তালেবান-কারজাই বোঝাপড়ায় দিল্লির উদ্বেগ প্রকাশ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:০৮
আগামী বছর মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানে ইসলামাবাদের নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যেতে পারে। সম্প্রতি আফগানিস্তান ‘হাই পিস কাউন্সিল’-এর প্রস্তাবিত ’২০১৫ দিক-নির্দেশনায়’ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শান্তির যুক্তি দিয়ে বেশ কিছু তালেবান নেতার হাতে আফগানিস্তানের কিছু এলাকার শাসনভার তুলে দেয়া হবে, এমন সম্ভাবনার কথাও হয়েছে ওই প্রস্তাবে। তালেবানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়ার এমন পরিণতিতে যথেষ্টই বিচলিত দিল্লি। গত সোমবার ইরানের ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর প্রধান সৈয়দ জালিলি’র সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নয়াদিল্লি থেকে সোজা কাবুলে গিয়েছেন ইরানের নেতা জালিলি। ভারতীয় নেতৃত্বকে তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে কথা বলবেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হচ্ছে ২০১৫ দিক-নির্দেশনা নিয়ে অবশ্যই দ্বিপাক্ষিক স্তরে আফগানিস্তানের কাছে বিশদে জানতে চাইবে নয়াদিল্লি। কিন্তু তার আগে এলাকার অন্য গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমেও কাবুলের উপর চাপ সৃষ্টি করা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে আমেরিকার সঙ্গেও কথা বলবে মনমোহন সরকার। জালিলি গতকালের বৈঠকে বলেছেন, আমেরিকা আফগানিস্তানে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ করছে। সন্ত্রাসবাদ দমন নয়, নিজিদের স্বার্থসিদ্ধিই তাদের রক্ষ্য। প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গেও তালেবানের সম্পর্ক যথেষ্ট তিক্ত। ১৯৯৮ সালে আফগানিস্তানের মাজার ই শরিফ-এ ১০ জন ইরানি কূটনীতিক এবং এক সাংবাদিককে হত্যার পর দু’তরফের যে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার জের আজও চলছে। সম্প্রতি ২০১৫ সংক্রান্ত পাঁচ পর্যায়ের পথনির্দেশিকাটি প্রকাশ্যে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “এই খসড়া প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ অনেক বেড়ে যাবে। শুধু তা-ই নয়, নয়াদিল্লির আশঙ্কা, তালেবানের কাছ থেকে শান্তি ‘কিনতে’ কট্টরপন্থী মৌলবাী নেতাদের হাতে বেশ কিছু অঞ্চল ছেড়ে দেবে কারজাই সরকার। সবমিলিয়ে আল কায়দাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বাড়-বাড়ন্ত হবে আফগানিস্তানে। ভারত তথা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার পক্ষে তা হবে বিশেষ বিপদের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়ার প্রশ্নে নয়াদিল্লির একটাই অবস্থান। ২০১০ সালে কাবুল সংক্রান্ত লন্ডন সম্মেলনে যে ‘রেড লাইন’ তৈরি হয়েছিল, তা মেনে চলার পক্ষপাতী নয়াদিল্লি।