নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৬
দলীয় স্বার্থে বিরোধ নয়, জাতীয় স্বার্থে সমঝোতায় আসুন সর্বসাধারণের কল্যাণ সাধনই যদি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়, তবে ক্ষমতালিপ্সা চরিতার্থ করার জন্য কোন কুটকৌশলের আশ্রয় না নিয়ে জনগণের সেবক নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের রায় প্রতিফলিত হওয়ার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। এটি এমন নয় যে, দেশের মানুষ তাদের ভালো মন্দ সম্পর্কে অবগত নয়, ফলে কোন রাজনৈতিক দলকে উপযাচক হয়ে জনগণকে বুঝাতে হবে যে, তারাই একমাত্র উপযুক্ত সেবক, জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং আছে, বর্তমান সময়ে এ কথাটির ভিত্তি আরো মজবুত। এখন যা সবচেয়ে বেশি জরুরী তা হল জনগণের জন্য অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে দেয়া যাতে তারা নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থী বেছে নিতে পারে। এ পরিবেশ তৈরি হতে পারে কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে। এতটুকু পরিবেশ সৃষ্টিতে কোন দলের স্বদিচ্ছার অভাব থাকার অর্থ হল জনগণকে ধোকা দেয়া। এটি সহজে অনুমেয় যে, আমাদের দেশে যে সকল প্রতিষ্ঠান সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত যেমন জাতীয় সংসদ, নিয়োগ কর্তৃপক্ষ, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ কিছুটা হলেও ক্ষমতাসীন দলের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই কোন দলীয় সরকারের অধীনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা প্রভাবিত হতে পারে, এ কারণে এ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হলেও অন্তত: যেন দলীয় সরকারের অধীনে না হয় এটিই দেশবাসীর প্রত্যাশা। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক সমঝোতার দিকে চাতক পাখির ন্যায় তাকিয়ে আছে পুরো দেশবাসী। মো. আব্দুর রহিম ৪র্থ বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ----- প্রয়োজন ঘূর্ণায়মান কক্ষপথ ত্যাগ সর্বজন জ্ঞাত যে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সত্যি কি তাই? আমার মতে ‘না’। তাকে একটি ‘পরিবারতন্ত্র’ বা ‘জোটতন্ত্র’ রাষ্ট্র বলাই সমীচীন। কারণ-১৯৮২ সালের ২৪ মার্চের পর টানা ৯ বছর ক্ষমতায় জগদ্দল থাকা এরশাদকে হটানোর জন্য বিএনপি আওয়ামী লীগের গণতন্ত্রের আন্দোলন সফল হয় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর কিছু তাজা প্রাণের বিনিময়ে। তারপর ২২ বছর ধরে ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার বাছাইয়ের সুযোগ হয়ত জনগণের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু, ২২ বছরের গণতান্ত্রিক সরকার থেকে সাধারণ জনগণের ভাগ্যে কি জুটেছে? গত ২২ বছর ধরে সাধারণ জনগণ দুই বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের মাঝখানে গ্রহপুঞ্জের নক্ষত্র রাশির কক্ষপথের ন্যায় আবর্তিত হয়ে পড়েছে এবং বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশায় , বৈষম্য দুরীকরণ’ এবং দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির তাগাদায়। সেই মুক্তি কি ২২ বছরের গণতান্ত্রিক সরকারের আওতায় আদৌ সম্ভব? এমতাবস্থায়, দেশের আসন্ন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন ‘‘সুদৃঢ়, নিরপেক্ষ, সাহসী এবং অগাধ নৈতিকতার অধিকারী’’ নির্বাচন কমিশন। আর রইল নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা ‘‘নয় তত্ত্বাবধায়ক, নয় অন্তবর্তীকালীন, নয় নির্দলীয় সরকার, সরকার হবে সর্বদলীয়। নির্বাচনকালীন একটি স্থায়ী পদ্ধতি। জাতীয় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে আনুপাতিক হারে সকল দলের সদস্য নিয়ে সর্বদলীয় সরকার গঠিত হবে। যার প্রধান হবে প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতা হবে সর্বদলীয় সরকারের উপনেতা। তাহলে প্রতি ৪/৫ বছরের মাথায় সরকার পরিবর্তন ইস্যুতে আর কোন বিশ্বজিেক দুঃসহ নিমর্মতার স্বীকার হতে হবে না। শামীম সুলতানা এলএল, এম অতীশ দিপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পান্থপথ, ঢাকা। ---- দুই নেত্রী একত্রে বসে সিদ্ধান্ত নিলেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব সরকারী দল এবং বিরোধী দলকে 'Parliament'-এ সবে কথা বলতে হবে কিন্তু 'Parliament' এর বাহিরে নয়। আমার মনে হয় দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে অরাজকতার সৃষ্টি না করে ‘তত্ত্বাবধায়কের’ অধীনেই এই নির্বাচনটা হওয়া উচিত। যদি ‘তত্ত্বাবধায়ক’ পরিবর্তন করতে চায় তার জন্য দুই নেত্রীকে পরবর্তীতে বসতে হবে এবং কোন ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি করবে কি ধরনের পদ্ধতি করতে চায়, তাদের মতামত প্রকাশ করবে। দুই নেত্রী বসে Decide করবেন কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন পরিচালনা করবে। কারণ জাতি আর নিরীহ বিশ্বজিেক হারাতে চায়না। জাতি আজ সঠিক নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছে। সংবিধান অনুযায়ী সেই তারিকে নির্বাচন হওয়ার কথা, যে তারিখেই হওয়া উচিত। কারণ সুযোগ পেলে সেনারা ক্ষমতা দখল করতে পারে। নেতাদের এই বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে নেতারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই সব মনে থাকে না এবং নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু নেতাকে ভুলে গেলে চলবে না “আপনি তো জনগণের প্রতিনিধি,জনগণ আপনাকে নেতা বানিয়েছে, দেশ ও জনগণের কাজ করার জন্য”। দেশের জন্য কাজ করে যান। আপনার আসন জনগণ অধিষ্ঠিত করবে। মো. জাহাঙ্গীর আলম আইন বিভাগ ৩য় বর্ষ ষ্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। --- অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা উত্তরণ সম্ভব জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম, পুঁজি বাজারে ব্যাপক দরপতন, পন্থা সেতু অর্থায়নে জটিলতা, সর্বপরি মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে নতুন বছরের যাত্রা শুরু হলেও বছরের প্রথম দিনের একটি পত্রিকার হেড লাইন বার বার মনে করিয়ে দেয় আন্দোলন ও নির্বাচনের বছর ২০১৩। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকার পরিবর্তন হবে এটাই সাংবিধানিক নিয়ম। আর জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আন্দোলন করাও প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের দেশে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর পর জাতিয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর একে অন্যের প্রতি পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের অভাবের কারণে বিগত কয়েকটি নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছিল। তা নিয়ে আবার পরাজিত প্রার্থীদের সমালোচনাও কম ছিল না। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচিত সরকারের অধীনে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই নিয়ে বিরোধীদল আন্দোলন, সংগ্রামের মত কর্মসূচি চলমান রেখেছে। পরিশেষে উইলবার এল ক্রসের একটি বাণী মনে পড়ে, স্বাধীন দেশের সরকারের একটি মাত্র উদ্দেশ্য থাকা উচিত তা হচ্ছে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে মানবতার কল্যাণ করা। তাই মানবতা বা দেশের কল্যাণে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা উত্তরণের জন্য সরকারকে সর্বপ্রথম এগিয়ে আশা উচিত বলে আমার মত আপামর জনসাধারণের বিশ্বাস। এম.কবির হোসেন সুজন এল এল বি (১ম বর্ষ) উত্তরা আইন কলেজ, উত্তরা, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন