খুনিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৫
মর্মান্তিকভাবে নিহত হইয়াছেন রাজধানীর ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা রফিকুল ইসলাম মজুমদার। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাত্রে কালো পোশাক পরিহিত সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আনন্দনগর গ্রামে তাহার শ্বশুরবাড়ি হইতে হাতকড়া পরাইয়া তাহাকে ধরিয়া লইয়া যায়। মাত্র দুইঘন্টা পরেই ঘটনাস্থল হইতে ২০ কিলোমিটার দূরের একটি পিঁয়াজ খেতে হাতকড়া পরা অবস্থায় তাহার মৃতদেহ পড়িয়া থাকিতে দেখা যায়। বেশিরভাগ সংবাদপত্রেই সেই লোমহর্ষক ছবিটি প্রকাশিত হইয়াছে। এই ছবি আমাদেরকে রায়েরবাজারের বধ্যভূমির বীভত্সতার কথা মনে করাইয়া দেয়। নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করিয়াছেন যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই তাহাকে ধরিয়া লইয়া গিয়াছিল। অভিযোগের সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কিছু যুক্তিও তুলিয়া ধরিয়াছেন তাহারা। তন্মধ্যে অপহরণকালে একটি সংস্থার নামাঙ্কিত পোশাক ও গাড়ির ব্যবহার ছাড়াও হাতকড়ায় খোদিত ‘পুলিশ’ শব্দটির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হইয়াছে। ইহাকে ‘পরিকল্পিত’ হত্যাকাণ্ড অভিহিত করিয়া বিরোধী দল বিএনপিও অনুরূপ অভিযোগ উত্থাপন করিয়াছে। তবে দৃঢ়ভাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন পুলিশ ও র্যাব-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাহারা বলিয়াছেন যে, এই ঘটনার সহিত তাহাদের কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা নাই। ঘটনাটি নিন্দনীয় শুধু নয়, আতঙ্কজনকও বটে। সামগ্রিকভাবে ইহার প্রভাব-প্রতিক্রিয়াও সুদূরপ্রসারী হইতে বাধ্য। বীভত্স একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হইয়াছে। অতএব বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা যাহাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব, সেই সরকার ও প্রশাসনকেই ইহার দায়দায়িত্ব গ্রহণ করিতে হইবে। এইখানে কোনো অজুহাত দেখাইবার যেমন সুযোগ নাই, তেমনি উপায় নাই দায়িত্ব এড়াইয়া যাইবার। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করিয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ যেমন উত্থাপিত হইয়াছে, তেমনি চলিতেছে নানা জল্পনা-কল্পনাও। একই ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম অপহূত হইয়াছিলেন ২০০৯ সালের জুন মাসে। আজও তাহার সন্ধান মিলে নাই। অন্যদিকে, নিহত রফিকুল ইসলাম যে ব্যবসায়ী সমিতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন সেই ঢাকা মহানগর কমপ্লেক্সের মালিক দাবিদার হাজি মোঃ ওয়াজিউল্লাহরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাইতেছে না গত ১৮ মাস যাবত্। সঙ্গত কারণেই সেইসব বিষয়ও আলোচিত হইতেছে নানাভাবে। প্রকৃত হত্যাকারীরা চিহ্নিত ও গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত এইসব জল্পনা-কল্পনা শুধু যে অব্যাহত থাকিবে তাহাই নহে, একই সাথে তাহাতে নিত্যনূতন ডালপালাও যে যুক্ত হইবে তাহাও নিশ্চিতভাবে বলা যায়। অতএব, শুধু নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করিলেই চলিবে না, একই সাথে প্রকৃত অপরাধী বা অপরাধী চক্রকেও গ্রেফতার করিয়া বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাইতে হইবে। কাজটি যতো দ্রুত করা যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথা সরকারের জন্য ততোই মঙ্গল। কারণ ইহাই যে নিজেদের স্বচ্ছতা প্রমাণের সর্বোত্তম পন্থা—তাহা না বলিলেও চলে। অতএব, আমাদের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মজুমদারের হত্যাকাণ্ডের জন্য যে বা যাহারাই দায়ী হউক, অবিলম্বে তাহাদের গ্রেফতার করিতে হইবে। বন্ধ করিতে হইবে এই ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই এবং দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন