনৈতিক দল সেভাবে দেখছে না। এক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পূর্ববর্তী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যে দল বেশি ভোট পেয়েছে সেই দলই ক্ষমতায় এসেছে জনগণের সেবক হিসেবে। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলেই নির্বাচন দেয়াটা খারাপ কিছু নয়। তবে কথা থেকে যায় যে, এই সরকারের আমলে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি? আমার মত অনেক তরুণের কাছে এটাই বিবেচ্য বিষয়। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল চায় সুষ্ঠুতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে নির্বাচন হোক। সুতরাং দেশে ২০১৩ সালে এমন নির্বাচন হোক যেখানে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে, নিরপেক্ষ ভোট হবে, ভোট কারচুপি না হবে এবং নির্বাচনে সব দলের লোক অংশগ্রহণ করবে।
আকাশ আহমেদ (জারসা)
সমাজ বিজ্ঞান ১ম বর্ষ, রোল ৩২১০,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
